1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

সেনাপ্রধানের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা

ভারতের সেনাপ্রধান পদে জেনারেল বিপিন রাওয়াতের নিয়োগ আদৌ নিরপেক্ষ ছিল কিনা, তা নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন সংঘাত৷ দু'জন সিনিয়ারকে ডিঙিয়ে রাওয়াত কার্যভার গ্রহণ করবেন আগামী ৩১শে ডিসেম্বর৷

বিপিন রাওয়াতে

জেনারেল বিপিন রাওয়াতে

নোট বাতিল কাণ্ডকে ঘিরে মোদী সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের ঠেলায় সংসদের পুরো শীতকালীন অধিবেশন পণ্ড হবার জের৷ আর সেই জের কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেনাপতি হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিপিন রাওয়াতের নিয়োগ নিয়ে মোদী সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পালা৷ বিপিন রাওয়াত বর্তমান প্রধান দলবীর সিং সুহাগ-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন৷ কংগ্রেস, বামদল এবং সমাজবাদী পার্টিসহ রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, দু'জন সিনিয়ার সেনা অফিসারকে ডিঙিয়ে কী করে তাঁদের থেকে অপেক্ষাকৃত একজন জুনিয়ার জেনারেলকে সেনাপ্রধান করা হলো?

কংগ্রেসের তরফে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয়, নতুন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের যোগ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন না তুলেও সরকারকে জিজ্ঞাসা করা যায় যে, তাঁর ঊর্ধতন দু'জন জেনারেল কি তাহলে অযোগ্য? তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারের কি কোনো অভিযোগ আছে? তাঁদের পেশাদারিত্ব নিয়ে সরকারের মনে কি কোনো সংশয় আছে? এই ধরনের বেছে বেছে ‘চেরিফল' তোলা কতটা ন্যায়সংগত? কংগ্রেস নেতা মনিশ তেওয়ারির কথায়, ‘‘এটা কি পক্ষপাতিত্ব, নাকি মোদী সরকারের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার?'' তাই তাঁর মতে, সরকারের উচিত বিষয়টি খোলসা করা৷ সেনাবাহিনীর মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ সম্পর্কে দেশ জানতে চায়৷

কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ডি. রাজা বলেন, ‘‘শুধু সেনা বাহিনীতেই নয়, অন্যসব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ পদে মোদী সরকারের নিয়োগকে ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে৷ যেমন এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই-এর প্রধান, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বর্হিবিভাগীয় গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের প্রধান – সব জায়গাতেই মোদী অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷'' এমনটাই অভিযোগ সিপিআই দলের৷ একইভাবে সমাজবাদী পার্টির বক্তব্য, শীর্ষপদে নিজের পছন্দমত লোক বসিয়ে গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে নিজের হাতে রাখতে চাইছে মোদী সরকার৷ এ সব নিয়োগের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরিও৷

অন্যদিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগে বিজেপি মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাখবি বলেন, ‘‘সেনাপ্রধান নিয়োগের জন্য সরকারকে কি সোনিয়া গান্ধীর অনুমতি নিতে হবে?'' তাঁর কথায়, ‘‘‘প্রথমত, সরকার যেটা করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ম-নীতি মেনেই করেছে৷ দ্বিতীয়ত, বর্তমান পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জেনারেল রাওয়াতকেই সরকারের কাছে সবথেকে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে৷ জেনারেল রাওয়াতের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চীন সীমান্তে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে জঙ্গি তত্পরতা ও পশ্চিম সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সন্ত্রাস মোকাবিলায় দশ বছরের বিশেষ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দু'টোই আছে৷ দু'দেশের রণকৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এমন একজনকেই প্রয়োজন ছিল৷ তাছাড়া ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে এই ধরনের নিয়োগ তো এই প্রথম নয়৷ কংগ্রেসের কি মনে নেই, ১৯৮৩ সালে কংগ্রেস জমানাতেই ইন্দিরা গান্ধী সিনিয়ার জেনারেল এস. কে সিনহাকে টপকে সেনাপ্রধানের পদে বসিয়েছিলেন এ. এস বৈদ্যকে?''

উল্লেখ্য, ৮০-র দশকে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শায়েস্তা করতে অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযান চালানো হয়েছিল ঐ জেনারেল বৈদ্যের নেতৃত্বে৷ অবশ্য তার জন্য চরম মূল্য চুকাতে হয় ইন্দিরা গান্ধীকে, নিজের শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে৷ বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে বলেন, সেনাপ্রধানের নিয়োগ নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, তাঁরা আসলে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে অবিবেচকের মতো কথা বলছেন৷ কারণ সব দিক বিবেচনা করেই বিপিন রাওয়াতকে সেনাপ্রধান করা হয়েছে৷

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সেনাবাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতিষ্ঠানে৷ সেখানে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা না থাকাটাই স্রেয়৷ এক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম-নীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত৷ তবে হ্যাঁ, ব্যতিক্রমও হতে পারে৷ সিনিয়রিটির সঙ্গে দেখা দরকার নেতৃত্বদানের যোগ্যতার বিষয়টিও৷ সেটা করা হয়ে থাকলে বিভিন্ন মহলে এত সমালোচনা করার সুযোগ থাকতো না৷ আসলে উচ্চপদে নিয়োগে একটা স্বচ্ছতা থাকা জরুরি৷ কিন্তু মোদী সরকারে কেমন যেন একটা ঢাক ঢাক গুড় গুড় ভাব৷ প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনটি শাখা – সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে সর্বোচ্চ পদে কাকে নিয়োগ করা হবে, দু'মাস আগেই তা ঘোষণা কার রীতি৷ কিন্তু এক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে সেনা ও বিমান বাহিনীর প্রধানের নাম ঘোষিত হয়৷ বিমান বাহিনীর প্রধান হবেন বি. এস ধানোয়া৷

শীর্ষপদে নিজের পছন্দমত লোক বসিয়ে গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে নিজের হাতে রাখতে চাইছে মোদী সরকার৷ এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়