1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বদলে দিচ্ছে পর্যটন শিল্পকে

কোথায় ছুটি কাটাতে যাবেন এবং কত দামে, তা ঠিক করতে অধিকাংশ মানুষ সবার আগে যান সামজিক যোগাযোগের মাধ্যমে৷ শেষে বুকিং হয়ত করলেন ট্র্যাভেল এজেন্সিতে, কিন্তু গোড়ার খোঁজখবর সবই চলে অনলাইনে৷

সর্বাধুনিক জরিপে বলে, আশি শতাংশ জার্মানের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য৷ ইন্টারনেটে ব্লগাররা নানা চেনা-অচেনা গন্তব্য সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন জানান৷ অন্যান্য পোর্টালে বিভিন্ন হোটেলের ভালো-মন্দ নিয়ে মন্তব্য কি পরামর্শ থাকে; ফেসবুকে বন্ধু-বান্ধবরা যদি তাঁদের শেষ ছুটিকাটানোর ছবি সেঁটে দিয়ে থাকেন, তবে সেই সব ছবি দেখে তা থেকে নতুন কোনো গন্তব্য খুঁজে পাওয়া যেতে পারে৷

ফেসবুক ঘাঁটা পর্যটন কোম্পানিগুলোর ক্যাটালগ ঘাঁটার চেয়ে যে অনেক বেশি ভালো, অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং, তা সকলেই স্বীকার করবেন৷

এ হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অভিমুখে সরাসারি তথ্যের প্রবাহ, যার মাধ্যম হলো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক৷ দৃশ্যত পর্যটন সকলেরই একটি বিশেষ প্রিয় বিষয়৷ জার্মানিতে ফেসবুকের যে আড়াই কোটি সক্রিয় সদস্য আছেন, তাঁদের পোস্টিংগুলোর ৪১ শতাংশই নাকি কোনো যাত্রা কিংবা পর্যটন নিয়ে৷

ফেসবুক মার্কেটিং ও ফিডব্যাক

বড় বড় পর্যটন সংস্থাগুলিরও আজকাল মার্কেটিং-এর জন্য ফেসবুকের দ্বারস্থ না হয়ে উপায় নেই৷ বিশেষ করে ফেসবুক যখন নিজেই তার ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ঘেঁটে পর্যটন সংস্থাগুলির বিজ্ঞাপনকে তার লক্ষ্যে, অর্থাৎ ভবিষ্যৎ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়৷ অন্যদিকে পর্যটন সংস্থাগুলি যে ব্লগারদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, এ দৃশ্যও বিরল নয়৷

প্রথাগত পর্যটন সংস্থাগুলি সম্ভবত এখনও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সন্দিহান: এ রকম একটি ‘মুক্তাঙ্গণে' তারা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অভাব বোধ করে৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞরা তাদের বোঝান যে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে তাদের পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে আলোচনা হবেই, তা তারা সেটা চান আর না-ই চান৷ কাজেই ফিডব্যাকের জন্য গ্রাহকদের একটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ৷

‘ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড'

সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সুপ্ত ক্ষমতা আজ প্রকট: যেমন ‘কাইটওয়ার্ল্ডওয়াইড' সংস্থাটি৷ হামবুর্গের দু'জন অ্যামেচার কাইটসার্ফার ইন্টারনেটের মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে জার্মান ভাষাভাষী এলাকার বৃহত্তম কাইটসার্ফিং প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন৷ তাদের এই সাফল্যের পিছনে ফেসবুকের অবদানের কথা কাইটওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর প্রতিষ্ঠাতারা অকপটে স্বীকার করেন৷ আজও তাদের বিজ্ঞাপনের খরচের তিন-চতুর্থাংশ ব্যয় হয় ফেসবুকের উপর৷

ট্র্যাভেল এজেন্টরা উধাও হননি

ফেসবুক ইত্যাদিতে ঘোরাফেরা এবং দেখাশোনা করেন অনেকেই, কিন্তু তা বলে সকলেই যে সেখানেই বুকিংও করে ফেলেন, এমন নয়৷ বুকিং-এর জন্য এখনও অর্ধেক মানুষ যান সেই ট্র্যাভেল এজেন্টের কাছে৷ তবে কোথাও বেড়াতে যাবার প্রেরণা অথবা পরামর্শটা বহুক্ষেত্রেই আসে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে৷ অনেকের কাছেই বন্ধু-বান্ধবদের – ফেসবুকে প্রকাশিত – মতামতটা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য৷ কাজেই তারা অনলাইন অফারটাকে ফেসবুক বন্ধুদের পরামর্শের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চান৷

ফেসবুকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই যে, তা অশরীরি: তার কল্যাণে অস্ট্রেলিয়ায় বসে জার্মানিতে বুকিং বদলানো চলে৷ পর্যটন সংস্থাগুলিও বলছে, তারা তাদের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে৷ অর্থাৎ ফেসবুক হলো দ্রুত এবং অবাধ যোগাযোগের একটি সহজ পন্থা৷ কিন্তু বিশেষ তথ্য ও পরিষেবা দেবার দায়িত্ব পূর্বাপর ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলির৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়