1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সেনা প্রত্যাহার করতে পুটিনের প্রতি ওবামার আহ্বান

ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ থেকে রুশ সেনা সরিয়ে নিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷

default

পুটিনের সঙ্গে কথা বলছেন ওবামা

সপ্তাহখানেক আগে ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ক্রাইমিয়ায় সৈন্য পাঠান পুটিন৷ এর আগে তিনি ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাতে রুশ সংসদের উচ্চকক্ষের সমর্থন পান৷

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রাইমিয়ার সংসদ ভবন, বিমানবন্দর, টেলিভিশন কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ অফিস সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ছয় হাজার রুশ সেনা অবস্থান নিয়েছেন৷

ওবামা-পুটিন টেলিফোন আলাপ

শনিবার দিন শেষে এই দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা হয়৷

Russland Armee Ukraine Krim Kriegsschiffe

ক্রাইমিয়ার কাছে সামরিক জাহাজের উপস্থিতি

হোয়াইট হাউসের দেয়া এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে দুই নেতার মধ্যে কথাবার্তায় উত্তেজনার আভাষ পাওয়া গেছে৷ শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনার এমন পরিবেশ খুব একটা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা পুটিনকে বলেন, ইউক্রেনে সৈন্য পাঠিয়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে৷ এছাড়া ইউক্রেনীয়দের সার্বভৌমত্বের ওপর রাশিয়ার হস্তক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা৷ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা ইউক্রেনীয়দের রয়েছে বলে পুটিনকে মনে করিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিন ওবামাকে জানিয়েছেন, ক্রাইমিয়ায় থাকা রুশভাষী জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাশিয়ার৷ উল্লেখ্য, ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ক্রাইমিয়ার প্রায় সাড়ে ৫৮ শতাংশ মানুষ এথনিক রুশ এবং সেখানকার প্রায় ৭৭ শতাংশ জনগণ রুশ ভাষায় কথা বলে৷

ভিডিও দেখুন 02:09

এর জবাবে ওবামা পুটিনকে বলেন, এথনিক রুশদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও ‘অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ' বা ওএসসিই-এর মাধ্যমে ক্রাইমিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো যেতে পারে৷ আর রাশিয়া যেহেতু এই দুই সংস্থারই সদস্য, তাই রাশিয়াও এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে৷

তবে এই দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তিত হবে বলে মনে হচ্ছে না৷ বরং এই আলাপ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, তাতে অভিযান আরও বাড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘ইন্টারেস্টস' রক্ষার অধিকার পুটিনের রয়েছে৷

পুটিনের সাথে কথা বলা ছাড়াও ওবামা ফ্রান্স ও ক্যানাডার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইউরোপ ও ক্যানাডার অন্তত ছয়জন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে শনিবার কথা বলেন৷

Ukraine Russland Krise Konflikt Krim 1.3.14

ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাতে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ

এদিকে আগামী সপ্তাহে ইটালির রোমে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জন কেরির সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে৷

যুক্তরাষ্ট্র যা করতে পারে

রাশিয়াকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে ওবামা ইতিমধ্যে পুটিনকে জানিয়েছেন যে, আগামী জুন মাসে রাশিয়ার সোচিতে জি-৮ এর যে শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা, তার প্রস্তুতিমূলক বৈঠক বয়কট করবে যুক্তরাষ্ট্র৷ এর বাইরে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়াতে রাশিয়ার যে আগ্রহ, সেটা বন্ধ করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র৷ তাছাড়া ন্যাটোর মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সহযোগী রয়েছে তাদের প্রতি এক ধরণের সামরিক সমর্থন দেখাতে পারে৷

অর্থাৎ, রাশিয়ার সঙ্গে শীতল-যুদ্ধকালীন সময়ের কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাইবে না যুক্তরাষ্ট্র৷

কেননা সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস ও ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা সহ পররাষ্ট্রনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে৷

ইউক্রেনের প্রস্তুতি

দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ওলেক্সান্দর তুরচিনভ তাঁর দেশের সেনাবাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ যুদ্ধ সতর্কাবস্থা'-য় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন৷ অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াৎসেনইউক বলেছেন, রাশিয়া যদি সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে সেটা হবে যুদ্ধের শুরু আর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্কের সমাপ্তি৷ এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যাটোর সহযোগিতা কামনা করেছেন৷ এর জবাবে ন্যাটোর মহাসচিব আন্ডার্স ফগ রাসমুসেন শনিবার এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার এক জরুরি বৈঠকে বসবে ন্যাটো৷

জার্মানির অবস্থান

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ক্রাইমিয়ার ঘটনা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন৷ এছাড়া তিনি ইউক্রেনের ‘টেরিটোরিয়াল ইন্টেগ্রিটি রক্ষার' উপর গুরুত্ব আরোপ করেন৷ শনিবার তিনি ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াৎসেনইউকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন৷ তবে তাঁদের মধ্যে কি নিয়ে কথা হয়েছে সেটা জানা যায়নি৷ ওদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক ভাল্টার স্টাইনমায়ার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি রাশিয়ার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়