1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সোহাগ, মমিনুল, জিয়া কেন নেই?

টি-২০ বিশ্বকাপে হংকং-এর কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ মোমিনুল ও সোহাগ গাজীর মতো খেলোয়াড় থাকতে কেন ফরহাদ রেজাকে মাঠে নামানো হচ্ছে, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে দেওয়ান কামরুল হাসান রথি লিখেছেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যখন টিম ঘোষণা করলো, আমি এই টিমের খেলোয়াড়দের দেখে পুরাই অবাক! জিয়া কই, মোমিনুল নাই কেন? এঁদের কি কারণে নামানো হলো না, আবার সোহাগ গাজী নাই কেন?''

তাঁর মতে, এই টিমে সবচেয়ে ফালতু খেলোয়াড় হলেন ফরহাদ রেজা, যিনি কখনো ৬ মারতে পারেন না আর তাঁর বল সবসময় শর্ট পিচ৷ এরকম নিম্ন শ্রেণির অল রাউন্ডার-এর চেয়ে বেটার অপশন মোমিনুল৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘এমনিতে আমাদের দেশের পেস বোলার সংকট৷ আজ পর্যন্ত যত বোলার আসছে মাশরাফি ছাড়া কেউ সুবিধা করতে পারেননি৷'' তাই তাঁর দাবি, যাতে রেজার বদলে মোমিনুলকে খেলানো হয়৷ এছাড়া নির্বাচকদের প্রতি তাঁর মন্তব্য, ‘‘১৬ কোটি মানুষের আবেগ নিয়া ছিনিমিনি খেলতে পারেন না আপনারা৷''

ফেসবুকে রুহুল মাহফুজ জয় আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘‘সুপার টেনে খেলা উচিত ছিল নেপালেরই৷ কারণ, বাংলাদেশের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক ম্যাচিউর একটা দল ওরা৷''

দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ লিখেছেন, ‘‘সাব্বিরের চেয়ে বহুগুণে ভালো ব্যাটসম্যান মোমিনুল আর শুভ৷ মোমিনুলকে দিয়ে ২/৩ ওভার বলও করানো যায়৷ টি-টোয়েন্টিতে পরীক্ষিতও উনি৷ আছেন ফর্মের চূড়ায়৷ অথচ কোনো এক অজানা কারণে তাঁকে ম্যাচের পর ম্যাচ বসিয়ে রাখা হচ্ছে৷ নির্বাচকরাই বলেন, জিয়া নাকি টি-২০ স্পেশালিস্ট, অথচ তাঁকে দলেই নেয়া হয়নি৷ পারফর্ম করেও আরাফাত সানি দলে নাই৷ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের চেয়ে সোহাগ গাজী অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে ২০ ওভারের ক্রিকেটে৷ আর ফরহাদ রেজার কথা না বলাই ভালো৷''

আমার ব্লগে শফিক লিখেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ প্রথম খেলে ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে৷ এ দেশের মানুষ এমন ক্রিকেট প্রেমী যে, তাঁরা এত হারের পরও নিয়মিত সাপোর্ট করে যান নিজের দলকে৷''

শফিক নির্বাচকদের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘তাঁরা কি একবারও ভাবেন না সেই ছেলে-মেয়েগুলোর কথা, যারা তাদের সাধের জমানো টাকা খরচ করে টিকেট কেটে খেলা দেখতে যায়, দেশকে সমর্থন জোগাতে যায়; ভাবেন না সেই সব মায়াবী মুখগুলোর কথা যারা দেশকে পরাজিত হতে দেখে হাউমাউ করে কাঁদে; চেয়ে দেখেন না ঐ সব বাচ্চা ছেলেগুলোকে যারা সারা গায়ে রং মেখে শীতের সন্ধ্যায় খালি গায়ে স্টেডিয়াম মাতায়৷ অথবা সেই সব কর্মজীবি মানুষ, যারা নিজের কাজকর্ম এক পাশে রেখে রাত জেগে খেলা দেখে৷''

তাই তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কবে আসবে সে সুদিন, যেদিন ক্রিকেট পাগল জনতার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামবে; কবে নির্বাচকরা দল গড়তে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে!''

একই ব্লগে মঞ্জুর চৌধুরী লিখেছেন, ‘‘গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশও যেন আকাশে উড়তে শুরু করেছিল৷ পত্রিকায় আমাদের এক খেলোয়াড় বলেছিলেন, ‘হংকংয়ের সাথে খেলাটাতো আমাদের জন্য প্রস্তুতি ম্যাচ'৷ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, আমাদের খেলোয়াড়রা যেসব ম্যাচ ওভার কনফিডেন্স নিয়ে খেলেছেন, সবকটিতেই হেরেছেন৷ আমাদের যেগুলো বিরাট বিরাট বিজয় (পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং সাউথ আফ্রিকা) সেগুলোতে আমাদের খেলোয়াড়রা ইতিবাচক ছিলেন, কিন্তু ওভার কনফিডেন্ট ছিলেন না৷ প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে করে যে জন, তার চেয়ে বড় মূর্খ দুই পৃথিবীতে একটিও নেই৷''

টাইগারদের প্রতি তার অনুরোধ, ‘‘সেরা দশে গিয়ে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করো না৷ যদি দুই একজন বড় ভাইকে হারিয়েও দাও, তাহলেও মনে রেখো, তোমরা একই টুর্নামেন্টে হংকংয়ের কাছেও হেরেছিলে৷ যেদিন খেলতে নামবে, সেদিন নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করো৷১৬ কোটি মানুষের সমর্থন আছে পেছনে৷ আর কি চাই?''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়