1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

হাতিকে পাশ কাটিয়ে স্কুলে যায় জ্যাকসন

জার্মানির শিক্ষাবিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত ‘প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট' সংক্ষেপে পিসার জরিপ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে৷ জার্মানির ছেলেমেয়েদের স্কুলের ফলাফল উঠে আসছে আলাপ-আলোচনায়৷

পিসার গবেষকরা মনে করেন, সুইডেনের ছেলেমেয়েরা এখন যে-কোনো ধরনের স্কুলে যেতে পারে বলে ফলাফলের ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে৷ বিত্তশালীদের ছেলেমেয়েরা উঁচু টিউশন ফি দিয়ে ভালো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে৷ অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষদের সে সামর্থ্য নেই৷ তাই তাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার ফলাফলও আশানুরূপ হয় না৷ শিক্ষাক্ষেত্রে এইভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায় না৷

বিস্মিত করবে অন্য প্রান্তের ছেলেমেয়েদের

ফরাসি চিত্র পরিচালক পাসকাল প্লিসো'র প্রামাণ্যচিত্র ‘অন দ্য ওয়ে টু স্কুল' বা ‘স্কুলের পথে'র ছেলেমেয়েরা এই ধরনের সমস্যার কথা শুনে হয়তো বিস্মিত হবে৷ জাহিরা, জ্যাকসন, স্যামুয়েল, কারলিটো এই ছবির মুখ্য চরিত্র৷ ফরাসি চিত্র পরিচালক প্লিসো বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের স্কুল জীবন তুলে ধরেছেন৷ তুলে ধরেছেন কত কসরত করে তাদের স্কুলে যেতে হয়৷ তারা কেনিয়ার সাভানা, মরক্কোর পাহাড়ি অঞ্চল, আর্জেন্টিনার দুর্গম দক্ষিণাঞ্চল ও ভারতে বসবাস করে৷

তিন মহাদেশের চারটি দেশের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে ক্যামেরা নিয়ে সঙ্গী হয়েছে ফিল্মের টিমটি৷ একেক ধরনের কঠিন আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছে তারা৷ বরফ ও তুষার পার হয়ে, আফ্রিকার বালুকাময় তৃণভূমি ঠেলে বিপজ্জনক বাধাবিপত্তি পার হয়ে যেতে হয় তাদের স্কুলে৷ স্কুলে যাওয়ার পথটা কিছু ছেলেমেয়ের জন্য তো রীতিমত অ্যাডভেঞ্চার৷

দুর্গম পথ

কেনিয়ার জ্যাকসনকে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়৷ সবসময় একটা ওয়াটার ক্যান থাকে তার সাথে৷ মরক্কোর জাহিরাকে পাথুরে পর্বতমালা অতিক্রম করে ২২ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়৷ চার ঘণ্টা লাগে তার৷ আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্তের কারলিটোকে ১৮ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়৷ তবে সে ঘোড়ায় চড়ে যেতে পারে৷ এজন্য তার দেড় ঘণ্টা লাগে৷ সবচেয়ে কম দূরত্ব পার হতে হয় ভারতের স্যামুয়েলের৷ মাত্র চার কিলোমিটার৷ তবে তাকে হুইলচেয়ারে করে যেতে হয়৷ কিন্তু বড় স্বপ্ন দেখা থেকে ক্ষান্ত হয়নি সে৷ ‘‘এক সময় আমি অনেক টাকা আয় করবো৷ আমি তখন কী করবো জান? একটি বড় ট্রাক কিনবো৷ আর সেটা চালিয়ে দিল্লি যাব৷ অনেক টাকা থাকলে যা ইচ্ছা কিনতে পার তুমি৷''

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন

পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যায় কীভাবে, এব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ছবিতে বাচ্চারা জানিয়েছে, যে জায়গায় তারা বড় হয়েছে, সে জায়গা ছেড়ে তারা যেতে চায় না৷ পড়া শেষ করে তারা নিজেদের গ্রামের অবস্থা বদলাতে চায়৷ অর্জেন্টিনার ১১ বছরের কারলিটো বলে, ‘‘আমার এখানে ভাল লাগে৷ এখান থেকে আমি যেতে চাই না৷ এই জায়গা তো আমার পরিবারের৷ আমি পশু চিকিৎসক হতে চাই৷ তারপর আমি পড়তে আগ্রহী সব ছেলেমেয়েকে স্কুলে যেতে সাহায্য করবো৷''

মজার দৃশ্যও রয়েছে

আর ততদিন বাচ্চাদের পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হবে৷ কিংবা যেতে হবে ঘোড়ায় চড়ে৷ নড়বড়ে হুইল চেয়ারে বা ঠেলাগাড়িতে করে পৌঁছতে হবে বিদ্যালয়ে৷ কেনিয়ার জ্যাকসন ও সালোমের মতো অনেক ছেলেমেয়েকে বন্য হাতির পাশ কাটিয়ে যেতে হয় স্কুলে৷ তারা অবশ্য ভয় পায় না৷ তাই তাদের কন্ঠে শোনা যায়, ‘‘ঐ যে ওখানে হাতিরা৷ ওরা লুকিয়ে আছে৷ এই উঁচু জায়গা থেকে ভালই দেখা যায় প্রাণীগুলিকে৷ আমরা শর্টকাট পথ নেই৷ সতর্ক থাকতে হয়৷ বিশেষ করে, কোনো আওয়াজ করা যায় না৷''

Schulwege - vorbei an wilden Elefanten (Film)

‘স্কুলের পথে' ছবির একটি দৃশ্য

এই ছবির মাধ্যমে বিশ্বসমাজকে সচেতন করে তুলতে চান পরিচালক৷ বিষয়টিকে ঘিরে আলাপ-আলোচনার আবহ তৈরি করতে চান৷ প্রশ্ন তুলতে চান শিক্ষার সুযোগ কী শুধু জাতীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি সারা বিশ্বের জন্যই একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেওয়া হবে?

সবার জন্য চাই সমান সুযোগ

উন্নয়ন সাহায্য সংগঠন অক্সফামের সান্ড্রা ডোরাক বলেন, ‘‘সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ দিতে আগ্রহী কোনো দেশকেই শুধু অর্থাভাবে পিছিয়ে আসতে দেওয়া যায় না৷ অনেক দরিদ্র দেশই বাচ্চাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পরিকাঠামো তৈরি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে৷ কিন্তু প্রায়ই অর্থের অভাবে থমকে যায় এসব প্রচেষ্টা৷ বিশ্বসমাজ এইসব দেশকে সাহায্য করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ৷''

স্কুলের পথে ছবিটি এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারবে৷ ছবির ছেলেমেয়েরা তুলে ধরেছে তাদের জীবনের আনন্দ উচ্ছ্বাস৷ দেখিয়েছে শত বাধা বিপত্তির চেয়েও শেখার আকাঙ্খাটা কত বড়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন