1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সংগীতধারা মাকাম

এই কথা বলেই আফসোস করলেন তাহা ঘারিব৷ কয়েকদশক ধরে তিনি নিজে এই সংগীতেরই চর্চা করে আসছেন৷ কিন্তু এবার এই সংগীতের এক অনুষ্ঠানে ঘরের অর্ধেকই ছিল খালি৷

default

ইরাকে সংগীতচর্চা খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে (ফাইল ফটো)

মারা যাচ্ছে ইরাকের ঐতিহ্যবাহী সংগীত মাকাম৷ অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরে ইরাকের নবজন্মের প্রতীক হিসেবেই এই গান গাওয়া হতো৷ কিন্তু এখন ইরাকে ক্রমবর্ধমান আধুনিকতা এবং বহু বছরের সহিংসতার চাপে খুব কম মানুষ এবং খুব অল্প সংখ্যক গোষ্ঠীই এই গান গেয়ে থাকে৷ মাকাম আঙ্গিকের গান গাওয়ার মাত্র পাঁচটি দলের মধ্যে একটির নেতৃত্ব দেন ঘারিব৷ তিনি বললেন, ‘‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে হারিয়ে যাবার ঝুঁকি রয়েছে ইরাকি মাকামের৷'' আলিয়াহ ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের পরে ৪৬ বছর বয়স্ক এই শিল্পী বলেন, মানুষ মাকামকে আর শ্রদ্ধা করে না, যারা শুধু চিৎকার করে, সেইসব গায়কদেরই পছন্দ করে মানুষ৷

মাকামর সঙ্গে বাদকদল প্রাচীন বীণা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র জোজা, তবলা এবং সান্তুর বাজায়৷ প্রায়ই দেখা যায়, সঙ্গত করছে আরো কিছু যন্ত্র৷ তারই মাঝে শোনা যায় গায়কের কন্ঠে বহু শতাব্দীর প্রাচীন গীত৷

পেছন ফিরে তাকালে বলতে হয়, আব্বাসিড যুগের শেষের দিকে ৮ থেকে ১৩ শতকের মধ্যে মাকাম ইরাকের সংস্কৃতির এক বিশেষ জায়গা দখল করে ছিল৷ ইরাকের ঐতিহ্যবাহী সংগীতধারার বিশেষজ্ঞ শেহেরাজাদে হাসান৷ তিনি বলেন, ‘‘কুড়ি শতকে মাকাম ছিল বাগদাদের সাংস্কৃতিক জীবনের এক স্তম্ভ৷'' তিনি বলেন, যারা মাকামের চর্চা করতেন এবং যারা মাকাম নিয়ে পড়ালেখা করেছেন, তাদের মাধ্যমে এর এক বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছিল৷

মাকাম সংগীতের চর্চা যে অনেক কমে এসেছে তার পেছনে দুটি বিষয় কাজ করেছে৷ তার একটি হচ্ছে, ইরাকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান এবং তাদের কারণে আরব পপসহ বিভিন্ন ধরণের গানের বিস্তার৷ আর দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে সাদ্দাম হোসেনকে উচ্ছেদের জন্যে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান৷ যার ফলে লাখ লাখ মানুষ ইরাক ছেড়ে চলে গেছেন৷ মাকাম শিল্পীরাও বাদ পড়েননি৷ আরেকটি ব্যাপারও রয়েছে, সেটি হচ্ছে - এই বিশেষ ঘরানার ইরাকি সংগীতের অনুষ্ঠান হতো যেসব জায়গায়, ব্যাপক সহিংসতার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক