1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ

রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি ‘প্রধান অভিযুক্ত’ ভবনের অন্যতম মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের সুপারিশ করতে যাচ্ছে৷ বৃহস্পতিবার কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে৷

কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাঈন উদ্দিন খন্দকার বলেন, রানা প্লাজার জমি বাজেয়াপ্ত করে ওই ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার সুপারিশও তৈরি করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি৷ এই সুপারিশে ভবনের অন্যতম মালিক সোহেল রানা ছাড়াও ভবনে থাকা পাঁচ পোশাক কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন অথবা ১০ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের সুপারিশও করা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি সোহেল রানার বিরুদ্ধে যে ধরণের অভিযোগ পেয়েছে তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে কোন অসুবিধা নেই৷ তার বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার অভিযোগ আছে৷

মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ভবন ধসের ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী সাভার পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে৷ এসব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করারও কথা তারা বলবেন৷ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে তার দিকনির্দেশনাও থাকবে রিপোর্টে৷

মাঈন উদ্দিন খন্দকার বলেন, পোশাক খাত টিকিয়ে রাখতে কমিটি সরকারকে কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করবে৷ তাদের সুপারিশে ওই জমি বাজেয়াপ্ত করে তার সমপরিমাণ অর্থ হতাহতের পরিবারকে সহায়তা হিসেবে দেয়ার জন্য প্রতিবেদনে জোর সুপারিশ করেছে৷ প্রয়োজনে সরকার জমিটি বিক্রি করে সেই অর্থও হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের দিতে পারে৷ তিনি জানান, রানা প্লাজার মত ঘটনা এড়াতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে পোশাক কারখানার জন্য একটি অধিদপ্তর করারও সুপারিশ রাখা হচ্ছে৷ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা সব কারখানাকে সনদ দেবে৷ যা প্রতিটি পোষাক কারখানায় টাঙানো থাকবে৷ আর এই ধরনের দেখলে শ্রমিকরা নির্ভয়ে ওই কারখানায় কাজ করতে যেতে পারবেন৷

প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল সাভারের নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে৷ ঘটনার আগের দিনই ভবনটিতে ফাটল দেখা যায়৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই দিন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও পরদিন ২৪ এপ্রিল ভবনের অন্যতম মালিক সোহেল রানা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভবনে কাজে যেতে বাধ্য করেন৷ সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পর ৯টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে৷ এই ঘটনায় এক হাজার ১২৭ জন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার ৪৩৮ জনকে৷ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান অনেকে৷ ঘটনার দিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাঈন উদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়৷ পরে কমিটিতে আরো একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ ঘটনার এক মাস পর বৃহস্পতিবার রিপোর্ট দিচ্ছে কমিটি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন