1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

হাঙরের ত্বকের আদলে বিমান, জাহাজ, উইন্ডমিল

হলিউডের ‘জস’ ছবিতে খুনে হাঙরের কাণ্ড দেখে রোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু সেই হাঙরের ত্বকের যে কতটা কদর, তা কি জানতেন? জাহাজ থেকে বিমান – সবেতেই হাঙরের ত্বকের গুণ কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে৷

হাঙর প্রায় বিনা বাধায় পানির মধ্যে এগিয়ে চলে৷ তাদের ত্বকে যে ক্ষুদ্র ‘রিবলেট' রয়েছে, সেগুলিই এটা নিশ্চিত করে৷ এই আঁশগুলি এমনভাবে সাজানো যে, হাঙরের ত্বক স্রোতের ধাক্কা কমিয়ে আনতে পারে৷

বিজ্ঞানীরা এই কাঠামো প্রযুক্তিগতভাবে অন্যান্য সারফেস বা পৃষ্ঠভাগের উপর প্রয়োগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ হাঙরের ত্বকের আদলে তৈরি সাঁতারের পোশাক পরে অ্যাথলিটরা গত কয়েক বছরে অনেক রেকর্ড ভাঙতে পেরেছেন৷ এই ‘রিবলেট' নৌকা দৌড়ের গতিও বাড়িয়ে দিয়েছে৷ এমনকি বিমানের উপরেও একটি ‘রিবলেট'-এর স্তর পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তবে সেই ফয়েল এখনো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী হয়নি৷

Hai-Tech

হাঙরের ত্বকের ‘রিবলেট'কে এখানে বড় করে দেখানো হয়েছে

ব্রেমেন শহরে ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট এবার এমন এক তরল পদার্থ তৈরি করেছে, যা রংয়ের মতো লাগালে হাঙরের ত্বকের গুণাগুণ নকল করা সম্ভব৷ এই রং অত্যন্ত জটিল মালমশলা দিয়ে তৈরি৷ সূর্যের অতি-বেগুনি রশ্মি, তাপমাত্রার হেরফর এবং চাপ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে এই পদার্থ৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের ইভন ভিলকে বলেন, ‘‘যে কোনো রংয়ের মতো এই রংয়েরও প্রয়োজনীয় গুণাগুণ থাকতে হবে৷ তবে বিমানে লাগাতে হবে বলে তাপমাত্রার বিশাল হেরফের সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে৷ ১০,০০০ মিটার উচ্চতায় সূ্র্যের আলোর অভাব নেই৷ চাই প্রবল ঘর্ষণ প্রতিরোধের ক্ষমতাও, যাতে রিবলেট ও তার গোড়া টেকসই হয়৷''

গবেষকরা এই রং সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ এক প্রক্রিয়াও তৈরি করেছেন৷ হাঙরের ত্বকের কাঠামো রংয়ের মধ্যে চেপে বসিয়ে দেওয়া হয়৷ অতি বেগুনি রশ্মি তাকে আরও শক্ত করে তোলে, যাতে তা ছড়িয়ে না যায়৷

চওড়া এক চোঙা স্টেনসিলের মধ্যে রং পুরে দেয়৷ নীচের বাঁ-দিকে সেটি তরল রংয়ের উপর অতি ক্ষুদ্র ‘রিবলেট' খোদাই করে৷ একই সঙ্গে অতি বেগুনি রশ্মির ল্যাম্প রংকে শক্ত করে তোলে৷ ফলে হাঙরের ত্বকের কাঠামো অক্ষত থাকে৷

গবেষকরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নীচে নিয়মিত সেই ‘রিবলেট'-এর কাঠামোর মান পরীক্ষা করেন৷ মাত্র কয়েক মাইক্রো মিটার চওড়া খাঁজ পানিকে উত্তাল হতে দেয় না, ঠিক যেমনটা হাঙরের ত্বকের ক্ষেত্রে ঘটে৷ ফলে জ্বালানির সাশ্রয় ঘটে৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের ড. ফল্কমার স্টেনৎসেল বলেন, ‘‘এমন সারফেসের এয়ারোডায়নামিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এমন স্তরের মাধ্যমে ঘর্ষণের মাত্রা প্রায় ৭ শতাংশ কমানো সম্ভব৷ ফলে বাস্তবে জাহাজ বা বিমানে এমন স্তর ব্যবহার করলে জ্বালানি বাঁচানো সম্ভব হবে৷''

উইন্ড মিলে এমন স্তর বসালে আরও জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব৷ ড. স্টেনৎসেল বলেন, ‘‘আমরা উইন্ড মিলের চ্যানেল পরিমাপ করে দেখেছি৷ বিশেষ স্তর বসানো এবং সাধারণ পাখার মধ্যে তুলনা করেছি৷ তাতে দেখা গেছে, এই স্তর থাকলে ‘গ্রাইড রেশিও' প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে৷ অর্থাৎ একদিকে পাখার ধাক্কা, অন্যদিকে বাতাসের চাপ – এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত কমে যায়৷ ফলে এমন উইন্ড মিলে অনেক বেশি জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব৷''

যেখানেই বাতাস বা পানির ‘রেজিস্টেন্স'-এর ভূমিকা রয়েছে, সে সব ক্ষেত্রে হাঙরের ত্বকের গুণাগুণসম্পন্ন রং জ্বালানি উৎপাদনের খরচ কমাতে পারে, গোটা প্রক্রিয়ার আরও উন্নতি ঘটাতে পারে৷ তখন কার্বন নির্গমনের মাত্রাও কমে যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক