1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

হাজার হাজার জার্মান ফ্যান ব্রাজিলমুখো

দেশ বেড়ানো আর ফুটবল হলো জার্মানদের সবচেয়ে প্রিয় দু’টি অবসর বিনোদনের পন্থা৷ আবার সে দু’টো যদি একসঙ্গে পাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই৷ কাজেই ৫০ হাজার জার্মান ইতিমধ্যেই ব্রাজিলে যাবার টিকিট কিনে ফেলেছেন৷

UEFA EURO 2012 Dänemark Deutschland

জার্মানরা ফুটবল পাগল (ফাইল ফটো)

জার্মানি থেকে ব্রাজিলে গিয়ে হোটেলে থাকা, একটা খেলার শহর থেকে আরেকটা শহরে যাওয়া, এ সবের খরচ কিন্তু জার্মানদের পক্ষেও কম নয়: মাথাপিছু দশ হাজার ইউরো, যা কিনা আজ জার্মানিতে একটা ছোটখাটো নতুন গাড়ির দাম৷ তবুও বিশ্বকাপ যাত্রার প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে লোন নিতেও অনেকে দ্বিধা করেননি৷

জার্মানির নাকি এবার চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার ভালো সম্ভাবনা আছে, বলে ফ্যানদের ধারণা৷ কাজেই ব্রাজিলে গিয়ে জার্মান দলকে চ্যাম্পিয়ন হবার মতো সাপোর্ট দিয়ে ফ্যানরা যখন খোশমেজাজে বাড়ি ফিরবেন, তখন নাকি তাঁদের ‘প্রোডাক্টিভিটি' মানে উৎপাদনক্ষমতাই বেড়ে যাবে৷ অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হবার স্বপ্ন যদি সত্যি না হয়, তাহলে যে উৎপাদনক্ষমতার কি হবে, তা নিয়ে জার্মান ফ্যানরা আপাতত মাথা ঘামাচ্ছেন না৷

এক বছর আগে তারা যখন এই ব্রাজিল যাত্রার – নাকি অভিযানের? – পরিকল্পনা করতে শুরু করেন, তখনও কেউ বিগত তিনটি বিশ্বকাপে জার্মানির ফলাফলের কথাটা ভেবে দেখেননি: ২০০২ সালে জার্মানি হারে ফাইনালে, ২০০৬ আর ২০১০ সালে সেমিফাইনালে৷ আর পাঁচ সপ্তাহের ছুটি কাটানোর জন্য – মাথাপিছু – দশ হাজার ইউরো খরচ করাটা বাহুল্য বলে মনে হতে পারে, কিন্তু যেদেশে মানুষ বছরে গড়ে ৩৪ হাজার ইউরো রোজগার করে, সেদেশে সেটা হাতের ময়লা কিংবা ‘পি-নাটস' না হলেও, তা-তে কারো দমার কথা নয়৷ বিশ্বকাপ তো আসেও প্রতি চার বছরে একবার৷

সারা বছরের উপার্জনের এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ বিশ্বকাপের পিছনে খরচ করা: এখন যদি জার্মানি – ঈশ্বর না করুন! – ফাইনালের আগেই কোনো স্টেজে আউট হয়ে যায়, তাহলে কি হবে? কোনো ক্ষতি হবে না, কেননা তাহলে জার্মান ফ্যানরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের ফ্যানদের সঙ্গে মিলে ‘পার্টি' চালিয়ে যাবেন৷ বুঝলেন না? বিশ্বকাপ হল ফুটবলের মহোৎসব, মানে যাকে বলে কিনা মোচ্ছব৷ তা-তেই যদি ফুর্তি না করা যায়, তাহলে ফুর্তি করা যাবে ক্যামনে?

কাজেই ইউরোপের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে জার্মানি থেকেই সবচেয়ে বেশি ফ্যান ব্রাজিলে পাড়ি জমাচ্ছেন৷ জার্মানির সঙ্গে গ্রুপ ‘জি'-তে রয়েছে পর্তুগাল, ঘানা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ম্যাচগুলো হবে সালভাদোর, ফর্তালেজা ও রেসিফে-তে৷ ফ্যানদের কাছে গ্রুপ পর্যায়ের সব ক'টি ম্যাচের টিকিট থাকবে, বলে সাধারণত ধরে নেওয়া যায়৷ তবে জার্মানি গ্রুপে প্রথম না হয়ে যদি দ্বিতীয় হয়, তাহলে ফ্লাইট আর বুকিং কিছুটা এদিক-ওদিক করতে হবে৷

তার মুশকিল হলো এই যে, নকআউট পর্যায়ে স্টেডিয়ামে গিয়ে টিকিট পাবার আশা করছেন জার্মান ফ্যানরা৷ কিন্তু খেলা ঘাড়ে এসে পড়লে টিকিটের দাম হবে আকাশছোঁয়া – এককালে যাকে টিকিট ব্ল্যাক করা বলা হতো৷ কিন্তু ফ্যান কিংবা ব্ল্যাকার, উভয় পক্ষই জানে, সুদূর জার্মানি থেকে ব্রাজিলে এসে এই ফ্যানরা খেলা না দেখে বাড়ি ফিরবেন না৷

কাজেই: দ্য স্কাই ইজ দ্য লিমিট৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন