1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমে সেবা শুশ্রূষায় অভিবাসীদের কদর

জার্মানির হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমগুলিতে অনেক অভিবাসীও আছেন, যাঁরা জার্মান ভাষায় তেমন কথাবার্তা বলতে পারেন না৷ তাঁদের সুবিধা অসুবিধার কথা বোঝাতে পারেন না৷ ফলে সেবক ও নার্সদের পক্ষে তাঁদের জন্য কাজ করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে৷

জার্মানদের তুলনায় অভিবাসী রোগীদের ভাষা, চাহিদা, চিন্তাধারা, ইচ্ছা অনিচ্ছায় বেশ পার্থক্য রয়েছে৷ তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা ও মনোভাব বোঝার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও সেবক৷

অন্যদিকে, তরুণ অভিবাসী ও শরণার্থীদের অনেকেই বেকার৷ জার্মানিতে তাদের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ বা চাকরি-বাকরি পেতে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়৷ বাধ্য হয়েই নিজের দেশ ছাড়তে হয়েছে অনেক তরুণ-তরুণীকে৷ যাদেরকে অনায়াসে কাজে লাগানো যায়৷

Der Afghane Najib Jakobi macht im Rahmen seiner Ausbildung ein Praktikum in der interkulturellen Tagespflege-Einrichtung in Berlin-Moabit. Beim Gedächtnistraining gibt er den türkischen Senioren Übersetzungsaufgaben. Bilder für den Beitrag Berufsfachschule Paulo Freire bildet Migranten zu Sozialassistenten aus für Studi-DW Die Bilder sind von Bianca Schröder am 24.4.2013 in Berlin aufgenommen.

আফগানিস্তান থেকে আসা ২৫ বছর বয়সি নাজিব জ্যাকবি একটি স্কুলে সোশ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন

এইসব দিক বিবেচনা করেই বার্লিনে একটি ‘সার্ভাইভার সেন্টার' গড়ে তোলা হয়েছে৷ অনেকগুলি সাহায্য ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত এক সঙ্ঘ এটি৷ এই সঙ্ঘের উদ্যোগে বছর খানেক ধরে পাউলো ফ্রেয়ার নামে একটি পেশামূলক স্কুল চলছে, যেটি তরুণ অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহকারী সমাজকর্মী বা সোশ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট ও নার্স বা সেবক হিসাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে৷

নাজিব জ্যাকবির অভিজ্ঞতা

আফগানিস্তান থেকে আসা ২৫ বছর বয়সি নাজিব জ্যাকবি এই স্কুলে সোশ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ ১৪ বছর বয়সে পরিবার পরিজন ছাড়াই একাই জার্মানিতে পাড়ি দিয়েছেন নাজিব৷ অনেক বছর অপেক্ষার পর জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি পেয়েছেন এই তরুণ৷ আর তাই এই প্রশিক্ষণ নেওয়া৷ নাজিব প্রবীণদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন৷ বার্লিন শহরের একটি অঞ্চল মোয়াবিট-এ প্রবীণ তুর্কি অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করতে এসে তুর্কি ভাষাটাও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে তাঁকে৷ মাতৃভাষা উসবেকের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকলেও তুর্কি তো তাঁর কাছে বিদেশি ভাষাই৷ কর্মসূচিতে রয়েছে জার্মান পশু পাখির নাম তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করা৷ এজন্য নাজিবকে অভিধান দেখে প্রস্তুতি নিতে হয়৷ এই প্রসঙ্গে নাজিব জানান, ‘‘আমি নানির কাছে বড় হয়েছি৷ তিনি আমার দেখাশোনা করেছেন৷ তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি অপার স্নেহ৷ এছাড়া আমি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসি৷ যাদের সঙ্গে কথা বলতে পারব, প্রশ্ন করলে উত্তর পাব৷ কম্পিউটারের সামনে বসে মুখ বন্ধ করে কাজ করা আমার পছন্দ নয়৷''

সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়

পাউলো ফ্রেয়ার স্কুলের সার্টিফিকেটকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়৷ ছাত্রছাত্রীরা দুই বছর প্রশিক্ষণের পর সোশ্যাল অ্যাসিসটেন্ট হিসাবে কাজ করতে পারেন৷ অথবা আরো দুই বছরের কোর্স করার পর নার্সিং পরীক্ষা দিতে পারেন৷ এই দুই ধরনের পেশাতেই কর্মীর টানাটানি রয়েছে জার্মানিতে৷ জানান, স্কুলের প্রধান মার্কো হান৷

বর্তমানে ১৭ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৪৫ জন ছাত্রছাত্রী পেশাগত স্কুলের পড়াশোনা করছেন৷ এদের অধিকাংশই তুর্কি, কুর্দি কিংবা আরব বংশোদ্ভূত৷ বাকিরা কেনিয়া, ক্যামারুন কিংবা ব্রাজিল থেকে এসেছেন৷ তাঁরা রোগী ও বৃদ্ধদের সেবা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারেন স্কুলে৷ পাশাপাশি জার্মান ভাষা ও সংগীতও শেখানো হয় সেখানে৷ ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে নানা রকম মানসিক চাপ ও অশান্তিতে ভোগেন৷ এছাড়া রয়েছে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি নিয়েও নানা সমস্যা৷ তাই তাদের বিভিন্ন পরামর্শ কেন্দ্রে পাঠানো হয়৷ সেখানে তাঁরা বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীদের সাহায্য পেয়ে থাকেন৷

বর্ণবৈষম্যের মোকাবেলা

পাউলো ফ্রেয়ার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বৃদ্ধাশ্রমগুলিতে হাতেকলমে কাজ শিখতে যান৷ সাধারণত তাদের উপস্থিতি ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়৷ তবে কিছু কিছু ব্যতিক্রমও ঘটে থাকে৷


মার্কো হান জানান, ‘‘ডিমেনশিয়ায় ভোগা অনেক প্রবীণ ব্যক্তি আফ্রিকান কোনো ছাত্র বা ছাত্রী কাছে এলে রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করেন৷ তাই আমরা ছাত্রছাত্রীদের বর্ণবৈষম্যকে মোকাবেলা করার ট্রেনিংও দিয়ে থাকি৷ নিজেদের ছোট চোখে না দেখে তাদের বলতে হবে আমি ভালো কিছু শিখেছি৷ আমিও জার্মান সহকর্মীদের মতো রোগীদের পাশে থাকতে চাই৷ এই দেশে বসবাস করার অধিকার আছে আমার৷ এটা আমারও দেশ৷''

পেশাগত স্কুলের অর্ধেকেরও বেশি ছাত্রছাত্রী সেবক বা নার্সের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন৷ অন্যরা সোশ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে কাজ শুরু করতে চান৷ প্রবীণদের ডে কেয়ারে কাজ করে নাজিব জ্যাকোবির খুব ভালো লেগেছে৷ তাই তিনি এই ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানে বর্ষিয়াণ অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী৷ নাজিবের ভাষায়, ‘‘এই ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানে একজন পুরুষ কাজ করলে খুব ভালো হয়৷ কেননা এখানকার অনেক পুরুষ বাসিন্দা একজন পুরুষ সেবকের কাছ থেকেই সেবা শুশ্রুষা পেতে চান৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন