1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

স্যুরিয়ালিজম শিল্পকলার অগ্রদূত মাক্স অ্যার্নস্ট

স্যুরিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পীদের মধ্যে মাক্স অ্যার্নস্ট ছিলেন সবচেয়ে সুশিক্ষিত৷ অগাধ ছিল তাঁর পড়াশোনা৷ সাহিত্য, শিল্প, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, পুরান, মধ্যযুগের রসায়নশাস্ত্র সবই তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল ব্যাপকভাবে৷

Max Ernst kurz vor seinem 80. Geburtstag. Der französische Maler und Bildhauer deutscher Herkunft gründete zusammen mit Hans Arp den Kölner Dada, gehörte seit 1922 in Paris dem Kreis der Surrealisten an. usage Germany only, Verwendung nur in Deutschland

Max Ernst

বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে কোলোন-প্যারিসে শিল্পী ও লেখকদের এক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল৷ ডাডা এবং পরে স্যুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদী শিল্পের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা ইউরোপে৷ শিল্পীরা এঁকেছেন ফোটোগ্রাফিক স্পষ্টতায়, মগ্নচৈতন্যের অযৌক্তিক দৃশ্য৷ মানুষের অবচেতন মন নিয়ে করেছেন গবেষণা৷ এই আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা জার্মান চিত্রকর মাক্স অ্যার্নস্ট৷ স্যুরিয়ালিজম শিল্পকলা ধারার এক অগ্রদূত৷ তিনি ছিলেন একাধারে কবি, চিত্রকর, অলংকারক এবং ভাস্কর৷ তাঁর চিত্রকর্মে মূর্ত হয়ে উঠেছে বিস্ময়ভরা পৃথিবীতে পৌরাণিক দানব, কবি, দার্শনিক, পাখি ও নারীর পৃথিবীতে অবাস্তবতা, জাদু, বৃক্ষ, পাথর, পোকামাকড়, পর্বত, অঙ্কশাস্ত্রের মতো বিষয়ে তাঁর পলায়নী যাত্রার আনন্দ৷

O Leão de Belfort, de Max Ernst (Benutzung nur zur Berichterstattung über die Ausstellung im MASP/São Paulo)

পুরো নাম: মাক্সিমিলিয়ান মারিয়া অ্যার্নস্ট

জন্ম: ২ এপ্রিল, ১৮৯১, ব্র্যুল, জার্মানি

মৃত্যু: ১ এপ্রিল, ১৯৭৬, প্যারিস, ফ্রান্স

পেশা: কবি, চিত্রকর এবং ভাস্কর

বাবা: ফিলিপ অ্যার্নস্ট

মা: লুইজে

স্ত্রী: ডরোটেয়া টানিং (১৯৪৬–১৯৭৬), পেগি গুগেনহাইম (১৯৪২–১৯৪৬)

মারি-ব্যার্ট ওরঁশ (১৯২৭–১৯৪২), লুইজে স্ট্রাউস (১৯১৮–১৯২৭)

উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম: দ্য ভার্জিন চ্যাস্টাইসেস দ্য ইনফ্যান্ট জিসাস বিফোর থ্রি উইটনেসেস, বার্ড-হেড, রঁদেভু দেজামি৷

জার্মানির কোলোন ও বনের মাঝখানে ছোট্ট শহর ব্র্যুল-এ বড় হয়েছেন মাক্স৷ বাবা ছিলেন মূক ও বধিরদের স্কুলের শিক্ষক৷ চিত্রাঙ্কনেও দক্ষতা ছিল তাঁর৷ ছিলেন ঘোর ক্যাথলিক৷ বাবার এই ক্যাথলিকপনার বিরুদ্ধে একদিন বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন মাক্স৷ তিনি স্মৃতিচারী বহু টুকরো টুকরো লেখা লিখে গিয়েছেন, যার অনেকটাই নিজের বাবা সম্পর্কে তাঁর ভয়-ভাবনা ও ফ্যান্টাসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত৷ মনোবিশ্লেষণধর্মী ধ্যান-ধারণার প্রভাবে এগুলোই এক সময় হয়ে উঠেছে তাঁর অঙ্কনশিল্পের জন্য চিত্রকল্পের এক সমৃদ্ধ আকর৷ যেমন ১৯২৬ সালে আঁকা ছবি, যেখানে কুমারী শিশু যিশুকে কঠোর শাস্তি দিচ্ছেন তিনজন সাক্ষি অঁদ্রে ব্রেতঁ, পল এলুয়া এবং মাক্সের সামনে৷ সে সময় ছবিটি বিতর্কের ঝড় তুলেছিল৷

Max Ernst Museum Brühl Flash-Galerie. Deutschland entdecken, Winter, Reportage. Copyright: Maksim Nelioubin.

জার্মানির ব্রুল শহরের মাক্স অ্যার্নস্ট মিউজিয়াম

১৯০৯ সালে মাক্স ভর্তি হন বন বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ তাঁর পাঠ্যবিষয় ছিল দর্শন, মনোবিজ্ঞান ও শিল্পকলার ইতিহাস৷ দর্শনে ফ্রিডরিশ নিচে – যিনি নিৎশে নামেই বেশি পরিচিত – তাঁর ধারণা মাক্স অ্যার্নস্ট-কে বেশ প্রভাবিত করেছিল৷ পড়েন সিগমুন্ড ফ্রয়েড-এর মনোসমীক্ষা বিষয়ক রচনা৷ তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিত্রশিল্পী হবেন৷ ১৯১৩ সালে বন-এ রাইন অঞ্চলের অভিব্যক্তিবাদী শিল্পীদের চিত্রকর্মের প্রদর্শনিতে তাঁর ছবিও ছিল৷ পরের বছরই শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ৷ যুদ্ধে যোগ দিতে হয় তাঁকে৷ আহত হন দু'দুবার৷ ১৯১৯ সালে ফিরে আসেন যুদ্ধ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে৷ কোলোনে এসেই যোগ দেন ডাডাপন্থী চক্রে৷ এই আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল শিল্প ও সাহিত্যে যা কিছু সনাতন, যা কিছু প্রচলিত তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, যুক্তিতর্ক ও বিধিনিয়মের গণ্ডিকে অস্বীকার করা৷ ১৯২২ সালে মাক্স চলে যান প্যারিসে৷ সেখানে ফরাসি লেখক ও কবি অঁদ্রে ব্রেতঁ ও পল এলুয়া-র সংস্পর্শে আসেন৷ দু'বছর পর প্রকাশ পায় ব্রেতঁ-র বিখ্যাত ‘ম্যানিফেস্টো অফ স্যুরিয়ালিজম' – পরাবাস্তববাদের ইশতেহার৷ অবচেতন মনের গহন থেকে বেরিয়ে আসা শৈল্পিক ও সাহিত্যিক চিন্তার রূপায়নকে কেন্দ্র করে এই ইশতেহার৷ এর মূল জিজ্ঞাসা ছিল ‘কবে আমরা পাব ঘুমন্ত যুক্তিবিদ, ঘুমন্ত দার্শনিক?' এই পরাবাস্তববাদের ধ্যান-ধারণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে মাক্সের বেশির ভাগ শিল্পকর্ম৷ অবশ্য এর আগে থেকেই তিনি ছিলেন আভাগার্দ চিত্রকলার পুরোভাগে৷ কাজ করেছেন ‘নতুন পুরাণ' সৃষ্টির লক্ষ নিয়ে৷

তাঁর কোলাজশিল্পের মোটিভে এসেছে কখনও মজাদার কোনো বিষয়বস্তু কখনো ভয়াবহ কিছু৷ তাঁর ছবিতে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে পাখি৷ কখনো মানব হিসেবে কখনোবা দানব হিসেবে৷ কখনো স্বাধীনতার, মুক্তির প্রতীক আবার কখনো মূর্ত হয়েছে মানবজাতির নিষ্ঠুরতার রূপে৷ ল্যান্ডস্কেপ বা অরণ্য ছিল তাঁর খুব প্রিয় মোটিভ৷ তা এসেছে কখনো আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে, কখনো সংহারী মূর্তি নিয়ে৷ গত শতকের তিরিশ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই আসন্ন নাৎসি সন্ত্রাসের আভাষ পাওয়া যায় তাঁর চিত্রকর্মে৷ ৪০ সালে গেস্টাপোর হাত থেকে রক্ষা পেতে পাড়ি জমিয়েছিলেন অ্যামেরিকায়৷ সেখানেও চলে চিত্রকলা ও ভাস্কর্যচর্চা৷ প্রায় ১৩ বছর পর আবার ফিরেছিলেন প্যারিসে এবং সেখানেই ছিলেন জীবনের শেষ অবধি৷

পৃথিবীর বিখ্যাত সব মিউজিয়ামের সংগ্রহ তালিকায় রয়েছে তাঁর শিল্পকর্ম৷ ১৯৭৬ সালে, তাঁর ৮৫তম জন্মবার্ষিকীর এক দিন আগে মারা যান শতাব্দীর অন্যতম সেরা শিল্পী মাক্স অ্যার্নস্ট৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন