1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সোফায় বসে পাহাড়ে চড়া

লোকজন এককালে ন্যাভিগেটর ছাড়া যে কি করে গাড়ি চালাতেন, তারাই জানেন! আজকাল তো পর্বতারোহীরা পাহাড়ে চড়ার আগে পাহাড়ের ‘স্ট্রিট ভিউ' দেখে নেন ইন্টারনেটে৷

না, গুগুল নয়, এর পিছনে রয়েছেন এক সুইস অ্যাল্পিনিস্ট, যিনি ক্যামেরা কাঁধে আইগার নর্থ ফেসে ওঠেন – যাতে আমরা সোফায় বসেই পর্বতারোহী হতে পারি৷ স্টেফান সিগরিস্ট পাহাড়ের চুড়োয় উঠছেন এবং কোনো বাড়তি কষ্ট না করেই তিনি দারুণ সব ভিডিও ছবি সংগ্রহ করছেন৷ সুইজারল্যান্ডের নাগরিক সিগরিস্ট-এর পিঠের ব্যাগে যে ক্যামেরার সরঞ্জাম রয়েছে, তা তাঁর পাহাড়ে চড়াকে ভিডিও ছবিতে ধরে রাখছে৷ প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে এই সব ফটো ও ফিল্ম দেখতে পাওয়া যাবে৷ আল্পস পর্বতমালার সমস্যাকর পর্বতারোহণের মূল অংশগুলি একটি ক্লিকেই দেখতে পাওয়া যাবে৷ ছবিগুলো থেকে বাস্তবিক পর্বতারোহণের রোমাঞ্চ অনুভব করা যাবে৷ স্টেফান সিগরিস্ট বলেন:

Symbolbild Google Street View

গুগল-এর ‘স্ট্রিট ভিউ’

‘‘আমরা কীভাবে পাহাড়ে চড়ি, তা দেখা যাচ্ছে৷ পরিশ্রম করতে হয়; বরফের অনুভূতি; জুতোর তলার ক্র্যাম্পন বা কাঁটাগুলোর আওয়াজ; অন্যান্য সতীর্থদের জন্যে চিন্তা-ভাবনা৷ এটা সত্যিই আশ্চর্য যে, আমার নিজেরই মনে হয়, আমি যেন এই মুহূর্তে পাহাড়ে চড়ছি, আমি ওপরদিকে তাকাতে পারি, নীচের দিকে তাকাতে পারি৷ পুরো দৃশ্যটা দেখায়, ঠিক যখন আমরা পাহাড়ে চড়ছিলাম, তখনকার মতো৷''

সুইজারল্যান্ডের ‘‘মামুট'' কোম্পানি এই ৩৬০ ডিগ্রি ঘিরে ছবি তোলার টেকনিক আবিষ্কার করেছে৷ আসলে ছ'টি ছোট ক্যামেরা সব দিকের ছবি তুলছে৷ ‘মামুট'-এর মার্কেটিং ম্যানেজার ক্রিস্টিয়ান গিজি বলেন: ‘‘প্রকল্পটির বুনিয়াদি ধারণা হলো পাহাড়গুলোর এক ধরনের ‘গুগল স্ট্রিট ভিউ' তৈরি করা – এবং শুধু ট্রেকিং রুটগুলোর জন্যই নয়, বরং সত্যিই খাড়া পাহাড়ে চড়ার অ্যাল্পাইন রুটগুলোর জন্যও বটে৷ মানুষজন আরাম করে তাদের সোফা থেকেই বিনা বিপদে আইগার নর্থ ফেসে চড়ার মজা উপভোগ করতে পারবেন৷''

আইগার পর্বতের উত্তরদিকের খাড়াইটা বিশ্বের কঠিনতম পাহাড়ে চড়ার পথগুলোর মধ্যে পড়ে৷ ৬০ জনের বেশি মানুষ এই আইগার নর্থ ওয়ালে চড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন৷ স্টেফান সিগরিস্ট পেশাদার পর্বতারোহী৷ তিনি জানালেন: ‘‘গোটা প্রাকারটা পার হয়ে চার হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছাতে খাড়া চার কিলোমিটার পাহাড়ে চড়তে হয়৷ পাথরের নানা সমস্যা আছে, বরফের সমস্যা, বেশ ভালোমতো উচ্চতায় সেই সব সমস্যার সমাধান করতে হয়৷''

অভিজ্ঞ অ্যাল্পস পর্বতারোহী, যাদের অ্যাল্পিনিস্ট বলা হয়, তারাও যখন প্রথমবার আইগার নর্থ ফেসে চড়েন, তখন প্রথমে পথটা ইন্টারনেটে দেখে নিতে পারেন – তাতে তাঁদের সুবিধাই হয়৷ আসল কথা, স্টেফান সিগরিস্ট-এর কল্যাণে আমরা সকলেই আজ পাহাড়ে না চড়েই পর্বতারোহী হতে পারি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক