1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছে চেরনোবিল

গানা কনস্তান্তিনোভার তার দৈনন্দিন জীবন যাপনে তিনি খুব খুশি৷ প্রতিদিন তিনি চলে যান বনে৷ কুড়িয়ে আনেন ব্যাঙের ছাতা৷ তেজস্ক্রিয়তার ভয়ে তিনি আতঙ্কিত নন৷

default

অভিশপ্ত চেরনোবিল, দুর্ঘটনার আগের ফাইল ছবি

২৫ বছর আগে চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা এখনো কেউ ভোলেনি৷ তীব্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল আশেপাশের ৭৬টি বিভিন্ন শহর এবং গ্রামে৷ এত বছর পর চেরনোবিলের মানুষের জীবন যাপন কি স্বাভাবিক হয়েছে? জাপানের ফুকুশিমা আরেকবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল চেরনোবিলের ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা৷

গানা কনস্তান্তিনোভার বয়স ৭৭ বছর৷ চেরনোবিলের পরমাণু চুল্লি যেখানে সক্রিয় ছিল, সেখান থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে তিনি বসবাস করেন৷ বেশ স্বাভাবিকভাবেই তিনি বললেন, দৈনন্দিন জীবন যাপনে তিনি খুব খুশি৷ প্রতিদিন ভোরে তিনি চলে যান বাড়ির কাছে বনে৷ সেখান থেকে কুড়িয়ে আনেন ব্যাঙের ছাতা, রান্নার জন্য৷ আর বাড়ির ঠিক পেছনেই তিনি তৈরি করেছেন ছোট একটি সবজির বাগান৷ তিনি কি মোটেই ভয় পাচ্ছেন না? তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কি তাহলে একেবারেই নেই?

না, ঘটনা সেরকম নয়৷ চেরনোবিলের পরমাণু চুল্লির আশেপাশে এখনো বসবাস করছে প্রায় কয়েকশ পরিবার৷ এবং এরা কেউই ভীত বা আতঙ্কিত নন৷ গানা কনস্তান্তিনোভা আনন্দের সঙ্গে জানালেন,‘‘আমি চেরনোবিলে বেশ ভাল আছি৷ এখানে বাতাস পরিষ্কার, নদীটি কাছেই অবস্থিত৷ সবকিছুই আগের মত৷ ঘাসের ওপর দিয়ে আমরা হাঁটা-হাঁটি করি৷ গ্রীষ্মকালে পুরো জায়গাটি ছেয়ে যায় ফুলে৷''

Tschernobyls Strahlenopfer

চেরনোবিলের নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে

কঠিন নিয়ম-কানুন চলছে অনেকেই

অনেকের কাছেই পুরো বিষয়টি অবাক করার মতো৷ কারণ এখনো বাইরের শহর বা দেশ থেকে চেরনোবিলে কেউ প্রবেশ করলে তাঁকে মেনে চলতে হয় নানা নিয়ম কানুন৷ গাছপালা বা পুরানো বাড়িঘর হাত দিয়ে ছোঁয়া পুরোপুরি নিষেধ৷ খোলা আকাশের নীচে কোন কিছু খাওয়া বা পান করা নিষেধ, এমনকি ধূমপানও করা যাবে না৷

চেরনোবিল বিস্ফোরণের ২৫ বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি৷ ২৫ বছর পূর্ণ না হতেই পৃথিবী দেখলো আরেকটি পরমাণু চুল্লির বিপর্যয়৷ জাপানের ফুকুশিমা৷ তবে জাপানের এই বিস্ফোরণে চিন্তিত নয় গানা এবং তার আশেপাশের মানুষরা৷

১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল চেরনোবিলের চতুর্থ চুল্লিতে বিস্ফোরণ হয়৷ তাৎক্ষণিকভাবে তৎকালীন সোভিয়েত সরকার চুল্লির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে থেকে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন৷ তবে এর কিছুদিন পর থেকেই মানুষরা ফিরে আসতে শুরু করে তাদের নিজ বাড়িতে, নিজস্ব ভুবনে৷

গানা আরো জানান, ‘‘তেজস্ক্রিয়তার কোন কিছুই আমি টের পাই না৷ আমি মাটিতে টমেটো লাগাচ্ছি, শশা হচ্ছে, আলুর চাষ করছি৷ সেগুলোই খাচ্ছি৷ আমি কোন কিছুকেই ভয় পাই না৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়