1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হরতালের আগুন বাঁচতে দিল না তাঁদের

সেই তিনজন বাসচালক মারা গেছেন৷ নজরুল ইসলাম, সেকান্দার বেপারি এবং শামসুল আলম৷ জামায়াতের ডাকা বুধ ও বৃহস্পতিবারের টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে তাঁরা দগ্ধ হয়েছিলেন পেট্রোল বোমা আর পিকেটারদের আগুনে৷

চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে৷ তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি৷ তাঁরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সোমবার৷

গাজীপুরের বাসচালক নজরুল ইসলাম হরতালের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় পিকেটারদের হাতে পড়েন৷ চলন্ত বাসে কেরোসিন আর পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুন দিলে তিনি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দিতে পারলেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি৷ মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু স্বজনদের মঙ্গল কামনা আর চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টাও তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি৷

হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা বেগম ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, ‘‘তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাদের পুরো সংসারই পুড়ে গেল৷'' তবুও আশা ছিল হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবেন তাঁর স্বামী৷ কিন্তু এখন তিনি কি করবেন? দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন? কান্না ছাড়া আর কিছুই নেই তাঁর জন্য৷ স্বামীর লাশ নিয়ে গেছেন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে৷ কিন্তু সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যত গন্তব্য অজানা সাবিনার৷

আরেকজন ট্রাকচালক সেকান্দার বেপারি অগ্নিদগ্ধ হন কুমিল্লায়৷ হরতালের প্রথমদিন বুধবার বাসে ট্রাকে হামলা এবং আগুন দেয়ার ঘটনার শিকার হন তিনি৷ তিনিও সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান৷

Streik in Bangladesch

‘প্রথম দায় যারা হরতাল ডেকেছেন তাঁদের৷ কিন্তু কোনো আইনেই তাঁদের দায়ী করার সুযোগ নেই ’

আর বগুড়ার শেরপুরে হরতাল সমর্থকদের আগুনে গুরুতর আহত হন ট্রাকচালক শামসুল আলম৷ তাঁকেও সব চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা৷

এই নিহত তিনজনের পরিবারের সদস্যদের কান্না আর আহাজারিতে সোমবার ঢাকা মেডিক্যালের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে৷ চিকিৎসকরাও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন৷

কিন্তু এর দায় কে নেবে? পরিবারের সদস্যদেরইবা কে দেখবে? বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স ম রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন প্রথম দায় যারা হরতাল ডেকেছেন তাঁদের৷ কিন্তু কোনো আইনেই তাঁদের দায়ী করার সুযোগ নেই৷ তাই আইন প্রয়োজন৷ তবে পুলিশ আন্তরিক হলে হত্যার জন্য যারা সরাসরি দায়ী তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব৷ আর রাষ্ট্রকে অবশ্যই দায় নিতে হবে৷ কারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্র এবং সরকারের৷ কোনো আইনে না থাকলেও এই তিনটি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত৷ তিনি বলেন যেসব রাজনৈতিক দল এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে সংসার পুড়িয়ে আন্দোলন করে তারা আর যাই করুক মানুষের কল্যাণে কিছু করে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন