1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

স্বাদে কী বা আসে যায়

ইইউ-তে খাদ্যপণ্যের ওপর লেবেল সাঁটার সময় কথাটা মনে রাখতে হয়, কেননা ওয়াইন বা চিজ বা সসেজ খেতে কেমন হল, তার চেয়েও বড় কথা, সেটা সত্যিই ওমুক দেশের তমুক জায়গার ওয়াইন বা চিজ কিংবা সসেজ কিনা?

‘জিওগ্র্যাফিকাল ইনডিকেশন অ্যান্ড ট্র্যাডিশনাল স্পেশ্যালিটিজ' অর্থাৎ ভৌগোলিক পরিচয়চিহ্ন এবং প্রথাগত সুখাদ্যের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন-তিনটি স্কিম আছে৷ প্রথমটি হল প্রোটেক্টেড ডেজিগনেশন অফ অরিজিন বা পিডিও; দ্বিতীয়টি, প্রোটেক্টেড জিওগ্র্যাফিকাল ইনডিকেশন বা পিজিআই; এবং ট্র্যাডিশনাল স্পেশ্যালিটিজ গ্যারান্টিড বা টিএসজি৷

২০১২ সালের নীতি ও আইন অনুযায়ী এই ভাগাভাগি৷ উদ্দেশ্য হল: একটি বিশেষ এলাকায় যে পণ্য উৎপাদিত হয়েছে, শুধু সেই পণ্যই সেই এলাকার নাম বহন করতে পারবে – অবশ্যই বাণিজ্যিক কারণে৷ একে এক ধরনের ট্রেডমার্ক বা কপিরাইট বললে বোধহয় সকলে বুঝতে পারবেন, যার আদত আইনটি ১৯৯২ সাল থেকে চালু৷

এই সব আইনের বলে ইউরোপ জুড়ে বিভিন্ন সুরা, চিজ, হ্যাম, সসেজ, অলিভ, ভিনিগার এমনকি পাঁউরুটি, ফলমূল কিংবা মাংসও সুরক্ষিত৷ গর্গনজোলা চিজ বা পার্মিজানো চিজ, কামমবেয়ার চিজ, শ্যাম্পেন ওয়াইন – এ গুলো সবই তাদের এলাকার নাম বহন করছে – গর্বভরে৷ ফ্রান্সের ওভ্যারনিয়ঁ অঞ্চলের রকফোর শহরের কাছের পাহাড়ের গুহায় রেখে যে চিজ তৈরি করা হয়, শুধু তাই রকফোর চিজ হিসেবে পরিচিতি পাবে৷

জার্মানির কোনো সুপারমার্কেটের চিজ ডিপার্টমেন্টে গেলেই এই সব নাম করতে হয় কিংবা শুনতে হয়৷ গোড়ায় তো অসুবিধেই হতো, বিশেষ করে চিজ নিয়ে৷ এতো সব নামকরা চিজ, অথচ খেতে কী অখাদ্য – এমন মনে হতো৷ আজ অভ্যেস হয়ে গিয়েছে, তাই নিজেই গিয়ে গর্গনজোলা কিংবা কামমবেয়ার কিনি – রান্নার জন্যে নয়, পাঁউরুটির ওপর দিয়ে খাবার জন্য

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

অবশ্য কোন খাদ্য, সুখাদ্য বা অখাদ্য (!) কোন দেশ থেকে আগত, তার নির্দেশ এর আগেও পাওয়া যেতো, যেমন ফ্রান্সের আপেলাসিয়ঁ দো'রিজিন বা ইটালির দেনোমিনাৎসিওনে দি অরিজিনে৷ কিন্তু এই সব খুঁটিনাটি দেখে কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়া করার মতো সময় বা সামর্থ্য আজ অধিকাংশ মানুষেরই নেই বলে মনে হয়৷ সকলেরই তাড়া, আর সকলেই খুঁজছেন, কোন বস্তুটি কম দামে পাওয়া যায়৷ তবুও পণ্য বিক্রয়ের প্রথম পন্থা হল পরিচিতি: ওটা যেন অনেকটা পাসপোর্টের মতো৷ আপনি জার্মানির নাগরিক হলে বহু দেশে ঢুকতে আপনার ভিসা লাঘবে না – আমার মতো বাঙালি-জার্মানদেরও নয় – কেননা ধরে নেওয়া হবে, জার্মানির লোক যখন, তখন আর বেচাল কী করবে?

সেইভাবেই, লেবেলে যাই লেখা থাক না কেন, প্যাকেজ কিংবা বোতলের ভেতরে কী আছে এবং সেটা যে আদতে কোন দেশ থেকে আসছে, সেটা সব সময়ে হলপ করে বলা যায় না৷ তবুও এই বিশ্বায়নের যুগেও মানুষ খুঁজছে তার গ্রামগঞ্জ, তার সেই ছোট্ট, সীমায়িত বিশ্বকে৷ আর খাবার সময় যেটা পাচ্ছে সেটা হল: সীমার মাঝে অসীম তুমি...

নির্বাচিত প্রতিবেদন