1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড়

সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা বাংলাদেশি এক নারী গৃহকর্মীর ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ ওই গৃহকর্মী ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে তাঁকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন৷ বাংলাদেশ বিষয়টির তদন্ত করছে৷

ভাইরাল হওয়া ওই ইউটিউব ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে৷ তাতে বলা হয়েছে, সাত মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি এক নারী৷ মঙ্গলবার রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে বসে এক আরবকে ওই নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য ভিডিও করেছেন ওই আরব৷

ভিডিওতে ওই নারীর এক হাতে ক্ষতচিহ্ন, আরেক হাতে গোটা গোটা ফোস্কা দেখা যায়৷ এক প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, সৌদি আরবে কাজে আসার পর প্রতিদিন তাকে ছয় থেকে সাতবার গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হত৷ ওই ছ্যাঁকাতেই হাতে ফোস্কা হয়েছে৷ 

অডিও শুনুন 01:09

‘আমরা এখন ওই নারী গৃহকর্মীর বক্তব্য গ্রহণ করব’

কেন নির্যাতন করা হত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারও সাথে, বিশেষ করে স্বামীর সাথে কথা বলতে চাইলে মালিক দিত না৷ দেশে ফিরতে চাইলে নির্যাতন করা হত৷ এভাবে নির্যাতনের পর সৌদি মালিক তাঁকে বিমানবন্দরে রেখে চলে যায়৷  ওই নারী বলেন, এই কয় মাসে তাঁকে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু বিমানবন্দরে রেখে যাওয়ার সময় বেতন নিয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন মালিক৷ ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিত ওই বাংলাদেশি নারীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়৷ তিনি গত ২২ জানুয়ারি সৌদি আরব যান৷ সৌদিতে তার নিয়োগকর্তা আজিজা নাশহাত মোহাম্মদ আলী কাকা৷

এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর সরওয়ার আলম ডয়চে ভেলে বলেন, ‘‘আমরা ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও সম্পর্কে জেনে তদন্ত শুরু করেছি৷ আমরা বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব দু'জায়গায়ই যোগাযোগ করেছি৷ আমরা এখন ওই নারী গৃহকর্মীর বক্তব্য গ্রহণ করব৷''

তিনি বলেন, ‘‘তিনি এখন বাংলাদেশেই তাঁর গ্রামের বাড়িতে আছেন৷ তাঁর বক্তব্য নেয়া হচ্ছে৷ আর আমরা সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি৷''

সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নির্যাতনের আরো অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কিছু অভিযোগ এর আগেও পেয়েছি৷'' এদিকে, চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদি হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্যাতিত ওই নারীর নাম সালমা৷ তিনি গ্রামে ফিরে আসার পর তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ তাঁর শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে৷ তিনি শুধু বলেছেন আমার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা বললে আপনারা স্তব্ধ হয়ে যাবেন৷'' 

সৌদি আরব এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজারের মতো নারী গৃহকর্মী নিয়েছে৷ এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৪০ হাজার নারী গৃহকর্মীকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ নিয়োগকারীরা কারণ হিসেবে তাদের কাজে অনীহার কথা বললেও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, ‘‘বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের কাজে অনীহার কারণ ভিন্ন৷ তাঁরা নির্যাতনের শিকার এবং তাঁদের বেতনও খুব কম দেয়া হয়৷''

গতবছর রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তিনটি কারণে নারী গৃহকর্মীরা তাদের কাজ ছেড়ে পালাচ্ছেন৷ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, গৃহকর্মীদের দিয়ে কঠিন কাজ করানো, গৃহকর্মীদের নিজের বাড়ির প্রতি দুর্বলতা থাকা এবং গৃহকর্তার কাছ থেকে নানা দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হওয়া

কেবল বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীরাই নয়, সৌদি নাগরিকদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ অন্য দেশগুলোও করেছে৷ ২০১৫ সালে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীর ওপর যৌন নির্যাতনের একটি খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিন্দার ঝড় তুলেছিল৷ সেবার গৃহকর্মীর ওপর যৌন নির্যাতন চালাতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক সৌদি নাগরিক৷ স্বামীর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই নারী ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন৷

একই বছর এক ভারতীয় গৃহকর্মী তার কাজ থেকে মুক্তি চাইলে গৃহকর্তা তার ওপর হামলে পড়েন৷ কেবল তাই নয়, ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্তা একটি ছুরি দিয়ে ওই গৃহকর্মীর হাত কেটে ফেলেন৷

আপনি কি সৌদি আরবে থাকেন? সেখানে কাজের পরিবেশ কেমন? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও