1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সৌর চুল্লি দেবে অফুরন্ত জ্বালানি

অফুরন্ত জ্বালানি – অথচ দূষণ বা ক্ষতিকারক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই৷ কাঁচামালেরও অভাব নেই, তাও আবার বিনামূল্যে৷ সবকিছু ঠিকমতো চললে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই এমন স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে পারে৷

সূর্যের আগুন পৃথিবীতে আনা – এটাই নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষকদের স্বপ্ন৷ কয়েক কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন পরমাণু গলে যায়৷ এই প্রক্রিয়ায় বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তৈরি হয়৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে সৌর চুল্লিগুলি খুবই ছোট হওয়ায় প্রক্রিয়াটি লাভজনক নয়৷

ফ্রান্সের দক্ষিণে কাদারাশ-এ তাই ‘ইটার' নামের এক পরীক্ষামূলক চুল্লি তৈরি হচ্ছে৷ কয়েক বছরের মধ্যে এখানে ৩০ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২৩,০০০ টন ভারি ইস্পাতের খাঁচা তৈরি হবে৷ এই চুল্লি চালাতে যত জ্বালানি লাগবে, গবেষকরা তার প্রায় ১০ গুণ বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে চান৷

‘ইটার' এক আন্তর্জাতিক প্রকল্প৷ ইউরোপ ছাড়াও চীন, রাশিয়া, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশও তাতে অংশ নিচ্ছে৷ আপাতত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫০০ কোটি ইউরো৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার অর্ধেক বহন করছে৷

হেনরিক বান্ডস্লেভ ডেনমার্কে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন৷ আজ তিনি ইইউ-র পক্ষে এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ ফিউশন ফর এনার্জি প্রকল্পের প্রধান বলেন, ‘‘এই প্রক্রিয়ার বেশ কিছু অভিনব সুবিধা রয়েছে৷ সাধারণ পরমাণু চুল্লির মতো এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয় না৷ ‘মেল্টডাউন'-এর মতো বিপদেরও আশঙ্কা নেই৷ কাঁচামালও অফুরন্ত৷ অর্থাৎ জ্বালানি কখনো শেষ হবে না এবং গোটা বিশ্বেই এই জ্বালানি প্রায় সমান মাত্রায় ছড়িয়ে রয়েছে৷''

সেই গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকেই গবেষকরা পরমাণু ফিউশন নিয়ে কাজ করছেন৷ তবে বহুকাল সাফল্য আসেনি৷ তারপর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ‘টোকামাক' প্লান্টে পদার্থবিদরা সফল হলেন৷ ১৯৯১ সালে ব্রিটেনের ‘জেট' প্লান্টে বিজ্ঞানীরা প্রথম নিয়ন্ত্রিত ফিউশন করতে সমর্থ হলেন – যদিও তা ঘটেছিল মাত্র দুই সেকেন্ডের জন্য৷

ফ্রান্সের দক্ষিণে ‘ইটার' ‘জেট'-এর সাফল্যই অনুসরণ করছে৷ তবে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ বেশ বিলম্ব ঘটেছে, ব্যয়ভারও বেড়ে গেছে৷ বান্ডস্লেভ বলেন, ‘‘আমি এ নিয়ে খুশি হতে পারি না৷ তবে এই উদ্যোগকে চাঁদে প্রথম মানুষ পাঠানোর চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে৷ বিলম্ব হচ্ছে, এটা ঠিক৷ কিন্তু একই সঙ্গে আমি জানি যে ‘ইটার', ‘ফিউশন ফর এনার্জি' ও শিল্পজগতের গবেষক ও অন্যান্য কর্মীরা সাফল্যের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন৷''

জার্মানির উত্তরে গ্রাইফসভাল্ড-এ গবেষকরা অন্য একটি পরীক্ষামূলক প্লান্টে কাজ করছেন৷ ‘ভেন্ডেলস্টাইন সেভেন-এক্স' নির্মাণের কাজ সবে শেষ হয়েছে৷ প্রকল্পের প্রধান ‘টোকামাক' নয় – ‘স্টেলারেটর' দিয়ে সূর্যকে পৃথিবীতে আনতে চান৷ মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের টোমাস ক্লিঙার বলেন, ‘‘দুটি ব্যবস্থাই আংটির মতো দেখতে চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে৷ ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তপ্ত গ্যাসকে শীতল প্রাচীর থেকে দূরে রাখতে এই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রয়োজন, যাতে সেই উত্তাপ হারিয়ে না যায়৷ কিন্তু সেই ম্যাগনেটিক ফিল্ড কী ভাবে তৈরি করা হয়, সেই পদ্ধতি দুটি ব্যবস্থায় আলাদা৷''

‘স্টেলারেটর'-এ চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা হয় বাঁকানো কয়েল দিয়ে, ‘টোকামাক'-এর ক্ষেত্রে যা ঘটে না৷ ‘টোকামাক'-এর এক চৌম্বক খাঁচা আছে, যা রিং টায়ারের মতো দেখতে৷ প্লাজমার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করে, তার চৌম্বক ক্ষেত্র ধরে রাখে৷ ‘স্টেলারেটর'-এর প্লাজমায় বিদ্যুতের কোনো প্রয়োজন নেই৷ ফলে তা অবিরাম চলতে পারে৷

এই মুহূর্তে ফ্রান্সের চুল্লিতে যে ‘টোকামাক' রয়েছে, তা বেশ পরীক্ষিত৷ সব কিছু ঠিকঠাক চললে বর্তমান শতকের মাঝামাঝি সময়ে সেখানকার পারমাণবিক ফিউশন কেন্দ্র থেকে প্রথম বার জ্বালানি উৎপাদন হওয়ার কথা৷ ততদিন পর্যন্ত পদার্থবিদরা সূর্য ও পৃথিবীর দৃষ্টান্ত অনুযায়ী অফুরন্ত জ্বালানির স্বপ্ন দেখতে থাকবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক