1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

হতাশ বিদেশি কূটনীতিকরা, সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা গ্রেফতার হওয়ায় বিদেশি কূটনীতিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ তারা যে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন তা সংঘাতের দিকে মোড় নেয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন৷ তবে তারা হাল ছাড়েননি৷

Activists of Hefajat-e Islam clash with police in front of the national mosque in Dhaka May 5, 2013. At least one person was killed, more than one hundred injured, including journalists, and thirteen vehicles torched as activists from Hefajat-e Islam and Islami Chhatra Shibir clashed with police at the city's Paltan area. According to local media, Hefajat activists demanded for the introduction of blasphemy laws and a 13-point agenda, while blocking major roads in Dhaka. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: POLITICS CIVIL UNREST RELIGION)

ফাইল ফটো

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে৷ ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রাবার্ট গিবসন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মাঝে গঠনমূলক সংলাপের পরিবর্তে আমাদের অব্যাহতভাবে সংঘাতমূলক কার্যক্রম দেখতে হচ্ছে৷ এটি আমাকে হতাশ করেছে৷ কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করে দুই দলের সংলাপের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে৷'' প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর বৃটিশ হাইকমিশনার তাঁর এই উদ্বেগের কথা জানালেন৷

এদিকে, ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা ভারত সফরের পর এখন তাঁর নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন৷ তবে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি মাঈনুল আলম৷ তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র সব দলকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন৷''

এই কূটনৈতিক সংবাদদাতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ তারা বাংলাদেশে কোন সংঘাত দেখতে চায় না৷ মাঈনুল আলম বলেন, ভারতের রাষ্ট্রদূত এখন ঢাকায় রয়েছেন৷ তাই বর্তমান পরস্থিতিতে ভারতও তার অবস্থান দ্রুতই জানাবে বলে মনে করেন তিনি৷

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, দু'য়েকদিনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং চীন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে৷ বাংলাদেশের বর্তমান চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব দেশের কূটনীতিকরাও আগে থেকেই তাদের সক্রিয় মতামত জানিয়ে আসছিলেন৷ ধারণা করা হয়, অভ্যন্তরীণ চাপ ছাড়াও বিদেশি কূটনীতিকদের তত্‍পরতার কারণেই শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে ফোনালাপ সম্ভব হয়েছিল৷

জানা গেছে, শীর্ষ পাঁচ নেতাকে গ্রেফতারের পর বিএনপির অধিকাংশ নেতা আত্মগোপনে থাকলেও তারা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ আর সরকারের সঙ্গে কূটনীতিকরা যোগাযোগ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন৷ তবে এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের৷ আগামী নির্বাচন এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত একটি অবস্থানে আসবে কিনা তা দেখার রয়েছে৷ স্বয়ং ওবামা প্রশাসন চাইছে ভারতকে তার অবস্থান পরিস্কার করে বাগে আনতে৷ কারণ এই দু'টি দেশেরই বাংলাদেশে নানা স্বার্থ রয়েছে৷ তারা মনে করে, বাংলাদেশে জঙ্গি এবং মৌলবাদের উত্থান তাদের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর৷

Police surround Bangladesh Nationalist Party (BNP) standing committee members MK Anwar(L), Rafiqul Islam Mia (C) and Moudud Ahmed after they left a court following a hearing in Dhaka November 9, 2013. The opposition Bangladesh Nationalist Party (BNP) on Saturday announced another 84-hour nationwide strike, starting on Sunday, after police arrested BNP leaders, triggering violent protests across the country. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: POLITICS CIVIL UNREST TPX IMAGES OF THE DAY)

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা গ্রেফতার হওয়ায় বিদেশি কূটনীতিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ প্রথম থেকেই চেষ্টা করছে বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার৷ জাতিসংঘ মহাসচিব দুই নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন৷ এছাড়া মহাসচিবের বিশেষ দূত ঢাকায় এসেও দুই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন৷ কিন্তু দুই নেত্রীর ফোনালাপের পর পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আশা থাকলেও হয়েছে উল্টো৷ তাই কূটনৈতিক মহলে হতাশা নামাই স্বাভাবিক৷

ইত্তেফাকের সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক মাঈনুল আলম জানান, ‘‘বাংলাদেশে সবদলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নানভাবেই সক্রিয় আছেন বিদেশি কূটনীতিকরা৷ তাদের এই তত্‍পরতা থামেনি৷''

বিরোধী পাঁচ নেতাকে আটকের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকরা হতাশা প্রকাশ করলেও সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তারা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেই মনে করেন আলম৷ তাঁর মতে, তাদের সেই প্রচেষ্টা অল্প সময়ের মধ্যেই আরো স্পষ্ট হবে৷

এদিকে, ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অজানা ভবিষ্যত্‍ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন