1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সৌরশক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিনব উপায়

রাস্তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে কেমন হতো, কখনও ভেবেছেন? নিয়মিত সূর্যের আলো পড়ে এমন সাইকেলের রাস্তা ব্যবহার করে এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে৷

সৌরশক্তিতে চালিত সাইকেল

সাইকেলের এই রাস্তা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে

রাস্তাটা দেখতে হয়ত সাইকেল চালানোর আর পাঁচটা সাধারণ পাথের মতো, কিন্তু ক্রোমেনির এই লেনের নীচে রয়েছে অন্যকিছু৷ আসলে এটাই বিশ্বের প্রথম সোলার সেলযুক্ত রাস্তা৷

নেদারল্যান্ডসের সোলারোড প্রকল্পে কাজ করা স্টেন ডে উইটের মতো উদ্ভাবকরা রাস্তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব করতে চাচ্ছেন৷ সোলারোড-এর উদ্ভাবক স্টেন ডে উইট জানান, ‘‘নেদারল্যান্ডসে বাড়ির ছাদের তুলনায় রাস্তার সারফেসের পরিমাণ বেশি৷ আমরা যদি এই সারফেসের সোলার প্রযুক্তি যোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি, তাহলে বাড়তি জায়গা খরচ না করে বা পরিবেশকে বিরক্ত না করেই অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে৷''

এই পাথটি ৭০ মিটার লম্বা যা তৈরিতে দু'বছর লেগেছে৷ রাস্তার সারফেসটির তিনটি স্তর রয়েছে৷ সবার নীচে কংক্রিট, তার উপর সোলার সেল আর সেসবের উপরে বিশেষ ধরনের গ্লাস৷ এই পাথের উপর পরা সূর্যের আলো সোলার সেলগুলো শুষে নেয় এবং বিদ্যুতে পরিণত করে৷

এই পাথের কয়েক মিটার দূরে রয়েছে একটি ছোট বাক্স৷ এখানে, ডে উইট দেখতে পান কী পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে৷ ২০১৪ সালে স্থাপনের পর থেকে এখন অবধি দশ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ এখানে উৎপাদন হয়েছে যা তিনটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট৷

ডে উইট-এর কথায়, ‘‘ভবিষ্যতে আমরা যেখানে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে এবং যেখানে ব্যবহার হচ্ছে – এই দুই জায়গার মধ্যে আরো ভালো যোগাযোগ তৈরি করতে চাই৷ কেননা রাস্তার সামনে দিকে যেতে থাকে বা সংযোগের পরিবেশ তৈরি করে যেখানে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়৷ ভবিষ্যতে হয়ত রাস্তার উপর দিয়ে চলা ইলেকট্রিক কার বা ই-বাইক রাস্তা থেকেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাবে৷''

তবে সাধারণ রাস্তায় সোলার সেল ব্যবহার করতে হলে সেই সারফেসের শুধু সাইকেল বা স্কুটার নয়, বড় যানবাহন সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে৷

এই সমস্যা সমাধানে ক্রেমেনি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে ডেল্ফটের টিএনও ল্যাবরেটরিতে কাজ চলছে৷

প্রধান ইঞ্জিনিয়ার স্টান ক্লার্কস এবং তাঁর টিম এমন রোড সারফেস তৈরির চেষ্টা করছেন যা ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ করবে৷ তিনি জানান, ‘‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের এমন এক লেয়ার তৈরি করতে হবে যেটার উপর দিয়ে নিরাপদে গাড়ি চালানো সম্ভব৷ এজন্য টায়ার ধরে রাখার উপাদান দিতে হবে, আবার একইসঙ্গে সেটিকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ রাখতে হবে যাতে সূর্যের আলো সোলার অবধি পৌঁছায়৷ এটা মাথায় রেখেই সারফেস তৈরির চেষ্টা করছি আমরা৷''

সারফেসের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা ফ্লাট সারফেস পরিহার করতে চাচ্ছেন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশায়৷ কেননা কোনাকুনিভাবে স্থাপিত সোলার সেলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়৷ সেই সেলের আবার ট্রাক বা বাসের চাপ নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে৷

ইঞ্জিনিয়ার স্টান ক্লার্কস বললেন, ‘‘সোলার সেল অত্যন্ত ভঙ্গুর যা সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে৷ তাই শুধু দশবার নয়, অসংখ্যবার সেটির উপর দিয়ে গাড়ি চালালে কী হবে দেখতে হচ্ছে৷''

আগামী দু'বছরের মধ্যে সাধারণ রাস্তার উপযোগী সোলার সিস্টেম তৈরি করতে চাচ্ছেন গবেষকরা৷ এটা সম্ভব হলে, শুধু নেদারল্যান্ডস নয় আরো অনেক দেশে তা ব্যবহার করা যাবে৷

লুইস অসবর্ন/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক