1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

স্বজনদের ঈদ কাটবে রানা প্লাজার সামনে

রানা প্লাজা ধসের পর সাড়ে ৩ মাস পার হলেও এখনো ৩২৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন৷ তাঁদের খোঁজে স্বজনরা এখনো ছবি নিয়ে ঘুরে বেড়ান৷ পুলিশের হামলা, প্রশাসনের চাপ কোন কিছুই তাদের রানা প্লাজার সামনে থেকে সরাতে পারছে না৷

মেয়ে আলেয়া খাতুনের (২৪) খোঁজে শহিদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী আয়েশা বেগম সাভারে আসেন সেই ২৪শে এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পরদিনই৷ এরপর মাঝে তাঁরা একবার তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু আবার ফিরে এসেছেন৷ তাঁদের সন্তান আসমাকে ছাড়া তারা কীভাবে ঈদ করবেন! এবার তাঁদের জীবনে ঈদ আসবেনা৷ তাঁরা রানা প্লাজার সামনেই থাকবেন ঈদের দিন৷ তাঁদের মেয়ে আলেয়া রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ গার্মেন্টস-এ কাজ করতেন৷ গত ঈদেও আলেয়া বাবা-মাকে নতুন কাপড় কিনে দিয়েছিলেন৷ সেই কথা মনে করে অঝোরে কাঁদেন আলেয়া-শহিদুল দম্পতি৷ আর এই ঈদের তাদের মেয়ে নিখোঁজ৷ থানা, পুলিশ, প্রশাসন, ডিএনএ ল্যাব – সবখানে ছুটেও মেয়ের খোঁজ পাননি৷ তারপরও অপেক্ষা, যদি খোঁজ মেলে৷ জানতে চেয়েছিলাম, কতদিন অপেক্ষা করবেন? জবাবে দু'জনই বলেন, যতদিন বেঁচে আছেন৷

একই ভাবে সোহেল মিয়ার (২৫) খোঁজে এখনো রানা প্লাজার সামনে আসেন তাঁর মা তাহেরা বেগম৷ তাঁদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে৷ সোহেল মিয়া নিউ ওয়েভ বটমের সিউইং সেশকনে কাজ করতেন৷ ছেলেকে খুঁজতে সব জায়গায় গিয়েছেন তাহেরা বেগম৷ কিন্তু কোথাও পাননি৷ তাঁরও ঈদ কাটবে রানা প্লাজার সামনে৷

শুধু শহিদুল, আলেয়া বা তাহেরা বেগম নয় – এ রকম আরো অনেকের দিনরাত এখনো রানা প্লাজার সামনেই কাটে৷ বৃষ্টি, রোদ কিছুই তাদের দমাতে পারেনা৷ দমাতে পারেনা পুলিশের পিটুনি৷ স্বজনের খোঁজে রানা প্লাজার সামনে থাকা আমির হোসেন জানান, গত সপ্তাহেও পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে৷ পুলিশ প্রশাসন তাঁদের চাপ দিচ্ছে রানা প্লাজার সামনে থেকে চলে যেতে৷ কিন্তু তাঁরা যাবেননা৷ ঈদেও তারা রানা প্লাজার সামনেই থাকবেন৷ তাঁরা সবাই গত ৩ দিন ধরে সেখানে গণ অবস্থান নিয়েছেন৷

Bangladesch Tote bei Einsturz von Textilfabrik

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১,১২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে

২৪শে এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১,১২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়৷ সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্লা ডয়চে ভেলেকে জানান, এর মধ্যে ৮২৮টি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ আর ৩০১ টি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷ তিনি জানান, ৩০১টি বেওয়ারিস লাশ দাফন করা হলেও সাভার উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৩২৯ জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন তাদের আত্মীয়- স্বজন৷ বেওয়ারিস লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিখোঁজ আরো ২৮ জনের ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং তদন্ত হবে বলে জানান তিনি৷

ঢাকা মেডিক্যালের ডিএনএ ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে জানান, তাঁরা লাশের ডিএনএ নমুনা ছাড়াও নিখোঁজদের আত্মীয় স্বজনের ডিএনএ নমুনা নিচ্ছেন৷ এ পর্যন্ত ৬০১ জন আত্মীয় স্বজনের ডিএনএ নমুনা নিয়েছেন৷ তিনি আশা করেন, ঈদের পর ১ মাসের মধ্যেই ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানাতে পারবেন৷ তাঁরা ৮০ ভাগ কাজ শেষ করেছেন৷

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ডয়চে ভেলেকে জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের এ পর্যন্ত পর্যন্ত তাঁদের থানায় ২৭৫টি জিডি করেছেন৷ তিনি নিখোঁজ শ্রমিকদের আত্মীয় স্বজনদের ওপর হামলা বা রানা প্লাজার সামনে থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেন৷

এদিকে এখনো পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ১ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে৷ আর আহতরাও পেয়েছেন বিচ্ছিন্নভাবে৷ তবে নিখোঁজদের পরিবার কিছুই পায়নি৷ এই ঈদে তাঁদের খোঁজ খবর নিচ্ছেনা কেউ৷ তবে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি সংগঠন তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঈদ উদযাপনের ব্যবস্থা করেছে৷ সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সরকার ঈদে কোন বরাদ্দ না দেয়ায় তাদেরকে কোন সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছেনা৷

ঈদের আগেই চলে গেলেন মনোয়ার

মৃত্যুর সঙ্গে ১০৮ দিন পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেলেন পোশাক শ্রমিক মনোয়ার হোসেন(২২)৷ তিনি রানা প্লাজার ৩য় তলার নিউওয়েভ গার্মেন্টস-এ কাজ করতেন৷ ভবন ধসের ৩ দিন পর তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷ তাঁর ঘাড় এবং হাত-পা ভেঙে গিয়েছিল৷ সাভার এনাম মেডিক্যালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তার চিকিত্‍সা চলছিল৷ দুবার অস্ত্রোপচার করার পরও তাঁর জ্ঞান ফেরেনি৷ অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান৷ তাঁর গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়৷ তাঁকে নিয়ে এখন রানা প্লাজা ধসে নিহতের সংখ্যা দাড়াল ১,১৩০ জনে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন