1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

স্বাক্ষরিত হলো ভারত-জার্মান ‘গ্রিন এনার্জি’ চুক্তি

জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউকের ৬-দিনের ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে সই হলো ‘‘গ্রিন এনার্জি করিডর’’ সংক্রান্ত দুটি চুক্তি৷ এই চুক্তির অধীনে জার্মানি প্রায় ৯০ কোটি ইউরো ঋণ দেবে ভারতকে৷

জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর সঙ্গে৷ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দু'দেশের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মত বিনিময় হয়৷ দু'দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা প্রসারিত এবং বহুমুখী করার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করা হয়৷ যে সব দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়, তার মধ্যে আছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা৷ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এসেছেন ৮০ সদস্যের এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদল

এই সফরে ভারত ও জার্মানির মধ্যে সই হয় দুটি উন্নয়ন সহযোগিতা চুক্তি, যার অধীনে জার্মানি ভারতকে দেবে প্রায় ৯০ কোটি ইউরো ঋণ, যার মধ্যে ৫৪ লাখ ইউরো যাবে জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কনসালটেন্সি প্রকল্পগুলির জন্য৷ ঋণ হিসেবে দেয়া এই অর্থ ব্যয় করা হবে ‘গ্রিন এনার্জি করিডর'' প্রকল্পে৷ উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের এপ্রিলে বার্লিনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তঃসরকার পরামর্শদাতা বৈঠকে এই ‘‘গ্রিন এনার্জি করিডর'' প্রকল্পের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়৷

Gauck Ankuft in Neu Delhi

৬-দিনের সফরে ভারতে রয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট

১২০ কোটি লোকের দেশ এই ভারত৷ চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর সব থেকে বেশি কার্বন নির্গত হয় ভারতে৷ অথচ ভারতের মত উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক৷ তাই জার্মানি মনে করে বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি ও জলবিদ্যুতের মত দুষণমুক্ত বিকল্প বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জরুরি৷

এই চুক্তিতে সই করেন জার্মান প্রতিনিধিদলের অন্যতম শীর্ষ সদস্য, জার্মানির অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা মন্ত্রী গ্যার্ড ম্যুলার এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী পি.চিদাম্বরম৷ চুক্তি সই হবার পর ম্যুলার দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতার রোডম্যাপ নতুন করে সাজানো হয়েছে৷ কারণ মনে রাখতে হবে, ভারত এক উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে৷ তাই প্রচুর বিনিয়োগ দরকার৷ ভারতের সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে জার্মানি জোর দিচ্ছে এনার্জি-কুশল ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ওপর৷ ২০১৩-তে বিশ্বের বৃহত্তম সৌরশক্তি প্রকল্প চালু হয় মহারাষ্ট্রে৷ প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা সবথেকে জরুরি৷ তাহলেই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব রোধ করা যাবে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের পথও হবে সুগম৷ উল্লেখ্য, বিশ্বের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখনো ভারতে সব থেকে বেশি৷

জার্মান প্রেসিডেন্টের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, সহমূল্যবোধের ভিত্তিতে,আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত-জার্মান কৌশলগত সহযোগিতার মজবুত মঞ্চে দাঁড়িয়ে জি-ফোর দেশ হিসেবে এবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মৌলিক সংস্কারে সচেষ্ট হতে হবে৷ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভে জি-ফোরের চারটি দেশ ভারত, ব্রাজিল, জাপান ও জার্মানি একে অপরকে সমর্থন করবে, বলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ ইউরোপে ভারতের সবথেকে বড় বাণিজ্যিক পার্টনার জার্মানি৷ ২০১২ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৮০০ কোটি ইউরো৷ এই পরিমাণ আরো বাড়া সম্ভাবনা উজ্জ্বল৷ অনুরূপ মনোভাব ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট গাউক বলেন, বিশ্ব নিরাপত্তা,উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জলবায়ু সুরক্ষার মত বৈশ্বিক ইস্যুগুলিতে দু'দেশের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়