1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হাইতিতে শিশুপাচারকারী সন্দেহে ১০জন আটক, ত্রাণ অব্যাহত

হাইতি থেকে ৩৩টি শিশুকে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার সময় শিশুপাচারকারী সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি খ্রিষ্টান সাহায্য সংস্থার ১০ সদস্যকে আটক করেছে দেশটির সরকার৷

default

হাইতিতে ত্রাণের কাজে মার্কিন সেনা তৎপরতা

এ ঘটনাসহ ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগে হাইতি সরকারের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে৷ ফলে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দেশটির সরকার আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো ভিত্তিক খ্রিষ্টান সাহায্য সংস্থা ‘নিউ লাইফ চিলড্রেন্স চ্যারিটি'র কর্মকর্তারা ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া ৩৩টি শিশুকে নিয়ে একটি বাসে করে সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী ডোমিনিকান রিপাবলিকে যাচ্ছিলেন৷ এসময় হাইতির পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা তাদের আটক করে৷ মার্কিন পাসপোর্টধারী সংস্থাটির দশ কর্মকর্তার সঙ্গে আটক করা হয়েছে তাদের সহযোগী দুই হাইতিয়ানকেও৷ হাইতির সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রী মেরি লরেন্স জোকেলিন লেসেগ বলেছেন, ‘‘সীমান্ত পুলিশ অনেক শিশুসহ একটি বাস দেখতে পেয়ে তাদের থামায়৷ সেখানে ৩৩টি শিশু ছিল৷ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি৷'' রাজধানী পোর্ট অফ প্রিন্স-এ আটকাবস্থায় ওই মার্কিন সংস্থাটির প্রধান লরা সিল্সবি বলেছেন, শিশুদের পুনর্বাসনই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন,‘‘ আমরা কেবল শিশুদের সহায়তা করতেই এখানে এসেছি৷ আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না৷ ভূমিকম্পে যারা বাবা-মা হারিয়েছে এবং যারা পরিত্যক্ত হয়েছে এমন শিশুদের আমরা সহায়তা করতে চেয়েছিলাম৷''

উদ্ধার করা এসব শিশুদের মধ্যে ২ মাস বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ১৪ বছর বয়সি শিশুও রয়েছে৷ এখন যে সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসব শিশুকে রাখা হয়েছে তার কর্মকর্তা প্যট্রিসিয়া ভার্গাস জানান, এদের অনেকেরই বাবা-মা বা পরিবার রয়েছে৷ অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সের কয়েকটি শিশু তাদের ফোন নম্বর এবং বাড়ির ঠিকানা দিয়েছে বলেও জানান তিনি৷

পোর্ট অফ প্রিন্সে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে ‘‘হাইতির অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অমান্য করার অভিযোগে'' ওই গ্রুপটির কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে৷ এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা৷

ওদিকে, ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে আহতদের জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে সোমবার থেকে বিশেষ বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করছে মার্কিন সেনাবাহিনী৷ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টমি ভিয়েতোর জানান, ‘‘জরুরি চাহিদা পূরণ এবং জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে হাইতির সরকার এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি আমরা৷''

প্রায় ২০ লাখ মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানী পোর্ট অফ প্রিন্সের ১৭টি স্থানে খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি৷ হাইতির পুলিশ, মার্কিন সেনাবাহিনী এবং জাতিসংঘ কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি তদারক করছেন৷ জাতিসংঘের জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী জন হোমস সোমবার বলেছেন, হাইতিতে এখনকার ত্রাণ তৎপরতা ২০০৪ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সুনামির চেয়ে সময়ের চেয়ে ভাল হচ্ছে৷

১২ জানুয়ারির ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে হাইতিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন৷ আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ লাখ এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ৷

প্রতিবেদক : মুনীর উদ্দিন আহমেদ, সম্পাদনা :সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়