1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্মার্টফোন যখন ডিজিটাল চাবি

স্মার্টফোন দিয়ে আজকাল সব কিছু করা যায়: সেল্ফি, প্যানোরামা শট, ভিডিও৷ সেই সঙ্গে ইন্টারনেট সংক্রান্ত যা কিছু, যেমন ফেসবুক কিংবা ইউটিউব, মেল কিংবা এসএমএস৷ কিন্তু গাড়ি বা বাড়ির চাবির বদলে স্মার্টফোন, সেটা কি সম্ভব?

জার্মানির প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা একটি অ্যাপের মাধ্যমে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করতে চলেছেন – এমনকি হোটেলের কামরা খুলতেও শুধু স্মার্টফোন থাকলেই চলবে, সেই স্মার্টফোনই ডিজিটাল চাবির কাজ করবে৷

ডার্মস্টাটের নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আহমদ-রেজা সাদেগি বলেন: ‘‘ডিজিটাল চাবি যথেচ্ছ তৈরি করা যায়, কিংবা ডিজিটাল তথ্যের মতো মুছে ফেলা যায়, বদলানো যায়, কপি করা যায় অথবা অন্য কাউকে দেওয়া চলে৷ হালের লোহা বা পেতলের, এমনকি প্লাস্টিকের চাবি দিয়েও যা করা সম্ভব নয়৷''

কার শেয়ারিং থেকে হোটেলের কামরা

বিশেষ করে কার শেয়ারিং-এর ক্ষেত্রে গাড়ির ইলেকট্রনিক চাবিকে আজ স্ট্যান্ডার্ড ইকুইপমেন্ট-ই বলা চলে৷ চাবি অথবা কোড-কার্ডের বদলে গ্রাহককে একটি ই-মেল মারফৎ ডিজিটাল চাবিটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ তেমনই, হোটেলের রিসেপশন থেকেই কামরার ডিজিটাল চাবিটি দিয়ে দেওয়া যায় অতিথির মোবাইল টেলিফোনে৷ টেলিফোনটি দরজার তালার কাছে ধরলে তা আপনিই খুলে যায়৷ এ চাবি হারানোরও ভয় নেই – শুধু মোবাইলটা হারানোর ভয় থাকে৷ অধ্যাপক আহমদ-রেজা সাদেগির ভাষ্যে, ‘‘আমি যদি আমার স্মার্টফোন হারাই, তবে সে সমস্যা সমাধানের নানান পন্থা আছে৷ স্বভাবতই আমার কাছে আমার সব ডিজিটাল চাবির কপি থাকতে পারে; অপরদিকে আমি হারানো স্মার্টফোনটিতে রাখা ডিজিটাল চাবিগুলো মুছে দিতে পারি৷ অথবা একটি নতুন স্মার্টফোন কিনে নতুন ডিজিটাল চাবির ব্যবস্থা করতে হবে৷''

পোস্ট অফিস থেকে পার্সেল নিতে গেলেও মোবাইলে ইলেকট্রনিক চাবি দেখালেই চলে৷ জিম-এ ঢুকতে হলে, কিংবা অফিসের পার্কিং লটে গাড়ি রাখতে হলে নিজের কাছে মোবাইল থাকলেই চলে – আলাদা করে চাবি কিংবা কার্ড রাখার দরকার পড়ে না৷ সে সবের পরিবর্তে একটি অ্যাপ থাকলেই চলে৷

ব্লু-টুথ নয়, সিআরসি

স্মার্টফোনটিতে ক্লোজ রেঞ্জ কমিউনিকেশনের জন্য একটি রেডিও চিপ থাকা প্রয়োজন৷ এই নিকটপাল্লার যোগাযোগ বা সিআরসি কিন্তু ব্লু-টুথ-এর মতো নয়৷ সিআরসি ইলেকট্রনিক তথ্যকে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্ব অবধি পাঠায়৷ কাজেই হ্যাকারদের সেই তথ্য ধরে ফেলার – অর্থাৎ ডিজিটাল চাবি নকল করার – কোনো সুযোগই নেই৷

একটি সফটওয়্যার এই সব ভার্চুয়াল চাবি তৈরি করে এবং এ গুলোর হিসেব রাখে৷ এ সব চাবি নিজের ইচ্ছেমতো যত খুশি এবং যতবার খুশি ‘কনফিগার' করা যায়৷ আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া যায়, চাবিটা একবার ব্যবহার করা হবে – নাকি এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে কাজ করবে৷

ডিজিটাল চাবি একবার তৈরি হয়ে গেলে, তা যে কোনো স্মার্টফোনে তোলা যায় – যদি সেই স্মার্টফোনে চাবি সংক্রান্ত অ্যাপটি থাকে৷ এবং সে চাবি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা চলে৷ ডিজিটাল চাবি টেক্সট হিসেবে পাঠানো হয় না, বরং একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এনক্রিপ্ট করে পাঠানো হয়৷ কাজেই বাইরের লোকের পক্ষে সে চাবি কপি করা সম্ভব নয়৷

হাত থেকে হাতে, মোবাইল থেকে ঘড়িতে

ডার্মস্টাটের নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের গবেষক আলেক্সান্ড্রা দিমিত্রিয়েঙ্কো বলেন: ‘‘গ্রাহকের যদি একটা চাবি থাকে, তাহলে সে চাবি অন্য কারো কাছে পাঠানো চলে, যেমন যিনি গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে তার বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দেখাশোনা করেন, তার কাছে৷ এছাড়া এই চাবি বিভিন্ন পন্থায় পাঠানো সম্ভব: এসএমএস, ই-মেল কিংবা স্ক্যান করা বারকোড হিসেবে৷''

ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা যে আইটি সমাধানটি আবিষ্কার করেছেন, তা বিশেষভাবে নিরাপদ, কেননা প্রথাগত এনক্রিপশন বা অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কে নেই৷ তালা খোলার জন্য যুগপৎ বিভিন্ন তথ্যের প্রয়োজন: ডিজিটাল চাবিতে যে তথ্য পাঠানো হয়েছে, সেই তথ্য, এবং মোবাইল টেলিফোনের অ্যাপ-এ যে তথ্য আছে, সেই তথ্য৷

অধ্যাপক আহমদ-রেজা সাদেগি বলেন: ‘‘আপনি যদি এই অ্যাপটি ডাউনলোড করেন, তাহলে চাবিটি আপনার মোবাইল টেলিফোন এবং এই অ্যাপটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে৷ এ ভাবে তা ব্যক্তিনির্ভর হয়ে থাকবে৷''

গবেষকরা এখন অন্যান্য ‘ডিভাইস' কিংবা যন্ত্রেও ডিজিটাল চাবি রাখার কথা ভাবছেন৷ এভাবে একটি স্মার্টওয়াচ ‘চাবির গোছা' হিসেবে কাজ করতে পারবে৷ হাতঘড়িতে ভার্চুয়াল চাবিগুলির একটি কপি রাখা থাকবে৷ বারকোড স্ক্যানার কিংবা ই-মেলের মাধ্যমে মোবাইল থেকে ঘড়িতে ডিজিটাল চাবি পাঠানো হবে৷ এর ফলে ঘড়ি দিয়েও নানা ধরনের তালা খোলা চলবে৷ চাবি ভুলে যাওয়া বা হারানো একদিন অতীতের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে৷ কেননা আজকের যুগের মানুষের কাছে আর কিছু থাক আর না থাক – তার মোবাইল থাকবেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক