1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সৌদি আরব

সৌদি নারীদের পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি সৌদি নারীদের উপর পুরুষদের কর্তৃত্ব বিষয়ক আইনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সৌদি আরবের নারীরা ঐ আইনের সংস্কার দাবি করেছেন৷

পুরুষের অভিভাবকত্বের অবসানের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি নারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ও টুইট করে চলেছেন৷ প্রচলিত আইন নারীদের জীবনযাত্রার প্রতিটি বিষয় পুরুষদের নিয়ন্ত্রণ করার বৈধতা দেয়৷ অভিভাবক হতে পারেন নারীর বাবা বা স্বামী, এমনকি বড় ভাই, বা কোনো পুরুষ নিকট আত্মীয়৷ আর কিছুক্ষেত্রে ছেলে সন্তানও হতে পারে নারীর অভিভাবক৷ সারা জীবন সৌদি নারীদের এই অভিভাবকত্ব মেনে নিতে হয়, এটাই আইন৷

সৌদি আরবের সাধারণ নারী, ব্লগার এবং নারী অধিকার কর্মীরা #TogetherToEndMaleGuardianship এবং #StopEnslavingSaudiWomen হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছেন৷ এই আইন তাঁদের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আলোচনা করার এবং এই আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা৷ পড়ালেখা থেকে শুরু করে কাজ করা বা বিবাহ কোনো বিষয়ই নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেই৷ তাই স্বাধীনতার কোনো স্বাদ পান না তাঁরা৷ অর্থাৎ পুরোটা জীবন অন্যের নিয়ন্ত্রণেই কাটাতে হয় তাঁদের৷

নারীদের এই প্রতিবাদ শুরুর পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের এই প্রচারণায় সহযোগিতা করছে৷ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোতে ঐ হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করছে তারা৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি ছিল কয়েকটি গ্রাফিকাল ভিডিও সম্বলিত, যেখানে পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে সৌদি নারীদের জীবন কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তার চিত্র ফুটে উঠেছে৷ এই পুরুষতান্ত্রিকতার কারণে কেবল অল্প বয়স্ক নারীরাই নয়, পরিবারের বয়স্ক নারীদের সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য নেই৷ 

সৌদি পুরুষরা যথারীতি এর বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা আরবীতে একটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছে, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘পুরুষের অভিভাবকত্বে গর্বিত সৌদি নারীরা'৷ পাশাপাশি পুরুষ অভিভাবকত্বকে ধর্মের তকমা এঁটে প্রচার শুরু করেছেন তাঁরা৷

সৌদি আরবের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিরাহ সাঈদী টুইট করেছেন, ‘‘কিছু পরিবারের এ ধরনের আইনের কারণে নারীরা অন্যায়ের শিকার হতে পারেন, তবে এ কারণে আইন বদলানো উচিত নয়, কেননা এটা শরিয়া আইন৷''

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের বাইরেও মুসলিম আলেম ওলামারা এই প্রচারণায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন৷ দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল শেখ সৌদি পত্রিকা ‘ওকাজ' কে বলেছেন, ‘‘পুরুষ অভিভাবকত্বের অবসান চাওয়া সুন্নি ইসলামবিরোধী এবং এটি একটি অপরাধ৷''

সৌদি আরব বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন নেই৷

ফ্রান্সিস্কো পেরেজ/এপিবি

আশীষ চক্রবর্ত্তী 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়