সয়েস, গান হলো ত্রিশ বছর পর | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.02.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সয়েস, গান হলো ত্রিশ বছর পর

ইসারলনে যাবার কথা ছিল সময় মত৷ জিগির কনসার্ট৷ জিগি মানে জিগফ্রিড স্মিট৷ পেশায় শিক্ষক৷ নেশায় ফটোগ্রাফার, গীতিকার৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই মানুষটি বিভিন্ন সময়ে ঘুরে বেড়ান, কথা বলেন নানা মানুষের সঙ্গে, ছবি তোলেন৷

default

১৯৭৯ সালের সয়েস ...

কখনো কখনো দেশি লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ান, চায়ের দোকানে আড্ডা দেন৷

জার্মান এই লোকটিকে কে পছন্দ না করবে৷ ডয়চে ভেলে থেকে বেরিয়ে সোজা ট্রেন ধরলাম৷ আমার মতো বকচক্ষুর মানুষেরও মাঝে মাঝে জায়গা চিনতে ভুল হয়৷ সেবারও হলো৷

জিগি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাদের কনসার্ট দেখতে৷ এই আহ্বান কে ঠেলে ফেলতে পারে! সময় মতো সেখানে যাওয়া হলো না৷ অনেক কষ্টে শিষ্টে পৌঁছলাম বেশ খানিকটা সময় বাদে৷ শহরের পৌর হলঘর ভাড়া করা হয়েছে৷ সেখানে যাবার পথে শুনলাম অন্ধকারে বয়ে যাওয়া একটি নদীর কলকাকলি৷ খলখল শব্দ৷ পাথুরে নদী৷

ZEUS Concert Iserlohn

জিগি প্রথমে সেই ব্যান্ড দলে ছিলেন না৷ পরে যোগ দিয়েছেন৷ তা এই কথাটা আজকের নয়৷ ৩০ বছর আগের৷ দলের নাম সয়েস৷ এক গ্রিক দেবতার নামে নাম৷ জার্মানির ইসারলন শহরের লেটমার্ট এলাকায় যে মাধ্যমিক স্কুল, যাকে এখানকার ভাষায় বলা হয় গিমনাসিউম, সেখানেই গড়ে ওঠে সেই ব্যান্ড৷ তখন ছিলেন ইয়র্গ স্মিটস, রোনাল্ড পারট, ফ্রান্ক বুশ, আন্দ্রেয়াস মার্টিন, স্পীডি শেফার৷ পরে দলে যোগ দেন ফ্রাঙ্ক রসম্যান এবং টোমাস কাসলম্যান৷

রোনাল্ড পারট গাইতেন৷ ইয়র্গ গিটারিস্ট৷ বুশ রিদম গিটারিষ্ট এবং মার্টিন ছিলেন ড্রামার৷ বেসম্যান ছিলেন শেফার৷

সকলের একই উদ্দেশ্য৷ গান গাইবেন৷ উদ্দেশ্য অল্প দিনেই সফল৷ স্কুল ব্যান্ড হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তারা৷ প্রথমে অন্য গায়কদের গান গাইতেন৷ পরে আস্তে আস্তে নিজেরাই গান তৈরি করতে থাকেন৷

ZEUS Konzert Iserlohn

জিগি ওই স্কুলে পড়তেন না৷ কিন্তু গান লিখতেন ওদের জন্য৷

এভাবেই শুরু একটি ব্যান্ড দলের৷ লেটমার্ট ছাড়িয়ে এক সময় এই ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা আশেপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে৷ ভালোই চলছিল বেশ কয়েক বছর৷ কিন্তু স্কুল শেষ হবার পর তো আর বসে থাকা যায় না৷ তাই নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান সকলে৷ কেউ যোগ দেন সেনাবাহিনীতে৷ কেউবা ডাকসাইটে ব্যবসায়ী৷ কেউবা শিক্ষক৷ অবশ্য এদের কয়েকজন পেশা হিসাবে নেন সংগীতকেই৷ ফ্রাঙ্ক বুশ এদের মধ্যে অন্যতম৷ তাঁরা ছড়িয়ে যান জার্মানির বিভিন্ন স্থানে৷

এরপর এক দুই দিন করে ৩০ বছর৷ বছরে তাঁরা এক দুইবার বসতেন৷ আলাপ আলোচনা করতেন আবার এক সঙ্গে গান করার৷ কিন্তু সেই স্বপ্নটা অনেকটাই স্বপ্ন হয়ে থাকতো৷ কিন্তু গত বছরের গোড়ার দিকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন বছরের শেষার্ধে তাদের কনসার্টটি হবেই৷

সেই কনসার্ট দেখতেই আমার যাত্রা৷ সিটি হলের জায়গাটা ততক্ষণে ভরে গেছে ছোট্ট ছিমছাম ঐ শহরের মানুষের কোলাহলে৷ ভিতরে ঢুকতেই অবাক, কোন দেশের লোক নেই সেখানে! নানা দেশের লোক এসেছে৷ আমিও৷ একটি একটি করে গান হয়ে যাচ্ছে৷ গান বাজাবার মাঝে মাঝে টুকরো টুকরো স্মৃতিমালা, দুষ্টুমি৷ রাত বাড়ছে, মানুষের উত্তেজনা বাড়ছে৷

ZEUS Konzert Iserlohn

সয়েস, ৩০ বছর আগের দল৷ কিন্তু তাদের গান শুনে মনে হচ্ছে, এখনো কতোটা তরুণ তারা৷ আমার আর বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব নয়৷ চলে যেতে হবে৷ কিন্তু যেতে পারছি না৷ মাঝে মাঝে মানুষ চাইলেও অনেক কিছু পারে না, আমি আজ তেমনি, উঠতে পারছি না৷ আমি সুরের সমুদ্রে ঘুরছি৷

সব কিছুরই শেষ থাকে৷ এক সময় ৩০ বছর পরের এই মিলন মেলা ভাঙলো৷ গান শেষ হলো৷ এবার উঠতে হবে৷ আমি বের হবো, সামনে এসে উপস্থিত রোলান্ড৷

: কেমন লাগলো?

: ভালো৷ খুব ভালো৷ খুবই আনন্দ হয়েছে৷

: ধন্যবাদ৷

: আবার কবে হবে এমন মিলন মেলা?

: আবার হয়তো ৩০ বছর পর..

উত্তরটা দিয়েই হাসতে থাকলেন রোলান্ড৷ হাত মিলিয়ে বাইরে আসছি অনেকের সঙ্গে৷ সকলের মুখে একটি পরিতৃপ্তির ভাব৷ এদের অনেকেই সেই ৩০ বছর বাগে সয়েস এর গান শুনতেন৷ স্মৃতি রোমন্থন করছেন বেরিয়ে যাবার সময়ও৷

বাইরে হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে৷ সেপ্টেম্বর মাস৷ কোথা থেকে এক পশলা বৃষ্টি এসে আমাকে ভিজিয়ে দিল৷ মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ভিজতে বেশ লাগে...

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়