1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হামলা সত্ত্বেও বাড়ছে বাউলের জনপ্রিয়তা

আগস্ট মাসের ঘটনা৷ বাংলাদেশের একটি গ্রামের মুসলমান অধিবাসীরা একদল বাউলকে ধরে তাঁদের চুল ও দাঁড়ি কেটে দেয় এবং তাঁদের নামাজ পড়তে বাধ্য করে৷ স্থানীয় এক জাতীয় দৈনিকে খবরটি প্রকাশিত হয়৷

এবার আরেকটি ঘটনা৷ নভেম্বর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়৷ তদন্তকারীরা হত্যার কারণ উদঘাটনে কাজ করছেন৷ তবে অধ্যাপকের ছেলে ও সহকর্মীদের ধারণা বাউল সাধনা করার কারণেই হয়ত তাঁকে খুন করা হয়েছে৷ নিহত এই অধ্যাপক বাউল দর্শন নিয়ে সাপ্তাহিক আলোচনায় নিয়মিত অংশ নিতেন৷ এছাড়া তিনি ক্যাম্পাসে মুখ ঢাকা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে জানা যায়৷

দুটো ঘটনারই শিকার বাউল সমাজ৷ এর পরও বাউল দর্শনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে দাবি বাউল সমাজের নেতাদের৷ ৩৫ বছরের মোহাম্মদ আয়নুদ্দীন, যিনি নিজেকে একজন বাউল অনুরাগী মনে করেন, তিনি এএফপিকে বলেন, ‘‘হামলা ও প্রতিদিনকার হয়রানির পরও বেশি বেশি লোক বাউল দর্শনের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন৷''

Baul Festival Bangladesch

বাউল দর্শনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে

সপ্তদশ শতকে আবির্ভাব হওয়া বাউল দর্শনকে জনপ্রিয় করেন লালন শাহ৷ ধর্মীয় সহনশীলতার কথা সমৃদ্ধ তাঁর গানগুলো অনেক কবি ও গুনিজনের জন্য ছিল উৎসাহমূলক৷ হিন্দুবাদ ও সুফিবাদের মিশ্রণ বাউল দর্শনের মূল কথা হলো মানবতা৷

নতুন বাউলের কথা

৭০ বছর বয়সি দম্পতি আফতাব ও সালেহা৷ সম্প্রতি লালনের মাজারে তাঁদের দেখা পান এএফপি-র সাংবাদিক৷ ঢাকায় এই দম্পতি ভালো একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন৷ সেটার দায়িত্ব সন্তানদের কাছে দিয়ে দু'জনে বাউল হয়ে গেছেন৷ শেষ বয়সটা তাঁরা সারা দেশ ঘুরে গান গেয়ে বেড়াতে চান৷

সাত বছর আগে বাউল হন বানাত আলী ফকির৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন থেকে তাঁদের ধর্ম হবে মানবতা৷ তাঁরা মুসলমান, হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টান হবেন না৷''

লালন শাহ মাজারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আলী ফকির বলেন, ‘‘আগে মাত্র কয়েকশ মানুষ মাজারে আসতো৷ কিন্তু এখন সংখ্যাটা প্রতিদিন বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে দুই থেকে পাঁচ হাজারে৷ বাউলরা মানবতার কথা বলে৷ মানুষ আর জাতের মধ্যে কোনো বিভাজন করে না৷''

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়