1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনীর অন্যতম সংগঠক মিনারা

পাক সেনাদের টহল ব্যাহত করতে কখনও পানিতে নেমে আবার কখনও গাছের উপর থেকে গ্রেনেড ছুঁড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিনারা বেগম৷ আগরতলায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনী গঠন করেছেন৷

‘‘এরপর আমরা গেলাম ভিটগড়ে নিখিল দা'র বাড়িতে৷ উনি তখন ঐ অঞ্চলের যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চায়, তাদেরকে ওপারে পারাপার করতেন৷ তিনি আমাদেরকে একটা জায়গায় রেখে দিলেন৷ কিন্তু সেখানে অনেক বাড়ি-ঘর থাকলেও অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় আগেই সবাই চলে গেছে৷ কোন লোকজন নাই৷ সেই জনমানবশূন্য গ্রামে আমরা দু'টি মেয়ে আর নাসির মামা থাকলাম৷ আর নিখিল দা খাবার-দাবার আয়োজন করেন৷ এসময় রাতের বেলা আমরা তাঁর সাথে যুদ্ধের কাজ করতাম৷ চৌদ্দগ্রামের পাশ দিয়ে যে সিএন্ডবি রোড আগরতলা গেছে সেখানে পাক সেনারা টহল দিতো৷ যাতে করে কোন মুক্তিযোদ্ধা ওপারে পার হতে না পারে কিংবা কোন মুক্তিযোদ্ধা এপারেও না আসতে পারে৷ আমাদের কাজ ছিল পাক সেনাদের এই টহল বাহিনীটাকে নস্যাৎ করে দেওয়া৷ আমি, নিখিল, ফোরকান আমরা অনেক রাতে তাদের দিকে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারতাম৷ পাক সেনাদের গাড়ির চাকা নষ্ট করে ফেলতাম৷ ফলে তারা আর টহল দিতে পারতো না৷ অনেক সময় এমন হয়েছে যে, গ্রেনেড ছুঁড়ে পানিতে ডুব দিয়ে অপেক্ষা করেছি৷ ওরা চলে গেলে তখন পানি থেকে উঠতাম৷ পায়ে জোঁক লেগে থাকতো৷ জোঁক টেনে টেনে ছুট'তাম৷ জোঁকের কামড় সহ্য করতে না পেরে আমি একদিন হিজল গাছে চড়লাম৷ পাক সেনারা গুলি ছুঁড়ছিল৷ কিন্তু ওরা তো সাধারণ উচ্চতায় গুলি করে৷ গাছের উপরেও গুলি করে না আবার পানিতেও গুলি করতো না বলে সুবিধাই হয়েছিল৷ পাক সেনারা যখন চলে গেল তখন প্রায় ভোর হয়ে গেছে৷ আমি গাছ থেকে নেমে আসলাম৷ তখন পথে দু'একজন লোককে দেখা গেল৷ আমি তখন লুঙ্গি পরতাম এবং মাথায় গামছা বেঁধে রাখতাম৷ কিন্তু গাছ থেকে লাফিয়ে নামার ফলে আমার লম্বা চুল বের হয়ে গেছে৷ তখন একজন বলছে, ‘আরে, এ যে মাইয়া মানুষ৷ গাছে চড়ে বসে ছিল৷' আমি চলে আসলাম৷ কিন্তু ওরা বলাবলি করছিল যে, ‘এরা মুক্তি বাহিনীর৷ মাইয়া মানুষ, পুরুষ মানুষ সব কাজ করতাছে এক সাথে'৷ এছাড়া সেখানে আশেপাশে যে ক'জন হিন্দু মহিলা ছিল তাদেরকে আমরা কলমা শিখাতাম, নামাজের শিক্ষা দিতাম এবং মুসলমান মেয়েদের মতো করে কাপড় পরা শিখাতাম৷ যাতে করে বিপদ হলে আত্মরক্ষা করতে পারে৷ রাতের বেলা পাক সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতাম৷ আর দিনের বেলায় এসব কাজ করতাম৷'' এভাবেই মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের সাহসী এবং কষ্টসাধ্য কর্মকাণ্ডের কথা বলছিলেন বীর নারী মিনারা বেগম৷

Freiheitskämpferin Minara Begum Jhunu und Edward M. Kennedy

মার্কিন সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির সঙ্গে মিনারা বেগম শ্রআগরতলা, ১৯৭১)

কিছুদিন পর আগরতলায় চলে যান মিনারা বেগম এবং তাঁর সঙ্গীরা৷ সেখানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মিলিত হন তাঁরা৷ সেখানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনী তৈরি করেন তাঁরা৷ এই বাহিনীর পরিচালনা পরিষদে দপ্তর সম্পাদিকা ছিলেন মিনারা বেগম৷ এই বাহিনীর নেতৃত্বে আরো যারা ছিলেন তাঁদের মধ্যে ফোরকান বেগম, ফরিদা মহিউদ্দীন, জাহানারা হক অন্যতম৷

অডিও শুনুন 04:00

সাক্ষাৎকারটি শোনার জন্য এখানে ক্লিক করুন

এই বাহিনীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মিনারা বেগম জানান, ‘‘স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনীর অনেকগুলো কাজ ছিল৷ তার মধ্যে সেবিকা হিসেবে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া৷ কারণ সেসময় অনেক সেবিকা প্রয়োজন ছিল৷ মুক্তিযোদ্ধারা আহত হয়ে আসতেন৷ তাঁদের চিকিৎসা সেবার জন্য এটা জরুরি ছিল৷ তাই আমরা শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে মেয়েদের সংগ্রহ করে তাদেরকে সেবিকা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দিতাম আমরা৷ এছাড়া কিছু বিপ্লবী বই সংগ্রহ করে আমরা একটি পাঠাগার গড়ে তুলি৷ এসব বই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পড়তে দিতাম৷ যাতে তাদের মনোবল ভেঙে না পড়ে৷ এছাড়া নারীদের আরেকটি দলকে গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ কিছুদিন পর নয় জন মেয়েকে বাছাই করে আরো উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়৷ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় লেম্বুচড়া প্রশিক্ষণ শিবিরে৷ সেখানে আমিনুল হক ছিলেন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক৷ আর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন ভারতের সেনা বাহিনীর মেজর আর সি শর্মা ও মেজর কে বি সিং৷ ছোট-খাটো অস্ত্র চালনা তো আমরা আগেই শিখেছিলাম৷ সেখানে আমাদের শেখানো হয় কীভাবে বিমান বন্দর কিংবা বিমান ধ্বংস করতে হবে সেসব কৌশল৷ এসময় আমাদের খুব গোপন জায়গায় রাখা হতো৷ নেতৃবৃন্দ কয়েকজন ছাড়া কেউ জানতো না যে আমরা কোথায় আছি৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও