1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশংসায় ওবামা, সমালোচনায় আফ্রিকা

এক নার্স সেরে ওঠার পর ওবামা স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷ তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাতে ইবোলা হানা না দেয়, তার জন্য তিনি আগের মতোই কঠোর৷ এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনায় মুখর আফ্রিকা৷

USA Obama trifft Ebola Patientin Nina Pham 24.10.2014

এক ইবোলা রোগীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

ইবোলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও শুনিয়েছেন এমন আশা জাগানিয়া কথা৷ রেডক্রসেরও একই কথা – ইবোলার আক্রমণে মৃতের সংখ্যা কমছে৷ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাটি লাইবেরিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখে আশাবাদী৷ এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরেও লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ায় যেখানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩০০ মানুষ ইবোলায় মারা যেত, এখন মৃত্যুর হার সেই তুলনায় অনেক কম৷ এখন সপ্তাহে গড়ে একশ জনের মতো ইবোলায় মারা যাচ্ছে৷

এ বিষয়টি বারাক ওবামাকে এতটাই আশাবাদী করেছে যে, তিনি মনে করছেন, ইবোলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বিশ্ব৷ তবে ওবামা এ-ও বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্কাবস্থাতেই থাকবে৷

এই ‘সতর্কাবস্থা' নিয়েই চলছে সমালোচনা৷ অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত তিন দেশ সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং গিনিতে কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিকের যাওয়া এবং সেই দেশগুলো থেকে কারো আসার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করেছে৷ আফ্রিকার দেশগুলো এর সমালোচনায় মুখর৷ সিয়েরা লিওনের তথ্য মন্ত্রী আলফা কানু বলেছেন, ‘‘এটা খুব বৈষম্যমূলক নীতি৷ ওরা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং গিনির ২ কোটি ৪০ লক্ষ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে৷''

আফ্রিকার যেসব দেশে ইবোলা হানা দেয়নি, সেসব দেশ থেকেও আসছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া৷ উগান্ডার সরকারি মুখপাত্র ওফোয়োনো ওপোন্ডোর অভিযোগের আঙুল পুরো পশ্চিমা বিশ্বের দিকে৷ তাঁর মতে, ‘‘পশ্চিমা দেশগুলো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, ইবোলার মতো ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধে যা মোটেই সহায়ক হবে না৷''

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইবোলা সংক্রমণের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা না দিলেও আটক করে চিকিৎসা করানো হচ্ছে৷ গত শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সিয়েরা লিওনে কাজ করে নিউ জার্সিতে ফেরেন ক্যাসি হিকক্স৷ একটু জ্বর আছে দেখে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়ার জন্য আটক করা হয়৷ ক্যাসি হিকক্স নিজেও নার্স৷ তাই প্রশাসনের এমন আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তাঁর আইনজীবী বলেছেন, ‘‘আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত৷'' তবে নিউ জার্সির গভর্নর অবশ্য ইবোলায় সংক্রমিত বলে সন্দেহ হলেই কাউকে আটক করে চিকিৎসা দেয়াকে সমর্থনই করেছেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া সরকারে দায়িত্ব৷''

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক নার্স অ্যাম্বার ভিনসনের বেলায় সে দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করা হয়েছে৷ লাইবেরিয়া থেকে আসা এক ইবোলা রোগীকে সারিয়ে তুলতে গিয়ে অ্যাম্বার নিজেই ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ এখন তিনি সুস্থ৷ টেক্সাসের হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন৷ তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়েই ইবোলা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশংসা করেছেন বারাক ওবামা৷ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাঁরা ইবোলার বিরুদ্ধে লড়তে পশ্চিম আফ্রিকায় যাচ্ছেন তাঁদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এমন মানুষগুলোর হাততাল, ধন্যবাদ এবং সমর্থন প্রাপ্য৷''

কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর ‘সতর্কাবস্থা'-র কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) পড়েছে মহাদুশ্চিন্তায়৷ সংস্থাটি মনে করে, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন নীতির কারণে ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলোতে প্রয়োজন মতো স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে৷ ডাব্লিউএইচও-র মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানিয়েছেন, ইবোলার প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়া দেশগুলোতে্ এ মুহূর্তেই অন্তত ৫০০০ বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন৷

গত মার্চে পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইবোলার সংক্রমণ দেখা দেয়৷ এ পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে ইবোলা৷

এসিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন