1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্টার ওয়ার্স আসার আগেই আসবে রোবট ওয়ার্স

ড্রোন আক্রমণ যদি চলে, তাহলে রোবট দিয়েই বা যুদ্ধ চালানো যাবে না কেন? তবে রোবটকে প্রথমে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে যদি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের ত্রাণে কিংবা শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার করা যায়?

পুতুলটি একটি গুলিবিদ্ধ সৈনিকের প্রতিকৃতি৷ একটি রিমোট-কন্ট্রোল্ড রোবট সেই আহত সৈনিককে উদ্ধার করছে এমন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে, যেখানে শত্রু গুলি চালাচ্ছে, জমিতে মাইন বোমা পোঁতা আছে৷ এলরোব রোবট প্রতিযোগিতায় সামরিক বাহিনী আর বিজ্ঞানীরা মিলে এই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ ভবিষ্যৎ যুদ্ধে রোবটদের কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই তারা দেখতে চান৷ তবে গোড়ায় তো কিছু সমস্যা থাকবেই৷

যেমন ৭০ কিলোগ্রাম ওজনের পুতুল সৈনিক একটি রোবটটার পক্ষে একটু বেশি, তাই রোবটটা উলটে পড়েছে৷ রোবটটা এক ইংলিশ নিরাপত্তা কোম্পানির৷ এই রোবটের আসল কাজ হলো বোমা নিষ্ক্রিয় করা৷ আহত সৈনিককে বাঁচাতে হলে আর একটু বড় রোবটের প্রয়োজন পড়বে৷

‘এলরোব'

এ বছরের এলরোব প্রদর্শনী – বা প্রতিযোগিতা – অনুষ্ঠিত হচ্ছে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ-তে পোলিশ সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা কেন্দ্রে৷ ওয়ারশ গবেষণা কেন্দ্র এবং জার্মানির একটি ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট এবার এই প্রদর্শনী আয়োজনের দায়িত্বে৷

‘গার্ম' রোবটটির ওজন ৫৭০ কিলোগ্রাম৷ এটি ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ও সুইজারল্যান্ডের এক অস্ত্র-নির্মাণ কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ৷ টেলিযোগাযোগ, ডাটা-প্রসেসিং ও এর্গোনমি সংক্রান্ত ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের আইটি-বিশেষজ্ঞ ব্যার্ন্ড ব্র্যুগেমান রোবটের হাত নাড়ার একটি অভিনব অটোম্যাটিক স্টিয়ারিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘হাত, অর্থাৎ বাহুর স্টিয়ারিং অপেক্ষাকৃত জটিল এবং তার জন্য অনেক ট্রেনিং দরকার৷ সেজন্যই আমরা এই বিশেষ জ্যাকেটটার কথা ভেবেছি৷ এটা শুধু পরতে হয়৷ জ্যাকেটের হাতায় রাখা সেন্সর আমার হাতের নড়াচড়াগুলো লক্ষ্য করে সেগুলো রোবটের বাহুতে ট্রান্সফার করে দিচ্ছে৷ এর ফলে আমি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে রোবটের বাহু নড়াচড়া করতে পারি৷ আমাকে ভাবতে হয় না, কোন গাঁটগুলো নড়াতে হবে, অথবা কি করতে হবে, যাতে হাতটা ঠিকভাবে নড়ানো যায়৷''

যে রাঁধে, সে কি চুল বাঁধে না?

রোবটরা শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে, বোমা নিষ্ক্রিয় করতে কিংবা আহতদের উদ্ধার করতে সাহায্য করবে৷ এলরোব ঠিক এই ভাবমূর্তিটি তুলে ধরতে চায়৷ অপরদিকে প্রায় সব গবেষণা গোষ্ঠীর পিছনেই রয়েছে অস্ত্র শিল্প কিংবা সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা৷ এই সব যন্ত্র শুধু সাহায্য করতে জানে না, গুলি চালাতেও পারে৷

একটি পোলিশ রোবটে সরাসরি মেশিন গান বসানো যায়৷ খোঁজখবর নিলে জানা যাবে, জার্মানিতেও সশস্ত্র রোবট বানানোর কথা ভাবা হচ্ছে৷ জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের লেফটেন্যান্ট-কর্নেল আন্ড্রেয়াস মোজেন্টিন জানান, ‘‘আমরা কোনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় প্রণালী চাই না৷ আমরা চাই একটি আধা-অটোম্যাটিক প্রণালী, যাতে ধরুন যন্ত্রচালিত যানটি নিরপেক্ষভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে, কিন্তু অস্ত্রটিকে কোনো অপারেটর দূর থেকে রিমোট দিয়ে সক্রিয় করবেন৷''

পোলিশ সেনাবাহিনীর অতো লুকোছাপা নেই৷ ভয়িস্কোভ টেকনিক্যাল অ্যাকাডেমির জেনারেল জিগমুন্ট মিয়ের্চিক বলেন, ‘‘যুদ্ধের রোবট খুব শিগগীরই পাওয়া যাবে৷ গুলি চালানোর অটোম্যাটিক টাওয়ার ইতিমধ্যেই পাওয়া যায়৷ অটোম্যাটিক ট্যাংকও আসতে চলেছে, বর্তমানে বিভিন্ন সামরিক কুচকাওয়াজের এলাকায় যা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে৷ আর মাত্র কয়েক বছর; তারপর সেনাবাহিনীর হাতে অটোম্যাটিক ট্যাংক আসবে৷''

মাউস-ক্লিক দিয়ে যুদ্ধ

সেই কারণেই সামরিক বাহিনী এই প্রযুক্তিতে অর্থবিনিয়োগ করছে৷ ব্র্যুগেমান-এর মতো বিজ্ঞানীদের তাতে কোনো অসুবিধা নেই৷ তাঁর ‘রোবটিক বাহু' যেমন যুদ্ধে, তেমনি কম্পিউটার গেমস খেলতে ব্যবহার করা চলে৷ ব্র্যুগেমানের কাছে বৈজ্ঞানিক সাফল্যটাই আসল কথা৷

এ ধরনের একটি রোবটকে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় সামরিক অভিযানে কাজে লাগানো যাবে – এবং তা জার্মানিতে চেয়ার-টেবিলে বসে থেকেই৷ সেটাই হলো রোবট নিয়ে গবেষণার মূল উদ্দেশ্য: যুদ্ধকে সৈন্যদের জন্য নিরাপদ করে তোলা – তবে দৃশ্যত শুধুই সৈন্যদের জন্য – মার্কিন ড্রোন আক্রমণে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারানো যার প্রমাণ৷ এর কারণ মনিটরে বসে যে সৈন্য রকেট ছোঁড়ার নির্দেশ দেয়, সে দেখে ঐ রোবট-চক্ষু দিয়ে৷ এবং রোবটের দেখায় ভ্রম হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রত্যাশিত নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক