1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

স্নোডেনের জার্মানিতে আসার সম্ভাবনা কতটা?

এনএসএ কেলেঙ্কারির ‘হুইসলব্লোয়ার’ এডোয়ার্ড স্নোডেন যে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ফোনে আড়ি পাতার ব্যাপারে জার্মানিতে এসে সাক্ষ্য দেবেন, তার সম্ভাবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে৷ তবে তারপরও আলোচনার ঝড় থামেনি৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক যখন এমনিতেই টালমাটাল, তখন স্নোডেনকে জার্মানিতে এনে সেই সম্পর্কের ভরাডুবি ঘটানোর ঝুঁকি নিতে জার্মান সরকার রাজি নন৷ বরং মস্কোয় গিয়ে স্নোডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাই বিবেচনা করা হচ্ছে৷

স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া তো দূরে কথা, জার্মানি আসার ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইতিপূর্বেই – এবং সেই সিদ্ধান্ত বজায় রাখা হবে, বলে মন্তব্য করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স-পেটার ফ্রিডরিশ, যিনি সিএসইউ দলের রাজনীতিক৷ এখন বিবেচনা করা হচ্ছে, কোন শর্তে এবং কোন পরিস্থিতিতে মস্কোয় স্নোডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব, বলেছেন ফ্রিডরিশ৷

এসপিডি দলের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টোমাস অপারমান-ও আপাতত স্নোডেনের জার্মানি আসার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না৷

Sarah Harrison Edward Snowden Hans-Christian Ströbele Moskau 31.10.2013

সবুজ দলের সাংসদ হান্স-ক্রিস্টিয়ান স্ট্র্যোবেলের সঙ্গে স্নোডেন

তা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সমাধানের'' আঙ্গিকে সম্ভব, বলে অপারমান মন্তব্য করেছেন৷ সিডিইউ দলের সংসদীয় গোষ্ঠীর উপ-প্রধান মিশায়েল ক্রেচমার মনে করেন, স্নোডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশেষ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া যাবে না৷

সবুজ দলের বিধায়ক হান্স-ক্রিস্টিয়ান স্ট্র্যোবেলে মস্কোয় গিয়ে স্নোডেনের সঙ্গে দেখা করে এই বিপত্তি বাধিয়েছেন৷ তিনি এখনও বলছেন: স্নোডেনকে জার্মানিতে আশ্রয় দিতে বাধাটা কোথায়? সরকার শুধু চাইলেই হল৷ জার্মানির স্নোডেনের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, বলছেন স্ট্র্যোবেলে: ‘‘নয়ত চ্যান্সেলরের মোবাইল টোলিফোনের উপর আজও আড়ি পাতা হতো৷''

কেরির আশ্বাস

স্নোডেনের সঙ্গে জার্মানির এই শুভ কিংবা অশুভ সংযোগ ওয়াশিংটনকেও দৃশ্যত সচকিত করেছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জার্মানির ‘‘বিল্ড'' ট্যাবলয়েডের একটি সাক্ষাৎকারে জার্মান-মার্কিন সম্পর্কে জটিলতার কথা স্বীকার করেছেন৷ তবুও আন্তঃ-অতলান্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অথবা সিরিয়া কিংবা ইরানের প্রতি আচরণ ইত্যাদি প্রশ্ন এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ সব ক্ষেত্রে যৌথ পদক্ষেপ অপরিহার্য – বলেছেন কেরি৷ সঙ্গে কেরি ম্যার্কেলের মোবাইলে আড়ি পাতার ব্যাপারটা যতো শীঘ্র সম্ভব অনুসন্ধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷

Bundesinnenminister Hans-Peter Friedrich am 6.11.2013

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স-পেটার ফ্রিডরিশ

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পরিকল্পিত ‘‘নো স্পাই'' চুক্তির কথা এখন জার্মান রাজনীতিকদের মুখে মুখে, সেই চুক্তি শেষমেষ একটি মরীচিকা প্রমাণ হতে পারে৷ কারণ একটি ‘‘নো স্পাই'' চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই যে মার্কিন গুপ্তচর বিভাগগুলি জার্মানিতে তাদের সব আড়ি পাতার অ্যান্টেনা গুটিয়ে নেবে, এমন নয় – জার্মান রাজনীতিকরা যে কথা ভালোভাবেই জানেন৷ আসলে ওয়াশিংটনে সরকারি মহলের যা মনোভাব, তা-তে ব্যাপক কোনো ‘‘নো স্পাই'' চুক্তি সম্ভবই নয়৷ প্রেসিডেন্ট ওবামা গুপ্তচর বিভাগগুলির কাজের পর্যালোচনা করার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা সমাপ্ত হবার আগে কোনো কিছুই এগোবে না৷

‘চোদ্দচক্ষু'

জার্মান মিডিয়ায় যে অভিমতটির খুব চল, সেটি হলো: গুপ্তচরবৃত্তির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র যে জার্মানিকে পুরোদস্তুর অংশীদার বলে গণ্য করে না, চ্যান্সেলরের মোবাইলের উপর আড়ি পাতা হলো তারই প্রমাণ৷ গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিকট সহযোগীরা হলো ইংরিজি ভাষাভাষী দেশ, যেমন ব্রিটেন, ক্যানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, যারা ‘‘ফাইভ আইজ'' বা পঞ্চচক্ষুর অঙ্গ৷ এর পরই আসছে ফ্রান্স, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস, যাদের মিলিয়ে হল ‘‘নাইন আইজ'' বা নয়চক্ষু৷ জার্মানি শুধু ‘‘ফোরটিন আইজ''– এর আঙ্গিকে এই রাউন্ড টেবিলে বসার সুযোগ পায়, এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা, তা-ও আবার ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগের সূত্রে৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন