1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌হারানো মেয়েদের খোঁজে

কলকাতা চিরকালই দেওয়াল লিখনের শহর৷ তার বুকেই ফুটে উঠল এক নতুন দেওয়ালচিত্র, যে শিল্প সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ৷

কলকাতা জুড়ে এখন চলছে ফ্লাইওভার আর মেট্রো রেলের নতুন যাত্রাপথ গড়ার কাজ৷ রাস্তার ধার ঘেঁষে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াচ্ছে অতিকায় কংক্রিটের থাম, যার ওপর তৈরি হচ্ছে নতুন পথ৷ সেই থামের গায়ে বছরখানেক ধরেই দেখা যাচ্ছিল কালো স্টেনসিলে আঁকা ছবিগুলো৷ অবয়বে স্পষ্ট, সেগুলি কোনো মেয়ের ছবি৷ আর তার নীচে লেখা – ‘‌মিসিং গার্লস'‌৷ অনেকেই বোঝেননি, জিনিসটা ঠিক কী৷ যদিও যে ধারাবাহিকতায় শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটে উঠছিল এই হারানো মেয়ের ছবি, তাতে একটা বিষয় বোঝা যাচ্ছিল যে, এটা নিছক কোনো খামখেয়ালি আঁকা নয়, এমনকি কোনো বিজ্ঞাপনী টিজারও নয়৷ এই দেওয়ালচিত্রের বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য আছে৷

গত সপ্তাহান্তে মূল বিষয়টি অবশেষে স্পষ্ট হলো, যখন কলকাতার জার্মান কনসুলেটের বিরাট দেওয়াল ভরে উঠল একইরকম মুখহীন, নামহীন মেয়েদের সাদা-কালো অবয়বে৷ দুই শিল্পী, আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী লীনা কেজরিওয়াল এবং বেঙ্গালুরুর ডিজাইনার আমঘ লাক্স এক শিল্প কর্মসূচি নিয়েছিলেন প্রতি বছর ভারত থেকে হারিয়ে যাওয়া অজস্র মেয়েদের দিকে মানুষের নজর টানতে৷

এই হারানো মেয়েদের অনেকেই পাচার হয়ে যান দেশের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে৷ তাদের বাকি জীবন কাটে যৌনকর্মীর পেশায়৷ শিল্পীরা বলছেন, এটা ‘‌আর্ট ফর আ কজ'‌৷

জীবন এবং সমাজের প্রতি শিল্পীর দায়বদ্ধতার একটি প্রকাশ, যে কাজে তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল কলকাতার জার্মান কনসুলেট৷ কারণ মহিলাদের সুরক্ষা এবং তাঁদের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি জার্মান সরকারেরও ঘোষিত নীতিগুলির অন্যতম৷ জীবনের নানা ক্ষেত্রে মেয়েদের স্বার্থ সুরক্ষা, তাঁদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগকে এভাবেই মদত দেয় জার্মান সরকার৷ সেই কারণেই লীনা কেজরিওয়াল এবং আমঘ লাক্স, এই দুই শিল্পীর পাশে থাকা৷ এঁদের দু’জনের বছরভরের ওই উদ্দেশ্যমূলক শিল্প-প্রচেষ্টার পরিসমাপ্তি ঘটল বলা চলে, তবে হারানো মেয়েদের জন্যে উদ্বেগ অবশ্যই শেষ হলো না৷

জার্মান কনসুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

দেওয়াল রং করতে হাত লাগিয়েছেন জার্মান কনসুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও...

ভারতের জাতীয় অপরাধ তথ্য-পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩০ লক্ষ যৌনকর্মী আছেন, যাঁদের প্রায় ১২ লক্ষই কমবয়সি মেয়ে৷ অনেকক্ষেত্রেই এই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোর করে নিয়ে আসা হয় পৃথিবীর এই আদিমতম পেশায়, যা এখনও নীচু চোখে দেখে সমাজ৷ এই মেয়েরা হঠাৎই একদিন তাদের বাড়ি থেকে স্রেফ ‘‌হারিয়ে যায়'‌!‌ সমাজ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় যৌনপল্লীতে৷ পরিসংখ্যান বলছে, এই হারিয়ে যাওয়ার হার সাম্প্রতিক কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে৷ ‘‌মিসিং গার্লস'‌ শীর্ষক শিল্পভাবনা সেই সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই৷ ওই মেয়েদের দুঃখ-দুর্দশার দিকে লোকের নজর ফেরাতে৷ একই সঙ্গে শিল্পীরা ডাক দিয়েছেন সচেতন হতে৷ নারী পাচার রুখতে সক্রিয় হতে, ব্যবস্থা নিতে৷ ওঁরা জানিয়েছেন, ওঁদের এই ‘‌মিসিং গার্লস'‌ শিল্প কর্মসূচি আজকে এক আন্তর্জাতিক আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে, যাতে সামিল কলকাতাও৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়