1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হাসিনা, খালেদার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে প্রতিদিন মরছে মানুষ, পুড়ছে গাড়ি৷ সবাই চান সংলাপ হোক৷ খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনা ফিরে আসায় সংলাপের সম্ভাবনা কি কমে গেল? সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দু'পক্ষের আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে৷

গত শনিবার হৃদরোগে মারা গেছেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো৷ মুদ্রা পাচারের মামলায় ছয় বছর কারাদণ্ড হয়েছিল তাঁর৷ জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার আরাফাত ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন৷ তারপর আর দেশে ফিরেননি৷ প্রথমে ব্যাংককে গেলেও তারপর তিনি চলে যান মালয়েশিয়া৷ সেখানেই মৃত্যু বরণ করেছেন তিনি৷

ছোট ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শোকবিহ্বল৷ শনিবার সকালে তাঁকে সমবেদনা জানাতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ কিন্তু সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দরজা না খোলায় তিনি সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন৷ এ নিয়েও চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, তর্ক-বিতর্ক৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও লেগেছে তার ঢেউ৷ সামহয়্যার ইন ব্লগে রাফার লেখার শিরোনাম, ‘‘অবাক করা কাণ্ড, খালেদা জিয়া অচেতন থেকেও নির্দেশ দিতে পারেন!''

তাঁর ভাষায়, ‘‘কিছু সময় পর পর সাংবাদিকদের সামনে এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সামনে উপস্থিত হয়ে বিন-র পক্ষে কিছু মুখপাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছেন খালেদা জিয়ার নাম করে৷ আবার কিছু কিছু শরিক দলের নেতাও বর্তমানে তার অফিস কাম বাড়ি থেকে বের হয়ে এমনবে বলছেন যেন এই মাত্র খালেদা জিয়ার বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন তারা৷ তাদের অ্যাকটিভিটিজ দেখে মনে হয় এই মূহূর্তেই তারা কথা বলে আসলেন খালেদা জিয়ার সাথে৷ এবং তার কথার প্রতিধ্বনিই উচ্চারণ করছেন তারা৷ তাহলে উনি অসুস্থ থাকেন কিভাবে?....অসুস্থ ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে ঘরে খিল দিয়েছেন কারো সাথে কোনো কথা বলছেন না৷ তাহলে সব কিছুতেই তাঁর উপস্থিতিটা কোথা থেকে...?''

Bangladesch Khaleda Zia vor dem Gericht in Dhaka

খালেদা জিয়ার নামে সব কাজ কি লন্ডন থেকে করা হচ্ছে?

রাফা মনে করেন খালেদা জিয়া কিছুই করছেন না, তাঁর হয়ে সব সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তারেক রহমান, ‘‘যদি আমরা এখন মনে করি, খালেদা জিয়ার নামে সকল ওহি নাজেল হইতেছে লন্ডন থেকে৷ এতে কি আমাদেরকে খুব দোষ দেওয়া যায়? কারণ যে রকম কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দেওয়া হচ্ছে না –এটুকু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার৷ যেভাবে কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দেওয়া হইতেছে, তা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমেই দেওয়া হইতেছে৷ একমাত্র বিলাসবহুল এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে থেকেই এই কর্মসূচিগুলো অনুমোদন করা সম্ভব৷''

সামহয়্যারইন ব্লগে সামছুল কবির মিলাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা সম্পর্কে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘শোক জ্ঞাপন, নাকি গুলশান ভ্রমণ?''

তিনি লিখেছেন, ‘‘গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডের আলোচ্য বাড়িটিতে প্রধানমন্ত্রী না ঢুকেই ফেরত আসেন৷ এরপর থেকে দেশের বিশিষ্টজনেরা টকশোসহ নানা মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন৷ শেখ হাসিনাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে খালেদা জিয়া নাকি অন্যায় করেছেন৷ অন্যদিকে বিএনপির তরফ থেকে বলা হয়েছে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, শোকাহত বেগম খালেদা জিয়াকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে৷ এ সব অবহিত হওয়ার পরও রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে গিয়ে ফেরত আসেন৷ তিন সপ্তাহ আগে যে বাড়ির গেটে খালেদা জিয়ার দিকে ছোড়া হয় পেপার স্প্রে, সেই গেট থেকে ফিরে গেছেন বর্তমান সরকারপ্রধান...৷''

নিজেকে একজন সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে তুলে ধরে সামছুল কবির মিলাদ তারপর লিখেছেন, ‘‘১৬ বছর ভিভিআইপি ডিউটি করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাজারো প্রোগ্রাম করতে হয়েছে৷ প্রটোকল অফিসার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করেছি ৫ বছর, আর শেষের ৫ বছর প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও প্রোগ্রাম দিতে হয়েছে৷

Sheikh Hasina

‘সত্যি সত্যিই কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে গুলশানে গিয়েছিলেন?’

এ নিয়ে প্রতি কর্মদিবসেই এসএসএফ-এর সাথে নিরাপত্তা মিটিং করতে হতো৷ একটা প্রোগ্রাম ঠিক হলে সেটা জানার জন্য এসএসএফ-এর সিনিয়র অফিসাররা সর্বদা ব্যতিব্যস্ত করে রাখত৷ উদ্দেশ্য একটাই – প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আয়োজনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা৷ প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন সেটা অফিস হোক, বাড়ি হোক, জনসভাস্থল, বিমান বা যা-ই হোক না কেন, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এসএসএফ-এর৷ বাইরের নিরাপত্তার আয়োজন আরো ব্যাপক হলেও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফ কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা আগে ভেন্যুর গেট থেকে শুরু করে সকল রুমের চাবি গ্রহণ করে পুরো এলাকার নিরাপত্তা পরীক্ষা করে ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে আনা হয়৷ এসএসএফ নিরাপত্তা বই রেডবুক অনুযায়ী নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত না হলে তারা প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখেন৷''

এ অবস্থায় সামহয়্যারইন-এর ব্লগারের প্রশ্ন, ‘‘সত্যি সত্যিই কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে গুলশানে গিয়েছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব যদি ‘হ্যাঁ' হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফ অবশ্যই গুলশানে আগে গিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ির গেইটের চাবি ও ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন৷ নিরাপদ করা হয়নি এমন কোনো জায়গায় নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীকে এসএসএফ নিয়ে যায়নি৷ সেক্ষেত্রে ৮৬ নম্বর রোডের ওই বাড়ির গেট খোলা বা বাড়িতে ঢোকার সকল দায়িত্ব ছিল এসএসএফ-এর৷ কোনো অবস্থাতেই বিএনপির লোকজন প্রধানমন্ত্রীকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করা থেকে বিরত করতে পারেন না৷ আর প্রশ্নের উত্তর যদি ‘না' হয়, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী কোনো শোক জানাতে যাননি, কেবল ঘুরে আসার জন্য গিয়েছেন, তাহলে তো আর কোনো কথাই থাকে না৷ কোনো বাড়ির চাবি এসএসএফ-এর কাছে নাই, নিরাপত্তা ক্লিয়ার না করে প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যাবে এসএসএফ, তাও বিপক্ষ দলের প্রধান অফিসে, এটা বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ আছে কি? এমন কল্পনা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়৷''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়