1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

হাঙ্গেরিতে নিরাশ্রয় হওয়াটা বেআইনি

নতুন আইনে রাস্তায় যাদের বাস, এমন মানুষদের প্রকাশ্য স্থানে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে হাঙ্গেরিতে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বানের সরকার নিরাশ্রয় মানুষদের ‘স্কেপগোট’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, এমনটাই বলছে সুশীল সমাজ৷

default

নিরাশ্রয়-ভবঘুরেদের প্রকাশ্য স্থানে ‘‘বাস করা'' নিষিদ্ধ করা হয়েছে

প্রথমে যেটা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেটা ছিল আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া খাবারদাবারের খোঁজ করা৷ তারপর বিশেষ বিশেষ প্রকাশ্য স্থানে নিরাশ্রয়-ভবঘুরেদের থাকাটা নিষিদ্ধ করা হয়৷ তারপরে আসে ‘বাল্কি ওয়েস্ট', অর্থাৎ ফেলে দেওয়া আসবাব-পত্র ইত্যাদি কুড়িয়ে নেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা৷

ভিক্টর অর্বানের জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল সরকার বিগত কয়েক বছর ধরেই নিরাশ্রয়-ভবঘুরেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন৷ গোড়ায় সাংবিধানিক আদালত একাধিকবার তাঁকে নিরস্ত করেছিল৷ কিন্তু অর্বানের দল গত মার্চে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সাংবিধানিক আদালতকেই নিরস্ত করার পর এবার আরেকটি প্রচেষ্টা নিচ্ছে অর্বান সরকার৷ গত সপ্তাহে বুদাপেস্ট সংসদ সেই পুরনো আইনের একটি নতুন সংস্করণ পাস করেছে: এবার নিরাশ্রয়-ভবঘুরেদের প্রকাশ্য স্থানে ‘‘বাস করা'' নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ এই আইন ভঙ্গ করলে নিরাশ্রয়দের ফাইন থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণমূলক সেবার দণ্ড হতে পারে৷

Viktor Orban

প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান

এই আইনের বিরোধিতা করেছে এবং করছে হাঙ্গেরির একাধিক এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠন৷ তাদের যুক্তি, এভাবে নিরাশ্রয়দের অপরাধীতে পরিণত করা হচ্ছে, যা কিনা সংবিধানের বিরোধী এবং অগ্রহণযোগ্য৷ নতুন আইনে নিরাশ্রয়তাকেই দণ্ডনীয় করা হচ্ছে, বলে ধ্বনি তুলেছে তারা৷ যে দেশে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ স্রেফ দারিদ্র্য অথবা অসাফল্যের কারণে পথে বাস করতে বাধ্য হয়, সেখানে এ ধরনের আইনের কোনো স্থান নেই, বলছে তারা৷ সরকার নিরাশ্রয়দের জন্য আবাস তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বটে, কিন্তু একা বুদাপেস্টেই যখন দশ থেকে পনেরো হাজার নিরাশ্রয়দের জন্য আবাসগুলিতে মাত্র ছ'হাজার আসন রয়েছে, তখন এই প্রতিশ্রুতি গোড়া থেকেই অপর্যাপ্ত৷

সরকার বলছে, ট্যুরিস্টরা যে সব জায়গায় যায়, সে সব জায়গা থেকে নিরাশ্রয়-ভবঘুরেদের দূরে রাখাটাই এই আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য৷ কিন্তু বিরোধীদের দৃষ্টিতে সরকার দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নয়, দরিদ্রদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন৷ দেশের সামাজিক দুরবস্থার দিক থেকে মানুষের নজর ফেরানোর জন্য সরকার ‘স্কেপগোট' বা দোষ দেবার পাত্র খুঁজছেন এবং নিরাশ্রয়-ভবঘুরে, রোমা উপজাতির মানুষ ও উদ্বাস্তুদের সেই পর্যায়ে ফেলেছেন – এই হলো অভিযোগ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন