1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্মার্টফোনের পর আসছে স্মার্ট পোশাক

পরনে হাল ফ্যাশানের পোশাক, হাতে স্মার্টফোন৷ কিন্তু পোশাককেই যদি স্মার্ট বা বুদ্ধিমান করে তোলা যায়, তাহলে কেমন হয়৷ ভবিষ্যতে এমন বুদ্ধিমান পোশাক আমাদের জীবনযাত্রা আমূল বদলে দিতে চলেছে৷

এই পোশাকের মধ্যেই কম্পিউটার লুকিয়ে রয়েছে৷ সেটি বাইরের এলইডি ডিসপ্লে নিয়ন্ত্রণ করে৷ পোশাকের মালিকের হৃদযন্ত্রের ছন্দ অনুযায়ী রং বদলায়৷ সেন্সর নাড়ির ফ্রিকুয়েন্সি রেকর্ড করে৷ পোশাকে সেলাই করা তার সেই তথ্য মাইক্রোকনট্রোলারে পাঠিয়ে দেয়৷ সেখান থেকে ডিসপ্লে-তে সংকেত যায়৷

বার্লিনের লিসা ওয়াসং এই পোশাক ডিজাইন করেছেন৷ বছর দুয়েক ধরে তিনি ফ্যাশন ও প্রযুক্তির ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করছেন৷ বিশেষ করে শরীর ও পোশাকের কম্বিনেশন তাঁর কাছে বিস্ময়কর৷ ফ্যাশন-টেক ডিজাইনার লিনা ওয়াসং বলেন, ‘‘এটা আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না৷ আমাদের পেশি সব সময়ে সক্রিয় থাকে৷ কিন্তু আমরা বা অনেকেই ভাবেন না, সেগুলি কীভাবে কাজ করে৷ মানুষ কী করছে, কীভাবে সব চলছে, বিশেষ পোশাক পরে তা বাইরে দেখানো যেতে পারে৷''

নেদারল্যান্ডসের বরে আকার্সডাইক ইনটেলিজেন্ট বা বুদ্ধিমান পোশাক নিয়ে কাজ করছেন৷ তিনি এক হাইটেক-ওভারঅল ডিজাইন করেছেন৷ সেই পোশাক ওয়াইফাই হটস্পট হয়ে উঠতে পারে৷ এটিও আগামী প্রজন্মের ‘কেজো' পোশাকের একটি উদাহরণ৷ ডিজাইনার পাউলিন ফন ডঙেন সোলার সেল লাগানো পোশাক তৈরি করেছেন৷ সেই পোশাকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে স্মার্টফোন চার্জ করা যায়৷ তাঁর কালেকশনের নাম ‘ওয়্যারেবেল সোলার'৷

ভিডিও দেখুন 04:15

স্মার্ট পোশাক – সেটা আবার কী?

নেদারল্যান্ডসের এই ডিজাইনার বুদ্ধিমান পোশাক বড় আকারে তৈরি করতে চান৷ পাউলিন ফন ডঙেন বলেন, ‘‘অনেকের কাছে এমন ফ্যাশন অনেক দূরের কোনো স্বপ্ন৷ আমাদের দেখাতে হবে, এর মধ্যে কত বড় সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে৷ যখন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন বাজারে এলো, তখন অনেকেই জানতেন না, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের উপর এর কী প্রভাব পড়বে৷ আর আজ আমরা এ সব ছাড়া থাকতেই পারি না৷ ওয়্যারেবেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমনই হবে৷''

৭৫ বছর আগে পোর্টেবল কম্পিউটার অভাবনীয় ছিল৷ ১৯৪১ সালে কনরাড সুসে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার তৈরি করেন, যার নাম ছিল জেড-থ্রি৷ ওজন প্রায় এক টন৷ বর্তমানে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচ মোবাইল ইন্টারনেট যুগের সূচনা করছে৷ আগনিয়েশকা ভালোরস্কা বলেন, ‘‘কেউ ভাবে না, যে এটা একটা প্রযুক্তি৷ বা আইফোন একটা প্রযুক্তি৷ দৈনন্দিন জীবনে আমি এটা ব্যবহার করছি৷ এটা কোনো যন্ত্র নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের এক চলমান, সামাজিক সঙ্গী হয়ে উঠেছে৷''

ডিজাইনও এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ কয়েক দশক ধরে কম্পিউটার শুধু আকারে ছোট হয়ে উঠছে না, আরও রঙিন হয়ে উঠছে৷ অ্যামেরিকার ‘অ্যাপেল' কোম্পানি গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রংচংয়ে ডিভাইস বাজারে এনে নতুন মানদণ্ড সৃষ্টি করেছিল৷ তারা কম্পিউটারকে সুন্দর জীবনের প্রতীক ও স্ট্যাটাস সিম্বল করে তুলেছিল৷ আইফোন ও আইপ্যাড এনে অ্যাপেল মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব এনে দেয়৷

আগনিয়েশকা ভালোরস্কা বলেন, ‘‘আমার মতে, ডিজাইন আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে৷ কারণ এখনও এ সব ডিভাইস আলাদা করে চালানো শিখতে হয়৷ অথচ কিছু টাইপ করা, ক্লিক করা বা ট্যাপ করা কিন্তু মোটেই সহজ নয়৷ তার চেয়ে স্বাভাবিক হলো হাত-পা নেড়ে কিছু বোঝানো, কথা বলা, কথা শোনা৷ আমার ধারণা, এই দিশায় আরও অগ্রগতি ঘটবে৷''

শরীর ও প্রযুক্তির মধ্যে ব্যবধান কমে চলেছে৷ ‘ওয়্যারেবেলস'-এর বাজার ফুলে ফেঁপে উঠছে৷ যেমন স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস-ট্র্যাকার হৃৎস্পন্দন রেকর্ড করে পদক্ষেপ মেপে অঙ্ক কষে ক্যালোরি বার্নিং-এর হার বার করে৷ স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়৷ এমনকি ঘুমের সময়েও নজরদারি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব৷ ডিজাইনার লিসা ওয়াসং-এর কাছে, এটা সবে শুরু৷ ফ্যাশন-টেক ডিজাইনার লিনা ওয়াসং বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে ওয়্যারেবেলস ও ফ্যাশন প্রযুক্তি যদি এমনভাবে বদলায়, যে পোশাক আমাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবে, সেটা দারুণ ব্যাপার হবে৷ শীতকালে কাঁপতে হবে না, কারণ পোশাক তাপমাত্রা বুঝে নিয়ে হিটিং সিস্টেম চালু করে দেবে৷''

কাজের জগত হোক, অথবা অবসর সময় – অন্য কোনো যন্ত্র আমাদের জীবনযাত্রা এতটা বদলে দেয়নি, যেমনটা কম্পিউটার করতে পেরেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও