1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

হাতে তৈরি কাগজের বাতির আকর্ষণ

আকারে-আয়তনে সহজ-সরল হলে কী হবে, এমন বাতি সত্যি নজর কাড়ার মতো৷ বার্লিনের রিও গ্রান্দে রেস্তোরাঁর শোভা বাড়াচ্ছে কাটরিন গ্রিগুল-এর তৈরি বাতি৷

চার-দেয়ালের মধ্যে পরিবেশ একেবারে বদলে দিতে চান ডিজাইনার কাটরিন গ্রিগুল৷ প্রায় ১৭ বছর ধরে বার্লিনে নিজের স্টুডিওতে অভিনব বাতি তৈরি করেন তিনি৷ তবে আগে থেকে অর্ডার দিতে হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘দেখুন, আমার মনে হয়, বাতির আকার জটিল হলে চলবে না৷ আমাদের চারিপাশের জগত এমনিতেই নানা রং ও জটিল আকারে ভরা, যা আমাদের বেশ অস্থির করে তোলে৷ তাই আমি এমন সহজ, সরল আকার দিতে চাই, যা মানুষের মনে শান্তি এনে দেবে৷''

কাটরিন গ্রিগুল তাঁর রকমারি বাতির মডেলের নানা নাম রেখেছেন৷ ৪০০ ওয়াটের বাল্ব লাগালেও বাতির কোনো ক্ষতি হয় না, রংও ফিকে হয়ে যায় না৷ প্রতিটি বাতিই অভিনব, তাতে হাতে তৈরি কাগজ ব্যবহার করা হয়৷ দাম ৭০ থেকে ৫,০০০ ইউরো পর্যন্ত৷ ছাতার মতো মেলে ধরা এই সব বাতির পিছনে কোনো না কোনো ভাবনা রয়েছে৷ গ্রিগুল বললেন, ‘‘এই মডেলের নাম ‘পেপলন ৩'৷ শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও শব্দটা জার্মান ভাষার অভিধানেই রয়েছে, যার অর্থ একাধিক বেল্ট দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা এক গ্রিক নারী৷ আবার বাতিটিকে জলপ্রপাতও বলা হয়, কারণ বিশেষ ভাঁজের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় জলপ্রপাতের সাথে এর মিল রয়েছে৷''

কাটরিন গ্রিগুল হাতে তৈরি কাগজ নিয়ে কাজ করেন৷ যেমন বিশেষ ধরনের এই কাগজ এসেছে হিমালয় থেকে৷ জাপানে তৈরি এই কাগজের ভিতরে সুতো বোনা রয়েছে৷ কাগজের উপর আঠা মাখিয়ে দেন তিনি৷ শুধু জোড়া দেয়া নয়, কাগজকে আরও মজবুত করার জন্যও এই পদ্ধতি কাজে লাগে৷

ভিজে এই কাগজ কাঠামোর উপর বসানোর সময় বিশেষ দক্ষতা থাকা চাই৷ না হলে কাগজ ছিঁড়ে যেতে পারে৷ কাটরিন গ্রিগুল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন কারখানায় তৈরি জাপানি ওয়াশি কাগজ৷ তিনি বললেন, ‘‘এর বিশেষত্ব হলো, কাগজের সব অংশই প্রায় সমান৷ এবং কাগজের রোল ৩০ মিটার দীর্ঘ৷ ফলে এ দিয়ে বেশ বড় আকারের বাতিও তৈরি করা যায়৷''

কাটরিন গ্রিগুল-এর তৈরি বাতি খ্যাতিমান মানুষের বৈঠকখানা বা হোটেল-রেস্তোরাঁয় শোভা পায়৷ বেশিরভাগই অর্ডার দিয়ে তৈরি হয়৷ যেমন বার্লিনের এই রেস্তোরাঁ৷ তবে একেবারে নতুন আকারের বাতিরও অর্ডার দেওয়া যায়৷

৪৮ বছর বয়স্ক কাটরিন গ্রিগুল আগে অভিনেতা ও স্টান্টউম্যান হিসেবে কাজ করেছেন৷ একবার তিনি শখের বসে এক রেস্তোরাঁর জন্য বাতির ডিজাইন করেন৷ তারপর একের পর এক অর্ডার আসতে থাকে৷ গ্রিগুল বলেন, ‘‘দেখতে বিশাল ও ভারি না হলেও এই সব বাতি হতে পারে যথেষ্ট উজ্জ্বল ও শক্তিশালী৷ আর সেইসঙ্গে ডিমার ব্যবহার করলে এই বাতি ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে পারে৷ এমন বাতি জ্বালিয়ে কোলাহলমুক্ত শান্ত একটি সন্ধ্যা কাটাতে পারেন৷''

প্রতিটি বাতিই হাতে তৈরি৷ বছরে ৩০টির বেশি মডেল তৈরি করেন না কাটরিন গ্রিগুল৷ সংখ্যা নয়, মানই আসল বিষয়৷

এসবি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়