1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

স্বর্ণভাণ্ডারের খোঁজে খনন: পেছনে স্বপ্নাদেশ না বিজ্ঞান?

উত্তর প্রদেশের উন্নাও এলাকায় দেড়শো বছরের প্রাচীন এক কেল্লা-চত্বরে লুকানো আছে এক হাজার টন সোনা – এই মর্মে এক সাধু স্বপ্নাদেশ পান৷ ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রাথমিক সমীক্ষার পর সোনা উদ্ধারে কাজে নেমে পড়েছে সরকার৷

একবিংশ শতাব্দীতে স্রেফ স্বপ্নাদেশের ভিত্তিতে এত বড় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু করা বেমানান হবে মনে করে সরকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগকে দিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা করায়৷ তাতে মাটির ৬০-৬৫ ফুট নীচে নাকি অ-চৌম্বক ধাতুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে বলা হয়েছে৷ তারপরই হৈ হৈ কোরে সরকারের নির্দেশে শাবল, কোদাল, গাঁইতি নিয়ে খননকার্য শুরু করা হয় উত্তর প্রদেশের উন্নাও এলাকার ডৌড়িয়া খেড়া গ্রামে রাজা রাম রাও বক্স সিং-এর দেড়শো বছরের প্রাচীন দুর্গ চত্বরে৷

মাস তিনেক আগে শোভন সরকার নামে এক সাধুকে নাকি স্বপ্নে দেখা দিয়ে রাজা স্বয়ং বলেছিলেন, ‘‘তাঁর দুর্গের অমুক জায়গায় মাটির নীচে আছে এক হাজার টন সোনা''৷ উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালে সিপাহিবিদ্রোহের সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে নানা সাহেবের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন রাজা রাম রাও সিং৷ জনশ্রুতি যে পূর্বপুরুষদের বহু সোনা তাঁর হাতে আসে৷ আজকের দামে হিসেব করলে ঐ সোনার দাম হবে প্রায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকা৷ আর্থিক টানাটানির বাজারে এত লক্ষ কোটি টাকার স্বর্ণভাণ্ডারের শেষ না দেখে কী ছাড়া যায়? আপনিই বলুন?

এখান থেকেই শুরু হয়েছে স্বপ্নাদেশ বনাম বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দ্বন্দ্ব৷ সরকারের প্রত্বতাত্ত্বিক বিভাগের দাবি, তাঁরা বৈজ্ঞানিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণে ছাড়া কাজ করতে পারেনা, বলেন প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অতিরিক্ত মহা-নির্দেশক৷ প্রথমে ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ ঐ স্থান জরিপ করার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট দেন৷ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ঐ স্থানের ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলি সমীক্ষা করে৷ তাতে দেখা যায়, ১৮৬২ সালের পর থেকে ঐ এলাকা ছিল খুবই সমৃদ্ধ৷ গত কয়েক দিনে পূর্ত বিভাগ ৬/৭ মিটার পর্যন্ত মাটি খোঁড়ে৷ এরপর খুব সাবধানে মাটি খোঁড়ার কাজ করবে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ৷ কারণ গঙ্গা নদীর কাছাকাছি বলে একটা গভীরতার পর জল উঠতে পারে, এক সাক্ষাৎকারে জানান পুরা তাত্ত্বিক বিভাগের অতিরিক্ত মহানির্দেশক৷

এই নিয়ে আশেপাশের এলাকার মানুষজনদের বাঁধভাঙা কৌতূহল৷ এই মাত্রাতিরিক্ত কৌতূহল অন্য কোনো বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই আশঙ্কায় কড়া পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তবে একটা প্রশ্ন বাতাসে ভাসছে, এতদিন কেন এটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল? জঙ্গলে ঢাকা নির্জন পরিত্যক্ত জায়গাটা ঘিরে নানা ভৌতিক কাহিনি প্রচলিত৷ কেউ রটিয়েছে ওখানকার গুপ্তধন যক্ষের৷ হাত দেবার চেষ্টা করলে সমূহ সর্বনাশ৷

উন্নাওয়ের পাশ্ববর্তী ফতেপুরে ভগ্নস্তুপে পরিণত আদমপুর নামে একটি গ্রামেও নাকি অনুরুপ স্বর্ণভাণ্ডার মাটির নীচে চাপা পড়ে আছে এই রকম একটা খবর চাউর হয়েছে৷ তার পরিমাণ নাকি আরো বেশি প্রায় আড়াই হাজার টন৷ এলাকার লোকেরা বিভিন্ন গল্পকথা, কল্পকাহিনি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত৷

সাধু শোভন সরকার মনে করেন, ঐ সোনা তোলা উন্নাও থেকে সহজ৷ তবে সরকারি তরফে খননকাজে হাত দেয়া হয়নি৷ তবে উন্নাওতে সোনাভাণ্ডারের হদিশ পাওয়া গেলে আদমপুরও বাদ যাবে না, এমনটা বিশ্বাস৷ সোনা যদি মেলেও তাহলে স্বপ্নাদেশের অকাট্যতা মেনে নিতে যুক্তিবাদীরা নারাজ৷ তাঁদের মতে, সেটা হবে একটা আকস্মিক ঘটনা ছাড়া আর কিছুই না৷ রবি ঠাকুর টেনে বলা যায়, ‘‘যে যা বলুক ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই''৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন