1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

হাতে তৈরি ‘জার্মান টফি' তাক লাগিয়ে দিচ্ছে

ইউরোপও কিন্তু মিষ্টি খাওয়াতে কিছু কম যায় না৷ কেক, চকলেট, আইসক্রিম, আর হরেকরকম লজেন্স – বাচ্চারা তো বটেই, বড়দেরও জিভে জল চলে আসবে পোল্যান্ড-এ ডানসিশ-এর এক ‘টফি' তৈরির কারখানা দেখে৷

ফলের নির্যাস থেকে তৈরি টফিগুলো দেখতে ফল, ফুল কিংবা পশুপাখির মত৷ পোল্যান্ডে এক জার্মানের হাতে তৈরি টফিগুলি৷

ডানসিশ শহরের পুরানো অংশে ফ্লোরিয়ান বেলগার্ড-এর কারখানাটি অবস্থিত৷ এখানে তাঁর ক্রেতারা দেখতে পান, কীভাবে রংহীন চিনির মণ্ড থেকে রঙিন টফি তৈরি হচ্ছে৷ আট বছর আগে প্রেমিকার কাছে থাকার জন্য কোলোন থেকে ডানসিশ-এ এসে থিতু হন তিনি৷ মিষ্টি পছন্দ করেন ফ্লোরিয়ান৷ তাই মিষ্টিই হয়ে উঠেছে তাঁর নতুন পেশা৷ তিনি বললেন, ‘‘বাজার থেকে কিনেও টফি বিক্রি করা যায়৷ কিন্তু তার চেয়ে হাতে বানিয়ে টফি বিক্রি করলে বাচ্চাদের চোখগুলি যেন চকচক করে বেশি৷ এখানে চিনির মণ্ড থেকে ছোট ছোট জিনিস বানানোর সময় বাচ্চারা যে ভাবে তাকিয়ে দেখে, তা সত্যি আনন্দ দেয়৷''

আসল জিনিসটা হলো চিনির মণ্ড৷ গরম করা হয় ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপে৷ কয়েকটি পরতে ভাগ করে একটির সঙ্গে আরেকটি পেঁচিয়ে দেওয়া হয়৷ ধীরে ধীরে প্রায় দশ কিলো ওজনের বিশাল টফি তৈরি হয়৷ এক ঘণ্টা সময় লাগে৷ স্বাদ ফলের মত৷ বেশ কঠিন কাজ৷ তারপর সেগুলি টুকরো-টুকরো করে তৈরি হয় ছোট টফি৷ ফ্লোরিয়ান বললেন, ‘‘আমি এখানে চিনির পিণ্ডটা টেনেটুনে লম্বা করছি৷ এর ফলে বাতাস ঢোকে এতে৷ এই বাতাসের কারণে চিনির মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে৷ এটিকে সাদা মনে হয়৷ অন্যরকমভাবে আলো ঢোকে বলেই এইরকম দেখা যায়৷ এছাড়া টানাটানি করার ফলে চিনির মণ্ডটি সুস্বাদু হয়ে ওঠে৷ ছোট ছোট বাতাসের খোপ তৈরি হয় বলে সুবাস ছড়িয়ে যায় তাতে৷''

Gebrannte Mandeln

মিষ্টির মজাই আলাদা!

নানা স্বাদ ও রঙের টফিগুলি ছোট-বড় সবাইকে আকৃষ্ট করে৷ ইদানীং ব্যবসাটি এতই ফুলেফেঁপে উঠেছে যে, ফ্লোরিয়ান বেলগার্ড পোল্যান্ডে চতুর্থ আরেকটি দোকান খুলেছেন৷ একই সঙ্গে টফি তৈরি ও তা চেখে দেখার সুযোগ – এই আইডিয়াটা দারুণ চলছে৷ নানারকম জিনিস ও অক্ষর তৈরি করা এবং পুরো শব্দটা একটি টফির মধ্যেই বসানো, এ এক উঁচু দরের শিল্পকলা৷

এক জায়গায় ইংরিজি অক্ষর ‘এ' তৈরি হচ্ছে৷ প্রতিটি চিনির ফিতা থেকে একটি করে অক্ষর৷ ফ্লোরিয়ান বললেন, ‘‘আমি একজন শিল্পী, আসলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাপিত৷ আমি স্বাভাবিকভাবেই ফলাফল দেখতে চাই৷ যন্ত্রপাতি দিয়ে করার চেয়ে হাতে কাজ করা ভালো৷ কিছু টফি প্রস্তুতকারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করেন, সুইচ টিপেই খালাস৷ আমরা হাতের কাজ করি বলে আমাদের কাজে কিছুটা রোমাঞ্চও থাকে৷ যেমন বলা যায় না, কোনো অক্ষর বা জিনিস অদল-বদল হয়ে গেল না তো? স্ট্রবেরি ঠিক সেরকমই দেখতে হয়েছে তো? নাকি শেষমেশ এইগুলি রাস্পবেরি বলে বিক্রি করতে হবে?''

এই কলাকৌশল সপ্তদশ শতাব্দী থেকে চলে আসছে৷ ২০১২ সাল থেকে ফ্লোরিয়ান ‘জার্মান টফি' তৈরি করছেন৷ গতবারের ইউরোপীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সময় লোকে লুফে নিয়েছে তা৷ এখনও ডানসিশ বেড়াতে এলে জার্মান পর্যটকরা এই টফি কিনতে পছন্দ করেন৷ ফ্লোরিয়ান বললেন, ‘‘আমরা ১৬০ ডিগ্রি তাপে কাজটা শুরু করি৷ এই যে এখানে আমি ভাঙলাম৷ দেখা যাচ্ছে জার্মানির পতাকার রঙ, শব্দটা ঠিক কিনা?''

প্রতিদিন এখানে নানা ধরনের রঙ ও স্বাদের টফি প্রস্তুত হয়৷ কল্পনার কোনো সীমা নেই৷ কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছা মত টফি ডিজাইন করে ফ্লোরিয়ানকে দিয়ে তা তৈরি করাতে পারেন৷ এতে পাওয়া যাবে ডানসিশ থেকে আনা একেবারে নিজস্ব এক স্যুভেনির৷

আরবি / এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়