1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

হটলাইনের ২৫০ অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুদক

প্রায় এক লাখ কল, আট হাজার মৌখিক টেলিফোন অভিযোগ৷ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগের জন্য হটলাইন চালুর পর এই হলো অবস্থা৷ এর থেকে ২৫০টি অভিযোগ যাছাইবাছাই করে তদন্ত করবে দুদক৷ ওদিকে অভিযোগ এসে চলেছে এখনও৷

দুদকে চিঠির মাধ্যমে বা সরাসরি অভিযোগ করার সুযোগ আগেও ছিল৷ দুদকের সামনে আছে অভিযোগ বাক্স৷ কিন্তু তাতে তেমন অভিযোগ জমা হতো না৷ তাছাড়া অভিযোগগুলো নিয়ম করে মনিটরিং-এরও ব্যবস্থাও ছিল না৷ কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে ২৭ জুলাই থেকে৷ ঐ দিন দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেয়ার জন্য টেলিফোন হটলাইন চালু করে৷ সংবাদমাধ্যম তা ব্যাপকভাবে প্রচারও করা হয়৷ ভুক্তভোগী নগরিকরা যাতে অভূতপূর্ব সাড়া দেন৷

দুদক জানায়, সাত কর্মদিবসে প্রায় ৯২ হাজার কল এসেছে হটলাইনে৷ এর মধ্যে আট হাজারেরও বেশি কল রিসিভ করে কথা বলেছেন দুদকের দায়িত্বপ্রাপাপ্ত কর্মকর্তারা৷ তারমধ্যে বাছাই করে ২২৫টি থেকে ২৫০টি অভিযোগ তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে৷ তবে এখনও প্রতিদিন গড়ে কল আসছে ১৩ হাজারেরও বেশি৷

অডিও শুনুন 06:14

এটা দুর্নীতি দমনে কতটা সহয়ক হবে সেটা পরের প্রশ্ন: প্রণব কুমার ভট্টাচার্য

যেভাবে কাজ করে হটলাইন:

দুদকের হটলাইন টেলিফোন নাম্বারটি হলো:১০৬৷ এটি একটি হান্টিং নাম্বার৷ একইসঙ্গে ৩০টি ফোন কল করা যায় এই নম্বরে৷ এর সঙ্গে কম্পিউটার সংযুক্ত করা৷ তাই কোনো কল রিসিভ করা না গেলে যিনি ফোন করেছেন তাঁর নাম্বারসহ কল রেকর্ড হয়ে যায়৷ আর যাঁদের ফোর রিসিভ করা হয়, তাঁদের কথোপকথনও রেকর্ডে থাকে৷ দুদকের উপ-পরিচালক এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমাদের একটি কল সেন্টার আছে এবং এই কল সেন্টারে কমপক্ষে সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কাজ করছেন৷ ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করেন এই কল সেন্টারে৷’’

তিনি আরো জানান, ‘‘যেসব কল রিসিভ করা হয় তাদের মধ্যে যেসব অভিযোগ দুর্নীতি সংক্রান্ত নয়, সেগুলো কোথায় করতে হবে তার পরামর্শ আমরা দেই৷ আর দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আমরা বিস্তারিত নিই৷ আমরা দুর্নীতির যেসব অভিযোগ পেয়েছি, তার মধ্যে যাচাইবাছাই করে অন্তত ২২৫টি অভিযোগ তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে৷’’

এই অভিযোগগুলো নিয়ে কী করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটি যাচাইবাছাই কমিটি আছে৷ তারা এখন এগুলো দেখবেন, কীভাবে তদন্ত করা যায় তার নির্দেশনা দেবেন৷ তারপর তদন্ত শুরু হবে একটা চলমান প্রক্রিয়ায়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা তিনটি স্পেশাল টিম গঠন করেছি৷ এমন কোনো অভিযোগ যদি পাওয়া যায় যে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো প্রয়োজন, তাহলে তাঁরা অভিযান চালাবেন৷ যেমন ঘুস লেনদেনের সঠিক খবর পাওয়া গেলে আমাদের বিশেষ টিম অভিযান চালবে৷ হটলাইন চালুর পর এ রকম একটি খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়েছিও৷ এই টিমের সদস্যদের জন্য তিনটি গাড়ি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিকসহ সবকিছু সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তত রাখা হয়েছে৷’’

কী ধরনের অভিযোগ আসে?

অভিযোগকরীরা ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা, পুলিশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা, পাসপোর্ট, ভিজিএফ, কাবিখা, কাবিটাসহ সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম ও নিয়োগের ব্যাপারে অভিযোগ জানাচ্ছেন৷ এমনকি গৃহকর্মী নির্যাতনের খবরও দেয়া হয়৷ তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করা হয় জমিজমা নিয়ে৷ জমি দখল, জমি উদ্ধার, জাল দলিলপত্র প্রভৃতি৷ কেউ কেউ তাৎক্ষণিক সমাধানও চান৷ কিন্তু দুর্নীতির বাইরে কোনো অভিযোগ নেয়ার সুযোগ থাকে না৷

প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, ‘‘কিন্তু আমরা মানুষকে নিরুৎসাহিত করি না৷ আমরা ধৈর্যের সঙ্গে অভিযোগ শুনি এবং কোনো পরামর্শ থাকলে তা তাঁদের জানিয়ে দিই৷ কোন অভিযোগ কোথায় করতে হবে তার পরামর্শও দিই৷ অভিযোগ শুনে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ জমিজমা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমাদের নীতি হলো, কোনো অভিযোগকারীর সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না৷ কেউ খারাপ আচরণ করলেও, আমরা কেউ খারাপ ব্যবহার করবো না৷ বিনয়ের সাথে কথা বলবো৷ শুনবো বেশি, বলবো কম৷’’

অডিও শুনুন 04:02

যত জন কল করবেন সবার কল ডকুমেন্ট ফোন নম্বরসহ কম্পিউটারে থাকছে: রাজিব আহসান

দুদকের সিস্টেম এনালিস্ট রাজিব আহসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের এই হটলাইন সিস্টেমটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়৷ যতজন কল করবেন সবার কল ডকুমেন্ট করা হবে৷ অর্থাৎ ফোন নাম্বারসহ কম্পিউটারে থেকে যাবে৷ আমরা এ পর্যন্ত ৮,২০০ জনের কল রিসিভ করে কথা বলেছি৷ বাকিদের কল রিসিভ করা হয়নি৷ মোট ২০ জন কর্মকর্তা কাজ করলেও প্রতি শিফটে কাজ করেন পাঁচজন৷ ফলে জনবল একটা বিষয়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা বুঝতে পারছি মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে চায়৷ আর দুদকের প্রচলিত পদ্ধতিতে অভিযোগ করা অনেক জটিল৷ লিখতে হয়, সশরীরে আসতে হয়, জমা দিতে হয়৷ অথচ হটলাইন সিস্টেমে কোনো ঝামেলা নেই৷ কল করে মুখে অভিযোগ জানালেই হলো৷ এরপর তা দেখার কাজ আমাদের৷ তবে মানুষ এমন অনেক অভিযোগ করে, যা আমাদের কাছে করার কথা নয়৷ আসল কারণ হলো তারা অভিযোগ করার জায়গা পাচ্ছে না৷ এবার সুযোগ পেয়ে এখানেই সব অভিযোগ করছে৷’’

প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এটা দুর্নীতি দমনে কতটা সহয়ক হবে, সেটা পরের প্রশ্ন৷ তবে দুর্নীতি দমনে নাগরিকের সঙ্গে দুদকের সরাসরি যোগাযোগ অপরিহার্য৷ এই হটলাইন সেই সুবিধা করে দিচ্ছে৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়