1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হরতাল ও অস্থিরতায় বিপর্যস্ত গ্রিস

যে দেশের সংকট ইউরো এলাকা তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল, সেই গ্রিস সংবাদ শিরোনাম থেকে কিছুটা সরে গেছে৷ সম্প্রতি এক হরতালের কারণে আবার সবার নজর পড়লো এথেন্সের দিকে৷

বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে ২৪ ঘণ্টার হরতাল৷ বিমান, রেল, মেট্রো রেল, ফেরি চলাচল বন্ধ৷ বন্ধ স্কুল সহ বন্ধ নানা সরকারি পরিষেবা৷ এমনকি হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সও সীমিত আকারে সক্রিয় ছিল৷ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও কর্মীরা হাজারে-হাজারে পথে নেমেছিলেন সরকারের ব্যয় সংকোচ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে৷ দেশের দুই বড় শ্রমিক সংগঠন বড় বড় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করেছে৷ শুধু রাজধানী এথেন্সেই ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ দুটি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন৷

এর এক দিন আগে সাংবাদিকদের ধর্মঘটের ফলে সংবাদ-মাধ্যম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ ফলে বৃহস্পতিবার কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়নি৷ অবসর ভাতা কমানোর বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেক সাংবাদিক মাসের পর মাস বিনা বেতনে কাজ করে চলেছেন৷

অথচ দেশে অর্থের ‘অভাব' নেই৷ আন্তর্জাতিক তিন প্রতিষ্ঠান – ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ – ২০১০ সাল থেকে দাতা হিসেবে কোটি কোটি ইউরো সাহায্য দিয়ে এসেছে৷ কিন্তু এর শর্ত হিসেবে সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার ও ব্যয় সংকোচ চালাতে হচ্ছে৷ এর কুফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷ করের হার বেড়েছে, বেতন ও পেনশন কমেছে৷ বিপর্যস্ত অর্থনীতি এখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না৷ বেকারত্বের হার প্রায় ২৬ শতাংশ৷ গত প্রায় ৬ বছর ধরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে৷ ফলে অনেক মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ছে৷

দেশের এমন পরিস্থিতি কবে দূর হবে, তাও স্পষ্ট নয়৷ সরকার তার সীমিত কিছু সাফল্য ফলাও করে প্রচার করছে৷ কিন্তু দেশের আগামী যাত্রাপথ এখনো স্পষ্ট নয়৷ আগামী বছরের বাজেট নিয়ে আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে আলোচনা এখনো থমকে রয়েছে৷ আন্তর্জাতিক দাতাদের হিসেব অনুযায়ী নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ২০১৫ সালে গ্রিসকে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ইউরো কম ব্যয় করতে হবে৷ গ্রিসের সরকার এই লক্ষ্যমাত্রার হিসেব মেনে নিতে প্রস্তুত নয়৷ ঐকমত্য না হলে অনিশ্চয়তা কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, চলতি বছরে বিষয়টির নিষ্পত্তির সম্ভাবনা কম৷ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ নাজুক৷ বর্তমান জোট সরকারের স্থায়িত্বও প্রশ্নের মুখে৷ ফলে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে তারা বিলম্ব করছে৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়