1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

হতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, যেতে হলো জেলে

দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার শশিকলার স্বপ্ন পুড়ে ছাই৷ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁর চার বছরের জেল হয়েছে৷ এখন রাজ্যপালের পরবর্তি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই৷

তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার উত্তরসূরি হিসেবে কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন? তাই নিয়ে শশিকলা নটরাজন বনাম বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভমের মধ্যে তীব্র লড়াই৷ গত সপ্তাহ খানেক ধরে নানা নাটকীয় পরিস্থিতির উদ্ভব৷ কিন্তু গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শশিকলার মুখ্যমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন তো বটেই, তাঁর রাজনৈতিক ভাগ্যও এখন বিশ বাঁও জলে৷ দুর্নীতি মামলায় তাঁর চার বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা হয়৷ অবশ্য চার বছরের মধ্যে আগেই ছয়মাস জেল খেটেছেন জয়ললিতার সঙ্গে শশিকলাও৷ জেল খাটার পর আইন অনুসারে তিনি ১০ বছর পর্যন্ত ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না৷ রায় শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি৷ আত্মসমর্পণের জন্য সময় চেয়েছিলেন শশিকলা, কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর করেননি৷ তাঁকে কর্নাটকের ব্যাঙ্গালুরু জেলে নিয়ে যাওয়া হয়৷

উল্লেখ্য, প্রায় ২১ বছর আগে নিম্ন আদালতে জয়ললিতা, শশিকলা এবং অন্য আরও কয়েকজন আত্মীয়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল৷ কিন্তু কর্নাটক হাইকোর্টে আপিল করলে সেই রায় খারিজ হয়ে যায়৷ তাঁরা বেকসুর খালাস পেয়ে যান৷ তারপর মামলা যায় সর্বোচ্চ আদালতে৷ কোটি কোটি টাকার হিসেব বহির্ভূত আয় মামলার রায়ে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছেন, ‘‘রাজনীতিকদের অর্থলিপ্সার এক জঘন্য দৃষ্টান্ত৷ জয়ললিতাও সমান  দোষী৷ কিন্তু তিনি প্রয়াত, কাজেই সব ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷'' এই রায় সম্পর্কে প্রবীণ আইনজীবী সোলি সোরাবজী বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের ব্যক্তি পরিচয় নয়, সাক্ষ্যপ্রমাণই গ্রাহ্য৷ এতে আরেকবার প্রমাণ হলো, দেশের বিচার ব্যবস্থা কত নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন৷''


ওজনদার রাজনীতিক নেতাদের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শাস্তি হবার নজীর বিরল নয়৷ বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব স্বয়ং তার দৃষ্টান্ত৷ ২০১৩ সালে পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছর জেল খাটতে হয়৷ জরিমানা দিতে হয় আড়াই লক্ষ টাকা৷ বলা বাহুল্য, তিনি পরবর্তি ছয় বছর ভোটে দাঁড়াতে পারেননি৷ প্রমাণিত হয় যে, লালু প্রসাদ পশুখাদ্যের খরচে ভুয়া বিল দিয়ে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা তুলেছিলেন সরকারি ট্রেজারি থেকে৷ মামলা শুরু হয় ৯০-এর দশকের প্রথমদিকে৷ মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন ৯৭ সালে৷

দীর্ঘদিন মামলা চলে আইনি জটিলতায়৷ প্রথমে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর বিশেষ আদালতে৷ সেখান থেকে হাইকোর্টে, তারপর সুপ্রিম কোর্টে আবার ফেরত আসে সিবিআই-এর বিশেষ আদালতে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার পাননি লালু প্রসাদ৷ দোষী সাব্যস্ত হবার পর তাঁকে সাংসদ পদে ইস্তফা দিতে হয় এবং জেলে যেতে হয়৷ আরো অনেক নজীর আছে৷ হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চৌথালা সরকারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিন বছর ধরে জেলে৷ মনমোহন সিং সরকারের আমলে টু-জি, কয়লা কেলেঙ্কারিতে অনেক মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়, পরে জামিনে ছাড়া পান. কিন্তু মামলা চলছে৷

সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে শশিকলা মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তাঁর একান্ত বিশ্বাসভাজন ই. কে পালানিস্বামীকে এআইএডিএমকে বিধায়ক দলের প্রধান করে দেন এবং বিরুদ্ধ শিবিরের পনিরসেলভামকে বহিষ্কার করেন দল থেকে৷ তাতে সরকার গঠনে কি ইতরবিশেষ হবে ? জানা গেছে, পালানিস্বামী ইতিমধ্যেই ১৩৪ জন বিধায়কের সমর্থন সম্বলিত চিঠি তুলে দেন রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও-এর হাতে৷

আদালতের রায় বের হবার আগে শশিকলার দাবি মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক ছিলেন তাঁর দিকে৷ তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪ জন বিধায়কের মধ্যে এআইএডিএম বিধায়ক সংখ্যা ১৩৪৷ তার মধ্যে ১২৯ জন শশিকলা শিবিরের, যাঁদের তিনি আটকে রেখেছিলেন এক রিসর্টে দলত্যাগ রোধে৷ দলীয় অন্তর্দ্বন্দে পনিরসেলভামের পাল্লা ক্রমশই ভারি হচ্ছিল৷ শশিকলা মনোনীত মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রক্সি প্রার্থী পালানিস্বামী ১৩৪ জনের সই করা চিঠি রাজ্যপালকে দিয়ে আসার পর অনেকে মনে করছেন পনিরের পালের হাওয়া বুঝি কেড়ে নিলেন তিনি৷ 

এখন সবার দৃষ্টি রাজ্যে স্থিতিশীল সরকার গঠনে রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে৷ কিভাবে তিনি যাচাই করবেন প্রকৃতপক্ষে কোন শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কতটা৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় বিধানসভার এক দিনের জরুরি অধিবেশন ডেকে দুই শিবিরকে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন রাজ্যপাল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়