1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্পঞ্জ চাষ আফ্রিকায় সমৃদ্ধি এনে দিচ্ছে

টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য বেশ কাজে লাগতে পারে৷ আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় এমন কিছু প্রকল্প সাফল্যের দাবি করতে পারে৷ প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সেখানকার মানুষ আয় বাড়ানোর উপায় খুঁজে পেয়েছেন৷

আইডিয়াটা সুইজারল্যান্ডের ক্রিস্টিয়ান ফাটারলাউস-এর মাথায় এসেছিল৷ ২০০৩ সালে তিনি প্রথমবার জাম্বিয়ানি গিয়ে মোহামেদ ওকালার সঙ্গে আলাপ করেছিলেন৷ দু'জনে মিলে ‘মেরিনকালচার্স' নামের সংগঠন চালু করেন৷ তখনই তাঁরা বুঝেছিলেন যে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ বেশ বিপজ্জনক৷ সংগঠনের সহ প্রতিষ্ঠাতা মোহামেদ ওকালা বলেন, ‘‘চাকরি খোঁজার সময়ে মানুষ বোঝে, যে তারা সংগ্রাম চালাচ্ছে৷ কিছু মানুষ ঝোপঝাড়ে ঢুকে জঙ্গল কাটে, যেটা উচিত নয়৷ ফলে আরও বিপর্যয় আসছে৷ অর্থাৎ এখানকার মানুষের কোনো বিকল্প উপায়ে সমস্যা সমাধানের উপায় নেই৷''

সংগঠনের আর এক সহ প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিয়ান ফাটারলাউস বলেন, ‘‘প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি সেই সব নারীদের পর্যবেক্ষণ করেছিলাম, যারা সামুদ্রিক আগাছা সংগ্রহ করেন৷ আমার খুব ভালো লেগেছিল যে, তাঁরা শুধু শিকার ও সংগ্রহই করেন না, তাঁরা চাষের কাজও করেন৷ কিন্তু যখন দেখলাম তাঁরা কত আয় করছেন, তখন মনে হলো, এমন কোনো সামুদ্রিক পণ্য থাকা উচিত যা এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানে সাহায্য করবে, তাঁরা যথেষ্ট আয়ও করতে পারবেন৷''

এক মাসেই কাজিয়া ওমর আলি ও নাসিরি হাসান হাজি সামুদ্রিক আগাছা বিক্রি করে প্রায় ৩০ ডলার আয় করেছেন৷ আজকাল কখনো একটি স্পঞ্জ বিক্রি করেই এত টাকা হাতে আসে৷ তবে নতুন কাজের জন্য তাঁদের সাঁতার শিখতে হয়েছে৷ কারণ স্পঞ্জের ফার্ম সমুদ্রতট থেকে কয়েক'শ মিটার দূরে অবস্থিত৷ এক কিলো স্পঞ্জ দিনে এক টন পানি পাম্প ও ফিল্টার করে৷ স্পঞ্জ চাষি কাজিয়া ওমর আলি বলেন, ‘‘সামুদ্রিক ঘাসের চাষ খুবই কঠিন পরিশ্রমের কাজ৷ সব সময়ে ভিজে বস্তা বইতে হয়৷ স্পঞ্জ ফার্মে কখনো ভারি কাপড় পরা যায় না৷''

চাহিদা খুবই বেশি৷ স্পঞ্জ ফার্মগুলি বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে৷ কিন্তু ‘মেরিনকালচার্স' টেকসই পদ্ধতিতে কাজ করতে চায়৷ সব চারাই নিজেদের উৎপাদন থেকে আসে৷ স্পঞ্জ তোলার জন্য প্রস্তুত হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে৷ মোহামেদ ওকালা বলেন, ‘‘কারণ সমুদ্র আসলে জমির মতো৷ ফলন তুলে সেই জায়গায় বীজ বপণ না করলে সেগুলি হারিয়ে যাবে৷ ফলনের পর বীজ বপণ করলে বার বার উৎপাদন হবে৷''

স্পঞ্জের এক সহজাত জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে৷ তাই অসুস্থ মানুষ ও অ্যালার্জির রোগীদের জন্য এটি খুব উপকারী৷ এমনকি স্পঞ্জ সিদ্ধও করা যায়৷ স্পঞ্জ চাষিরা দিনের ফলন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেগুলি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করে তোলার কাজ করেন৷ স্পঞ্জ চাষি নাসিরি হাসান হাজি বলেন, ‘‘সমুদ্র থেকে স্পঞ্জ তোলার পর আমাদের সেগুলি প্রস্তুত করতে ও শুকাতে হয়৷ সেগুলি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বালু, ঝিনুক বা ছোট ছোট প্রাণী বেছে বার করে নিতে হয়৷ তারপর সেগুলি ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়৷''

একটি স্পঞ্জ যত্ন করে রাখলে প্রায় ২০ বছর তা ব্যবহার করা যায়৷ কাজিয়া ওমর আলি বলেন, ‘‘মানুষ যে স্পঞ্জ ব্যবহার করে স্নান করে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না৷ আমি নিজেও একটি ব্যবহার করতে শুরু করেছি৷''

‘মেরিনকালচার্স' সংগঠন এর মধ্যে নতুন একটি প্রকল্পও শুরু করেছে৷ প্রবাল দিয়ে অ্যাকোয়াফার্মিং-এর এক প্লান্টেশন গড়ে তুলছে এই সংগঠন৷ ক্রিস্টিয়ান ফাটারহাউস বলেন, ‘‘আনুমানিক ২০টি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী অ্যাকোয়েরিয়াম ব্যবসার জন্য উপযুক্ত বলে আমরা মনে করছি৷ প্রবালের মধ্যে চাষের পদ্ধতিও বেশ সহজ৷ প্রবালের একটি টুকরো কেটে নিয়ে সেটিকে একটি বিশেষ স্তরের উপর বসিয়ে দিতে হয়৷ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্পঞ্জ চাষের মিল রয়েছে৷''

উপহ্রদের মধ্যে এক সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তোলা হবে আগামী পদক্ষেপ৷ তখন এই প্রবাল বনায়নের জন্যও ব্যবহার করা যাবে৷‘মেরিনকালচার্স' গ্রামের কিছু চাষিকে এই প্রকল্পে শামিল করতে পেরেছে৷ মুসা ইয়েচা ভুয়াই ‘ডেমা' নামের এক ঐতিহ্যবাহী মাছের ফাঁদ তৈরি করছেন৷ স্থানীয় জেলে মুসা ইয়েচা ভুয়াই বলেন, ‘‘প্রথমত, আমাদের এই হাল-ফ্যাশানের মাছ ধরার পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে৷ রাতে মাছ ধরা ও বিশাল জাল ব্যবহার করা আর চলবে না৷ কীভাবে ডেমা দিয়ে আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ ধরা যায়, তা নিয়ে কথা বলতে হবে৷ নিজেদেরকেও কিছুটা বদলাতে হবে৷''

কারণ উপহ্রদটি রক্ষা করতে গেলে গ্রামের মানুষের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক