1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

স্মার্টফোনের পর এবার আসছে সুপারফোন

মোবাইল ফোন যেভাবে কম্পিউটার, ক্যামেরা, টেলিভিশন ইত্যাদি ডিভাইসের গুণাগুণ গ্রাস করে নিচ্ছে, তাতে আর ‘ফোন' শব্দটা হয়তো কিছুদিন পর ব্যবহারই করা যাবে না৷

default

এমন স্মার্টফোন আর বেশীদিন আকর্ষণীয় থাকবে না, আসছে সুপারফোন

মোবাইল ফোনের বাজারে ২০০৯ সালটা ছিল ‘টাচস্ক্রিন'এর – ২০১০ সালে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য বাড়তি গুণাগুণের দিকে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস শহরে সিটিআইএ মেলায় এই প্রবণতার কিছুটা পূর্বাভাষ পাওয়া গেল৷ ‘স্প্রিন্ট' কোম্পানি তাইওয়ানের ‘এইটটিসি'র সঙ্গে হাত মিলিয়ে একঝাঁক নতুন পরিষেবা সহ আমেরিকায় যে নতুন এক মোবাইল ফোন চালু করতে চলেছে, তা নতুন এক যুগের সূচনা করছে৷

‘এইচটিসি ইভো ফোর-জি' – এই নামের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নতুন এই ডিভাইস৷ দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে মোবাইল ফোনের দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এখনো থ্রি-জি নেটওয়ার্কই পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না, সেখানে বিশ্বের অন্য কিছু অঞ্চলে আরও একধাপ এগিয়ে ফোর-জি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই ফোনে সেকেন্ডে ১০ মেগাবাইট ফাইল ডাউনলোড করা যায়৷ এমন শক্তি ধারণ করতে পাতলা এই মোবাইল ফোনে রয়েছে ১ গিগাহারৎস প্রসেসর৷ সেইসঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে এই ফোনের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে৷

চমকের তালিকার এখানেই শেষ নয়৷ ফোনের একদিকে প্রায় সবটা জুড়েই রয়েছে ১০.৯ সেন্টিমিটার মাপের বিশাল এক পর্দা৷ ৭২০ পি মানের হাই-ডেফিনেশন ভিডিও দেখা যাবে তাতে৷ ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাকে অনায়াসে এইচডি ভিডিও তোলার জন্যও ব্যবহার করা যাবে৷ দ্রুতগতির ফোর-জি নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ইউটিউব'এর হাই-ডেফিনেশন ভিডিও দেখতে পারেন৷ চাইলে নিজের তোলা ভিডিও দ্রুত আপলোড করতে পারেন৷ বেশীক্ষণ ধরে ভিডিও দেখার জন্য ফোনকে দাঁড় করাবার এক স্ট্যান্ডও রয়েছে৷ তারপরেও যদি পর্দা ছোট লাগে কোনো চিন্তা নেই৷ ফোনের এইচডিএমএ সকেটে তার গুঁজে অন্য প্রান্ত লাগিয়ে দিন আপনার নতুন বিশাল এইচডি ফ্ল্যাটস্ক্রিন টেলিভিশনের সঙ্গে৷ তখন ভিডিও প্লেয়ারের কাজ করবে এই ফোন৷

এইচটিসি'র এই ফোনের ব্রাউজারের সঙ্গে কম্পিউটারের ব্রাউজারেরও প্রায় আর কোনো তফাতই নেই৷ এমনকি ফ্ল্যাশ-অ্যানিমেশনও সামলাতে পারে এই ব্রাউজার৷ মাত্র ৩ সেকেন্ডের মধ্যে পর্দায় ফুটে উঠবে ‘গুগল আর্থ'এর মানচিত্র৷ রয়েছে আরও অনেক গুণাগুণ৷

ভবিষ্যতের এই ফোনের কেবল একটাই সমস্যা রয়েছে৷ এই সমস্যার সঙ্গে প্রযুক্তির যত না সম্পর্ক রয়েছে, তার থেকেও বেশী সম্পর্ক রয়েছে বিভিন্ন দেশের নীতিমালার উপর৷ আসলে এই মুহূর্তে দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের জন্য সমান্তরালভাবে একাধিক প্রযুক্তি চালু করার চেষ্টা চলছে৷ যেমন ইউরোপে বর্তমানে ইউএমটিএস মানের উত্তরসূরি হিসেবে ক্রমশঃ এলটিই নামের এক নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনা হচ্ছে৷ এতে সেকেন্ডে ১.২ গিগাবাইট গতিতে ডাউনলোড করা সম্ভব৷ ফলে ‘এইচটিসি ইভো ফোর-জি' আমেরিকায় স্প্রিন্ট নেটওয়ার্কে দিব্যি চললেও ইউরোপে আনলে প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়বে৷ তখন হয়তো ফোনের আলাদা এলটিই সংস্করণ বাজারে আনতে হবে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়