1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ দেখতে হবে সরকারকেই'

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের দরজা খুলে দিয়েছে সৌদি আরব৷ অর্থাৎ এবার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক, চিকিৎসক, নার্স ও নির্মাণ শ্রমিকসহ ৪৮টি ক্যাটাগরিতে সৌদি আরবে কর্মী যাবে৷ প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে শুরুও হয়ে গেছে৷

বুধবার সৌদি সরকারের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ওপর সাত বছর ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই ঘোষণা দেয়৷ শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটি অবশ্যই আমাদের জন্য সুখবর৷ একইসঙ্গে যেসব শ্রমিক সেখানে যাবেন, তাঁদের বেতন-ভাতা, নিরাপত্তাসহ সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে ভাবতে হবে যাতে কোনো শ্রমিক সেখানে গিয়ে বিপদে না পড়েন৷ কেউ বিপদে পড়লে আমাদের দূতাবাস যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়৷ জনবল কম, এমন অজুহাত দিয়ে যেন হাত-পা গুটিয়ে তারা বসে না থাকে৷''

সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর উল্লেখ করে রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ জানান, ‘‘গত জুনে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সউদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ ঐ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল৷ এটি তার ফল৷''

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব৷ দেশটিতে সরকারি হিসাবে বর্তমানে সেখানে ১৩ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন৷ এঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার নারী গৃহকর্মী৷ এর বাইরে আরো অন্তত পাঁচ থেকে ছয় লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন, যাঁদের বৈধ কাগজপত্র নেই৷ অথচ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল৷ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব৷ সেক্ষেত্রে গৃহকর্মী খাতের ১০টি ক্যাটাগরিতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়৷ দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি মাসে গৃহকর্মী খাতে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায় তারা৷ এরপর থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন৷ গেল বছর ৬০ হাজার আর এ বছর এখনও পর্যন্ত প্রায় এক লাখ কর্মী গেছেন, যাঁদের অধিকাংশই নারী৷

গত বছরই সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে৷ এর প্রায় দেড় বছর পর সৌদি সরকার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিল৷ বুধবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সৌদি আরবে প্রায় সকল পেশায় বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকরা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন৷ বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাধ্যমেও সৌদি আরবে কর্মী যাবেন৷ তবে এক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে জানা গেছে৷

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ টেলিফোনে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরব বুধবার থেকেই তাদের কম্পিউটার খোলা রেখেছে এবং এখন সৌদি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার জন্য আবেদন করবে৷ তবে এই সুযোগে যাতে বাংলাদেশের কোনো অসৎ রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিতে না পারে, সেজন্য তিনি কঠোর মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেন৷

অডিও শুনুন 05:09

‘বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুবই বুদ্ধিমান এবং কঠোর পরিশ্রমী’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বৈঠক করেন সৌদি শ্রমমন্ত্রী মুফরেজ আল-কাহাবানি এবং বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম৷ সেই বৈঠকে বাংলাদেশি গৃহকর্মী প্রেরণের সংখ্যা বাড়াতে একমত হয়েছিলেন তাঁরা৷ একইসঙ্গে অভিবাসন খরচ কমাতে, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও দু'দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় আরো বেশি পুরুষ কর্মী প্রেরণসহ কর্মী রপ্তানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতেও তাঁরা সম্মত হন৷

সৌদি আরবে বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিঃসন্দেহে ভালো খবর৷ কিন্তু এখন এর সুফল নির্ভর করছে জনশক্তি সরবরাহের ওপর৷ জনশক্তি রপ্তানিকারকরা ভালো মানসম্পন্ন শ্রমিক সরবরাহ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে৷ শ্রমিকদের যোগ্যতা, দক্ষতা যাচাই-বাছাই করে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে৷ বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুবই বুদ্ধিমান, কঠোর পরিশ্রমী এবং অধিক প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো করতে পারবে৷

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘‘এখন সৌদি সরকারের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি হতে হবে৷ সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বেতন উল্লেখ থাকতে হবে৷ লেখা থাকতে হবে যে, এর নীচে কেউ বেতন দিতে পারবেন না৷ আর যদি কেউ ঐ বেতনের কমে অভিবাসীদের পাঠান, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷ সারা বিশ্বে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে সৌদি আরবেই ‘সৌদিকরণ' হচ্ছ৷ তারা তাদের লোকদেরই কোম্পানিতে চাকরিতে পাঠাচ্ছে৷ এ অবস্থায় বাংলাদেশের অভিবাসীরা সেখানে গিয়ে কী পরিমাণ বেতন পাবেন, সেটা দেখার বিষয়৷''

বন্ধু, আপনিও কি সৌদি আরবে কাজ করতে চান? অথবা আপনার কি সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও