1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সেরা জার্মান নাবিক

সেলিং একটা অদ্ভুত হবি, কিছুটা বড়লোকদের হবিও বটে৷ তবে ট্রিমারান নিয়ে সমুদ্রপথে সারা বিশ্ব পরিক্রমার স্বপ্ন যাঁরা দেখেন, তাঁরা খুব উচ্চস্তরের স্পোর্টসম্যান৷

জার্মানির কিল শহরের ইনেনফিয়র্ড জলধারার উপর দিয়ে প্রায় উড়ে যাচ্ছে এই ট্রিমারান বোটটি৷ বোটে রয়েছেন জার্মান সেলিং স্টার বরিস হেয়ারমান৷ এই প্রথম তিনি মড৭০ গোত্রীয় এই ইয়ট-টি চালাচ্ছেন৷ এই হাইটেক সেলিং ইয়টটির সর্বোচ্চ গতি হলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার৷ বরিস বলেন, ‘‘সাগরে ঢেউ থাকলে ব্যাপারটা ভয়ানক, কেন না বোটটা ক্রমেই আরো বেশি গতি নিয়ে ঢেউগুলোয় আছড়ে পড়ে, যার ফলে সারা বোটটা ঝাঁকা খায়৷ ট্রিমারানের বিশেষত্ব হলো যে এ ধরনের বোট উলটে যেতে পারে৷ তা হলেই খেল খতম৷ গতকাল জোর বাতাসে আমরা এতটা কাত হয়ে গিয়েছিলাম যে, দারুণ রোমাঞ্চ হচ্ছিল৷ স্বভাবতই বোটের টেকনিকাল খুঁটিনাটিগুলো জানতে হবে৷ এছাড়া দলের স্বভাবপ্রকৃতিও জানতে হবে৷''

টিমের দশজন সদস্য৷ সকলকেই ভালোভাবে চেনেন বরিস৷ মোনাকোর প্রিন্সেস ক্যারোলিন-এর পুত্র পিয়ের কাজিরাগির সঙ্গে তিনি একাধিক রেগাটায় অংশ নিয়েছেন৷ পিয়ের জানালেন, ‘‘আমরা বোটে ছাড়াও পরস্পরের সঙ্গে দেখা করেছি, ভালো বন্ধু হয়ে গেছি৷ বোটে যেমন, বাইরেও তেমন৷ আমার মতে, বরিস হলো ওর প্রজন্মের সেরা জার্মান সেলার৷ ও খুব ভালো ন্যাভিগেটর৷ এর মধ্যেই ওর বিপুল অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে৷ এক কথায়, ও একজন পূর্ণাঙ্গ সেলার৷''

কিল-এর সপ্তাহ

২০০৯ সালে বরিস হেয়ারমান পর্টিমাও গ্লোবাল ওশেন রেসে অংশগ্রহণ করেন দুই মাল্লার একটি বোট নিয়ে৷ সেই প্রথমবার বরিস সারা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন – এবং রেসেও জেতেন৷ দু'বছর পরে ব্রিটিশ সতীর্থ রায়ান ব্রেমায়ারকে নিয়ে বার্সেলোনা ওয়ার্ল্ড রেসে পঞ্চম স্থান৷ রেসটির চ্যালেঞ্জ হলো: ১০০ দিনে ননস্টপ সেল করে সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে হবে৷ সদ্য তিনি এই বোটটি নিয়ে ২১ দিনে স্যান ফ্রান্সিসকো থেকে শাংহাই গেছেন৷ সেখান থেকে আবার সোজা ‘কিলার ভখে' বা কিল-এর সপ্তাহ নামধারী এই বিশ্বখ্যাত রেগাটায়৷

প্রতি বছর এই রেগাটা দেখতে আসেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ৷ সেলিং স্পোর্টের ক্ষেত্রে এই রেগাটাকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেগাটা বলা চলে৷ এবার চার হাজার সেলর এখানে অংশ নিচ্ছেন – বরিস হেয়ারমানও রয়েছেন তাদের মধ্যে৷ বরিস বললেন, ‘‘নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, সকলের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা যায়৷ নানা ধরনের বোট দেখা যায়; বোটগুলো কেমন দেখতে, তার একটা ধারণা পাওয়া যায় – অন্যান্য বিভাগে পরিবেশ আর মনমেজাজ কেমন, সেটা বোঝা যায়৷''

‘ভঁদে গ্লোব'

এছাড়া এখানে নতুন পরিকল্পনা করা যায়৷ বরিসের একটি বিরাট স্বপ্ন হলো, ‘ভঁদে গ্লোব' প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা৷ একজন মাল্লার পালতোলা নৌকোয় বিশ্ব পরিক্রমা, যা কিনা বিশ্বের সবচেয়ে শক্ত রেগাটা বলে গণ্য৷ তবে প্রথমে তিনি পিয়ের কাজিরাগির সঙ্গে নর্থ-ওয়েস্ট প্যাসেজ ধরে উত্তরমেরু অতিক্রম করতে চান৷ পিয়ের জানালেন, ‘‘আমাদের এত পরিকল্পনা রয়েছে৷ আমরা যখনই কথা বলি, তখনই একটা নতুন আইডিয়া মাথায় আসে৷ এখন দেখতে হবে, কী করে সেগুলো কোঅর্ডিনেট করা যায়৷ এছাড়া আছে বরিসের ভঁদে গ্লোবের স্বপ্ন৷ আর আমি দেখতে চাই, আমি ওকে সেই প্রকল্পে কীভাবে সাহায্য করতে পারি৷''

পরের ভঁদে গ্লোব শুরু হবে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে, কাজেই বরিসের স্পন্সর খোঁজার জন্য এখনও কিছু সময় আছে৷ ততদিন পর্যন্ত বরিস আর তাঁর বন্ধু পিয়ের অন্য রেকর্ড ভাঙা কিংবা গড়ার প্রচেষ্টায় থাকবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক