1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

হামবুর্গের চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের লুকোচুরি

দর্শক হিসেবে চিড়িয়াখানার অনেক কিছুই সহজে চোখে পড়ে না৷ কিন্তু কর্মী ও কর্মকর্তারা পশুপাখিদের অনেক প্রতারণা ও তাদের ছদ্মবেশ ধরতে পারেন৷ জার্মানির হামবুর্গ শহরের চিড়িয়াখানাও এর ব্যতিক্রম নয়৷

হাগেনবেক চিড়িয়াখানার ট্রপিকাল জগতের সর্বেসর্বা হলেন ড. গিডো ভেস্টহফ৷ তাঁর হেফাজতে এমন সব প্রাণী রয়েছে, যারা ধোঁকা দিতে ওস্তাদ৷ অর্থাৎ তারা যা নয়, সেই রূপ ধারণ করতে পারে৷ তাদের অনেকে এমন ভাব করে, যেন কিছুই জানে না৷ যেমন পাথরের মতো দেখতে ‘মাতা মাতা' প্রজাতির কচ্ছপ৷ কোণে যা শেওলা মনে হচ্ছে, তা আসলে ভিয়েতনামের এক ব্যাং৷ তাই সাফাইয়ের সময় সাবধান থাকতে হয়৷ তা না হলে প্রাণীটির ক্ষতি হতে পারে৷ ড. ভেস্টহফ বলেন, ‘‘অবশ্যই! কিন্তু তারা না নাড়াচাড়া করলে৷ সেটাই তো ক্যামোফ্লাজ বা ছদ্মবেশের আসল চরিত্র৷ দেখতে গাছের শুকনা ডালপাতার মতো৷ তাই পাতাখেকো প্রাণীরাও আগ্রহ দেখাবে না৷ তারা স্থির হয়ে বসে শিকারের অপেক্ষায় থাকে৷ পাশ দিয়ে গেলে ধরে খেয়ে ফেলবে৷''

অ্যামাজন এলাকার প্লান্টহপার পোকাও একই কায়দা করে৷ সে নিজেকে তার পরিবেশের নকল করে ছদ্মবেশ ধারণ করে৷ ফলে তাদের দেখেও আলাদা করে চেনা যায় না৷ এক প্রজাতির নিরীহ শুঁয়োপোকা শত্রু দেখলেই সতর্ক হয়ে পড়ে৷ ক্রুদ্ধ চোখ রাঙিয়ে বুঝিয়ে দেয় সে বড় বিপজ্জনক৷ কি স্নেক সাপও ভোল বদলাতে ওস্তাদ৷ দেখতে কোরাল স্নেকের মতো, রং দেখিয়ে সে সবাইকে সাবধান করে দেয়৷ ড. গিডো ভেস্টহফ বলেন, ‘‘অন্য প্রাণীরা তাকে দেখে ভাবে, ছদ্মবেশের প্রয়োজন নেই? মানে কোথাও একটা গোলমাল রয়েছে৷ এই সাপের আসলে বিষ নেই, কামড়ালে শুধু একটু রক্ত বেরোতে পারে৷''

শুধু দেখতেই সাংঘাতিক৷ কিছু প্রাণী তাদের আচরণের মাধ্যমেও ফাঁকি দেয়৷ যেমন লেজ ঝোলা পাখি৷ মিলনের সময় যখন মাদি পাখি বাসা ছেড়ে উড়ে গেলে পুরুষ পাখি এমন চিৎকার জুড়ে দেয়, যেন শত্রু এসেছে৷ তারপর সে মাদি পাখিকে ধরে বাসায় ফিরিয়ে আনে৷ সঙ্গিনীকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখে৷

হাগেনবেক চিড়িয়াখানায় বেবুনদের টিলায় বসে টোবিয়াস টারাবা প্রাণীদের ইচ্ছাকৃত প্রতারণা পর্যবেক্ষণ করেন৷ সেখানে ৬ পুরুষ বেবুন তাদের হারেম ও বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করে৷ ছোটরা একটা কৌশল শিখে গেছে৷ অন্য দলের কোনো বেবুনকে সুস্বাদু খাবার খেতে দেখলে তারা আক্রান্ত হবার ভান করে৷ তারপর দলের সর্দারকে ডেকে আনে৷ তাদের ডাক শুনলে মনে হয় তারা বলছে, ‘‘দেখো না বাবা, কী করছে! এমন আর্তনাদ করে তারা৷''

বাবা এসে অন্য বেবুনকে তাড়িয়ে দেয়৷ তখন বাচ্চাটা ফেলে যাওয়া খাবার দখল করে৷ তবে বেবুনের থেকেও ওরাং ওটাং বেশি বুদ্ধিমান৷ চিড়িয়াখানায় তাদের কীর্তিকলাপের অনেক কাহিনি রয়েছে৷ কখনো তারা চাবি চুরি করে মুখে পুরে দেয়৷ পালানোর সুযোগ পেলে সেই চাবির সদ্ব্যবহার করে৷ কেউ না তাকালে চিড়িয়াখানার একটি ওরাং ওটাং চুরির কাজে ওস্তাদ৷ টিনের আড়ালে রাখা ফলের তাল কষ্ট করে বার করার বদলে দলের সর্দার টুয়ান সেটি ভেঙে ফেলেছে৷ স্ক্রু ছিল না দেখেই সে এই কাজে নেমে পড়েছিল৷ সে চোরেদের রাজা, তবে অপরাধ স্বীকারও করে৷

ক্রিস্টিনে সাইডেমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়