1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হরতালে বিচার পান না ক্ষতিগ্রস্তরা

বাংলাদেশে হরতালসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিহতের ঘটনা তো ঘটেই, সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়৷ কেউ আবার চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান৷ এসব ঘটনায় মামলা হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার পান না ক্ষতিগ্রস্তরা৷ পান না কোনো ক্ষতিপূরণও৷

কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বুধ ও বৃহস্পতিবারের টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে তিনজন নিহত হয়েছেন৷ আহত হয়েছেন অনেকে৷ আহতদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হছেন তিনজন ড্রাইভার৷ আর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য৷ তাঁদের পরিবারের হাহাকারের ছবি বড় করে ছাপা হয়েছে পত্রিকায়, প্রচার করা হয়েছে সব সংবাদমাধ্যমে৷

গাজীপুরের বাস চালক নজরুল ইসলামের শরীরের ৫০ ভাগের বেশি পুড়ে গেছে৷ বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর, যাত্রীরা রক্ষা পেলেও তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘বার্ন ইউনিট'-এ তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে৷ সেখানে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানদের আহাজারিতে যে কেউ নিজের চোখের জল ফেলবেন৷ নজরুল ইসলামের স্ত্রী শুধু একটি কথাই বলছেন, ‘‘তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁদের পুরো সংসারই পুড়ে গেছে''৷ একইভাবে শেরপুরে পেট্রোল বোমায় পুড়েছেন ট্রাক চালক শামসুল হক এবং তাঁর সহকারী মো. শাহীন মিয়ার সংসার৷

বুধবার নোয়াখালির কোম্পানিগঞ্জে অটোরিকশা চালক আবু নাসের নিহত হন পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে৷ পিকেটারদের ধাওয়ায় তাঁর অটোরিকশাটি উল্টে গেলে তিনি নিহত হন৷ জানা গেছে, তিনি তাঁর পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন৷ তাই তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে পথে বসে গেছে৷

এরকম করুণ কাহিনি প্রতিটি হরতালই ‘‘উপহার'' দেয়৷ কিন্তু সে পর্যন্তই৷ তারপর আর কোনো খোঁজ থাকে না৷ বিচার হয় না৷ এমনকি পাওয়া যায় না কোনো ক্ষতিপূরণ৷ রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্ব নেয় না৷ দায়িত্ব নেয় না পুলিশ প্রশাসনও৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রাণহানিসহ নানা ঘটনায় মামলা হয়৷ তবে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ৷ কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাক্ষী পাওয়া যায় না৷ আসামিদের চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে৷ কারণ, যারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অপরাধ করে তারা কৌশলে করে৷ তাদের নাম-পরিচয় জানা যায় না৷ আর যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁরাও তাঁদের চেনেন না৷ তাই মামলাগুলোর তদন্ত ঠিকমতো এগোয় না৷ মাসুদুর রহমান জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এরজন্য ক্ষতিপূরণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই৷

সরকার হরতাল আহ্বানকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রেখে একটি আইন প্রণয়নের কথা আগে বললেও, এখনও পর্যন্ত তার কোনো উদ্যোগ নেই৷ সংসদের চলতি অধিবেশনে পাশ না হলে এ ধরণের আইন এই সরকারের আমলে আর হচ্ছে না৷ এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, কোনো ক্ষয়-ক্ষতি বা প্রানহাণির প্রাথমিক দায়-দায়িত্ব হরতাল আহ্বানকারীদের৷ তবে সেটা প্রমাণ করেই ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে৷ তিনি মনে করেন, ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনটি প্রণয়ন করা উচিত৷

অবশ্য তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সরকারের৷ নাগরিকদের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে৷ তাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জীবন এবং সম্পদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হলে তার বিচার, অপরাধীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে সরকারকে৷ রেজাউল করিম মনে করেন, এ নিয়ে রাজনীতি হয়, কিন্তু কাজ হয় না৷ তাই সাধারণ মানুষ কোনো প্রতিকার পান না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়