1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

হাওরের জনপদে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বাংলাদেশে হাওর এলকায় প্রায় দুই কোটি লোকের বাস৷ তাদের ৮০ ভাগই হাওরের বোরো ধান এবং মাছের উপর নির্ভরশীল৷ এবার পাহাড়ি ঢলে ধান, মাছ দু’টোই গেছে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়ের৷

পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টির আগেই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কথা ছিল৷ কিন্তু কোনো বাঁধই নির্মাণ হয়নি৷ আর এর সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ঘুর্নিঝড় এবং শিলাবৃষ্টি৷ পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মির রাজা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাধারণভাবে প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢল আসে৷ কিন্তু এবার এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতি বৃষ্টি৷ কিন্তু হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ যথাসময়ে নির্মাণ না করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে৷ গত ৫০ বছরে এমন হয়নি৷ সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ এলাকাসহ পুরো হাওরের বোরো ধান প্রায় পুরোটাই শেষ হয়ে গেছে৷''

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট ও কিশোরগঞ্জে এক লাখ ৭১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে৷ এতে ওই তিন জেলায় ২ কোটি ৫ লাখ মন ধান কৃষকের ঘরে উঠছে না৷ ফসলডুবির ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা৷ নিজের ক্ষেতের ধান নষ্ট হতে দেখে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন৷

হাওর এলাকার জমি এক ফসলি৷ এক মওসুমের বেরো ধান দিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের সারা বছর চলতে হয়৷ আর এর সঙ্গে বিকল্প জীবীকা হলো মাছ ধরা৷ কিন্তু এবার সেখানেও বিপদ৷ হাওরের ধানের শীষ পচে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে৷ ফলে মাছ মরে যাচ্ছে৷ আর এই কারণে জলজ প্রাণিসহ হাঁসও মারা পড়ছে, মারা পড়ছে গবাদি পশু৷  সুনামগঞ্জের সাংবাদিক হিমাদ্রি শেখর ভদ্র ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হাওরের মানুষ একটি বোরো ফসল দিয়েই সারা বছর চলে৷ কিন্তু তাদের সব শেষ হয়ে গেছে৷ গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে৷ ফলে এরই মধ্যে অনেকেই গবাদি পশু বিক্রি করতে শুরু করেছেন৷''

অডিও শুনুন 03:04

‘শুধু সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায়ই ১৫ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন’

তিনি জানান, ‘‘শুধু সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায়ই ১৫ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ তারা খাদ্য সংকটে আছেন৷''

মৌলভী বাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিদুৎ কান্তি দাস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার ইউনিয়নের প্রায় সব কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত৷ মাছ মরে যাওয়া শুরু হওয়ার পর মৎস অফিস থেকে হাওরে চুন দেয়া হচ্ছে৷ কিন্তু বিশাল এই হাওর চুন দিয়ে কি দূষণমুক্ত করা যাবে?''

তালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘‘মাছ পচে যাওয়ার কারণে হাওরের পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে৷ পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে৷ শুধু আমার ইউনিয়নেই চার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘কুশিয়ারা নদীর পানি ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়েক দিন আগের ঘূর্ণিঝড়৷ তবে ফসল রক্ষা বাঁধগুলো আগেই নির্মাণ করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না৷''

রাজনগর উপজেলার কাউয়া দীঘি হাওর এলাকার কৃষক আকলু মিয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘হাওরে পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিলাবৃষ্টির ক্ষতি৷ ওই এলাকায় হাওরের বাইরে যারা ধান চাষ করেন, তারাও বসে পড়েছেন৷ কারণ, তাদের ফসল শেষ করে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি৷ আমার নিজের ১০ একর জমির ধান শেষ করে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি৷ এখন পুরো হাওর এলকাতেই ফসল হারানোর কান্না এবং হাহাকার৷''

এরইমধ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন৷ তিনি হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখেছেন৷ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷

অডিও শুনুন 03:59

‘সবার আগে প্রয়োজন এখন হাওরের মানুষকে রক্ষা করা’

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার ইটনা, বানিয়ার চর, গনিগঞ্জ, খালিয়াজুরি, দিরাই, জামালগঞ্জ, শাল্লা, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও ছাতক এলাকা পরিদর্শন করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি৷

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়, এ বছর জেলার সাতটি উপজেলার ৯৯ হাজার ৩৬৮ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ জেলার প্রায় ৮২ শতাংশ ফসলি জমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ এলাকার এসব চাষী তাদের একমাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল৷

এদিকে সংসদের বাইরে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে৷ পাশপাশি সেখানকার ভুক্তভোগী কৃষকদের কৃষি উপকরণ দিয়ে পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‘দেশে খুবই নীরবে একটি ভয়াবহ এবং ভয়ংকর দুর্যোগ ঘটে গেছে এপ্রিল মাসের শুরুতে৷  উজানের পানিতে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের সাড়ে তিন লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে৷ এতে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷''

হাওর এলকার ক্ষত্রিগ্রস্তদের কাছ থেকে এরইমধ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ ও কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার৷ তাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসহ নানা ধরনের সহায়তার কথা বলা হয়েছে৷ আর দুর্নীতি দমন কমিশন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে৷

পরিবেশ ও হাওয়র উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মির রাজা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবার আগে প্রয়োজন এখন হাওরের মানুষকে রক্ষা করা৷ তারা নিজেরা কোনোভাবেই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না৷ আমি এখানে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি৷'’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়