1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘হিরোশিমা নাগাসাকির পর এতবড় বিপর্যয় আসে নি জাপানে’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতবড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি জাপান৷ মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর৷ দু’হাজার মৃতদেহ মিলেছে সোমবার৷ নতুন দুটি পারমাণবিক কেন্দ্রে বড়মাপের বিপর্যয়ের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে৷

default

বাড়ির মাথায় নৌকা! উত্তর জাপানের ওস্তুচিতে তোলা রবিবারের ছবি

হিরোশিমা নাগাসাকির পর এতবড় বিপর্যয় হয়নি

প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান এক টিভি ভাষণে স্বীকার করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা নাগাসাকিতে আণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে জাপান যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, গত সপ্তাহের সুনামি, ভূমিকম্প এবং তার ফলে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে তৈরি হওয়া বিপদ তার থেকে কিছু কম নয়৷ ফুকুশিমা দাইচির এক নম্বর চুল্লিতে শনিবার ঘটেছিল বিস্ফোরণ৷ তার থেকে তেজষ্ত্রিয়তা ছড়িয়েছে যে তাও বোঝা গেছে ইতিমধ্যে৷ নিকটবর্তী এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে অন্যত্র সরানো হয়েছে যে কারণে৷ আজ সোমবার ওই ফুকুশিমারই ৩ নম্বর চুল্লিতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছে জাপান সরকার৷ এছাড়া ওনাগাওয়া আর তোকাই নামের আরও দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা শোনা গেছে রবিবার৷ তার মধ্যে ওনাগাওয়াতে শুক্রবার থেকেই প্রচুর পরিমাণে তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে৷

Flash-Galerie Japan Erdbeben Tsunami

ফুকুশিমায় তেজষ্ক্রিয়তা রোধক পোষাক পরে উদ্ধারের কাজে নেমেছে সেনাবাহিনী৷

কীভাবে চলছে মোকাবিলা করার কাজ

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা আইএইএ-র নির্দেশ মেনে চলছে জাপান সরকার৷ সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ সমুদ্রের জলের সঙ্গে বোরন মিশিয়ে তা পারমাণবিক চুল্লিগুলিতে ঢোকানোর কাজ চলছে৷ যা চুল্লিগুলিকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করবে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই একমাত্র উপায়, যা কার্যকরী৷ বোরনের কাজ হল পারমাণবিক বিক্রিয়ার ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করে দেওয়া৷ যে ধারাবাহিকতা বা মেল্টডাউন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে সক্ষম৷ সেরকম হলে শুধু জাপান নয়, তেজষ্ক্রিয় গ্যাস এবং বাষ্প ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও৷ তাই আশু প্রয়োজন পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির কুলিং প্ল্যান্টগুলিকে চালু রাখা৷ কাজটা সবক্ষেত্রে এখনও সম্ভবপর হয়নি যে, তা স্বীকার করে নিয়েছে জাপান৷

নিখোঁজ হাজার হাজার

আরও দুই হাজার মৃতদেহ পাওয়া গেছে জাপানে৷ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ব্যবস্থা করার পাশপাশি ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজও চলছে জোরকদমে৷ নিখোঁজের মোট সংখ্যার কোন সঠিক পরিমাণ নেই৷ আশঙ্কা, নিহত ১০ হাজার ছাপিয়ে যাবে৷ ধ্বংসস্তুপ থেকে কিছু চাপা পড়া মানুষকে উদ্ধার করা গেছে রবিবারও৷ পাওয়া গেছে শত শত মৃতদেহ৷ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধারকারী দল এসে পৌঁছেছে৷ সাহায্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বহু দেশ৷ জাপানের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বলেছেন, অতীতেও বড়মাপের বহু বিপর্যয়ের মোকাবিলা করেছে জাপানিরা সাহসের সঙ্গে৷ এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা ধৈর্য আর সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসবেন বলেই তাঁর প্রত্যাশা৷ বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলি বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় আড়াই মিলিয়ন বাড়িঘরে পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই৷ এ অবস্থায় ব্যাপকহারে বিদ্যুৎ সঞ্চয় করতেও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়