1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সুষম সার ব্যবহারে ২৫ ভাগ ফলন বাড়ে

‘‘আমরা যদি সুষম সার বা ব্যালেন্স সার ব্যবহার করি, তাহলে ধানের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বাড়ে৷ আর অন্য ফসলের ক্ষেত্রে ফলন বাড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ৷'' জানান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা নাজমুল হাসান৷

মাটিতে সারের ব্যবহার নিয়েই মূলত গবেষণা তাঁর৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে জমিতে সারের ব্যবহার নিয়ে আলাপকালে সংগঠনটির প্রধান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরো জানান, ‘‘সুষম সার ব্যবহার না করলে কৃষকের যেমন খরচ বাড়লো, তেমনই তিনি পেলেন কম ফসল এবং ফসলের মানও সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারলেন না৷'' নাজমুল হাসানের মতে, ‘‘বর্তমানে দেশে দেড় কোটি কৃষক পরিবার রয়েছে৷ তাঁদের কাছে পৌঁছানো যে সহজ কাজ না, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে৷ তবে এখন আইটির ব্যবহার বাড়ছে, আমরা আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যেই আমরা কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাব৷''

ডয়চে ভেলে: আমাদের দেশে সারের ব্যবহার এখন বেশ বেড়েছে৷ আগে অনেক কম ছিল৷ এই সার ব্যবহারের প্রতিক্রিয়াটা এখন কী?

অডিও শুনুন 10:31

‘‘মাটির চাহিদা অনুযায়ী যে সার যতটা দরকার, ঠিক ততটাই ব্যবহার করতে হবে’’

নাজমুল হাসান: আগে মূলত ইউরিয়া ব্যবহার করা হতো৷ এছাড়া নাইট্রোজেনের সারের ব্যবহারও বেশি ছিল৷ কিন্তু ইদানীং সারের ব্যবহারটা অনেক ব্যালান্স হয়ে আসছে৷ সরকার ফসফরাস ও পটাসিয়াম সারের উপর ভর্তুকি দেয়ার কারণে আগে যেখানে শুধু ইউরিয়া ব্যবহার হতো, এখন সেখানে অনেকটা ব্যালান্স সার ব্যবহৃত হচ্ছে৷ এটা একটা খুব ভালো দিক৷

অতিরিক্ত সার ব্যবহারে ক্ষতির দিকটা কী?

অতিরিক্ত না বলে অসম বললেই ভালো হয়৷ আমি যদি অসম সার ব্যবহার করি, তাহলে ইউরিয়া বা নাইট্রোজেনের দরকার নেই৷ তারপরও এগুলো ব্যবহার হয়৷ কৃষকরা মনে করেন, ইউরিয়া দিলে গাছটা সবুজ হয়ে আসে, তাঁর মন ভরে যায়৷ তাঁরা মনে করেম, এটাই মনে হয় ভালো৷ এতে করে তাঁর উৎপাদন খরচটা বেড়ে যায়৷ সুষম সার না দেয়ার কারণে তাঁর উৎপাদন যতটা হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয় না৷ আমরা যদি সুষম সার বা ব্যালেন্স সার ব্যবহার করি তাহলে ধান ফসলে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বাড়তে পারে৷ ধানের বাইরে অন্য ফসলের ফলন বাড়া ১৫ থেকে ২০ শতাংশ৷ সুষম সার ব্যবহার না করলে কৃষকের যেমন খরচ বাড়লো, তেমনই তিনি কম ফসল পেলেন এবং ফসলের মানও সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারলেন না৷ অন্যদিকে বেশি সার ব্যবহার করলে, যেটুকু দরকার সেটার পর অন্য অংশটুকু নীচের দিকে চলে যায়৷ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পাশ্ববর্তী খালে চলে যায়৷ এতে করে নদীতে বা খালে আগাছার পরিমাণ বেড়ে যায়৷ যেমন ধরুন, আমাদের যশোর অঞ্চলে সেখানে সবজি আছে, সেখানে দেখবেন তার পাশ্ববর্তী খালে অনেক বেশি আগাছা রয়েছে৷

ইনব্যালেন্স সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতার কি কোনো ক্ষতি হতে পারে?

আসলে গাছের নীচে শেকড়৷ শেকড়ের মাধ্যমে সে তার পুষ্টি নেয়৷ এখন সেখানে সার যদি ইনব্যালেন্স হয়, তাহলে একটার উপস্থিতি বেশি থাকলে অন্যটা সে গ্রহণ করতে পারে কম৷ আমরা যে সুষম সার ব্যবহারের কথা বলি, সেটা মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে৷ এখানে কিন্তু এক-একটা মাটির চাহিদা আলাদা৷ মাটির চাহিদা অনুযায়ী যে সার যতটা দরকার, ঠিক ততটাই ব্যবহার করতে হবে৷

কৃষকরা এই ভুলটা কেন করছেন? সার কম দিলে তো কৃষকের খরচ কমবে৷ তাহলে বেশি সার কৃষক দিচ্ছেন কেন?

কৃষকরা সাধারণত বেশি দেন ইউরিয়া সার৷ এই ইউরিয়া ছিটানোর পর গাছটা গাড়ো সবুজ হয়ে যায়৷ তখন কৃষকরা মনে করেন তিনি হয়ত সঠিক পথে আছেন৷ এই কারণে ইউরিয়ার প্রতি তাঁর একটা বিশেষ ভালোবাসা আছে৷ এ মুহূর্তে আমাদের এক্সটেনশন ডিপার্টমেন্ট, কিছু এনজিও, সবাই এটা নিয়ে কাজ করছে৷ কৃষকরা আসলে আগ্রহী হয়ে উঠছেন ব্যালেন্স সার ব্যবহারের জন্য৷ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অনেকগুলো প্রদর্শনী খামার করছে, যেটা দেখে আসলে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হবেন৷

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো গাফিলতি এখানে আছে কি? যার ফলে তারা কৃষকদের সঠিকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারছেন না?

আমার সেরকম কিছু মনে হয়নি৷ তাঁরা তাঁদের মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছেন৷ তবে দেড় কোটি কৃষক পরিবারের কাছে পৌঁছানোটা সহজ কোনো কাজ না, যা বিবেচনায় রাখতে হবে৷ তবে এখন আইটির ব্যবহার বাড়ছে৷ আমরা আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যেই আমরা কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাব৷ আমার জানা মতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর একটা প্রজেক্ট নিয়েছে শুধু সুষম সার ব্যবহারের ওপর৷ আসলে আমরা তো বাণিজ্যিকরণে যাচ্ছি৷ ফলে আমাদের মাটি পরীক্ষা করেই সার ব্যবহার করতে হবে৷ এর কোনো বিকল্প নেই৷ আমাদের জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে৷ সেটা নিয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকার কাজ শুরু করেছে৷

ইনব্যালেন্স সার ব্যবহারে ফসল কি কম হতে পারে?

ইনব্যালেন্স সার ব্যবহার করলে ফসল কম হতে পারে৷ তবে আগেই যেমনটা বললাম, ব্যালেন্স সার ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ফসল বাড়ানো সম্ভব৷

দেড় কোটি কৃষক পরিবার৷ এর মধ্যে কত পরিবারের কাছে আপনারা পৌঁছাতে পেরেছেন, যাঁরা সুষম সার ব্যবহার করছেন?

এটা আসলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে৷ তবে আমরা যখন মাঠে-ময়দানে যাই, তখন দেখি কৃষকরা আগের থেকে অনেক বেশি আগ্রহী ব্যালেন্স সার ব্যবহারের জন্য৷ আমাদের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে আমাদের ১০টা ভ্রাম্যমান মৃত্তিকা গবেষণাগার মাঠে কাজ করে৷ দু'টো সিজনে ১১০টা উপজেলায় আমাদের এই গাড়িগুলো যায়৷ তারা সরেজমিন মাটি পরীক্ষা করে সারের সুপারিশটা দিয়ে আসে৷ এ কাজটা আমরা করছি এটাকে জনপ্রিয় করার জন্য৷ একটা উপজেলায় ৫০ জন কৃষককে সেবা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আমরা যাই৷ আগে যেখানে ২০/৩০ জনও হতো না৷ কিন্তু এখন সেখানে ১২৫ জনও আসছেন৷ আসলে তাঁরা দেখেছেন যে আমরা যে কাজ করছি, তাতে তারা উপকৃত হচ্ছেন৷ সে কারণেই আগ্রহটা বাড়ছে৷

আপনাদের সুপারিশ কৃষকরা কি তাহলে শুনছেন?

একটা জিনিস বলতে পারি৷ কৃষক যদি একবার ব্যবহার করে দেখেন তিনি উপকার পাচ্ছেন, তাহলে আবার আসবেন৷ আর যদি কাজ না হয়, তাহলে তিনি আর আসবেন না৷ সীমিত আকারে আমরা কিছু প্রদর্শনী করেছি, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও করেছে৷ একটা কথা হলো – দেখলে মানুষ বিশ্বাস করে৷ কৃষকরা যখন দেখেন একটা জমিতে সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফলন বেড়েছে, তখন আশেপাশের কৃষকরা গভীর আগ্রহ নিয়ে বিষয়টা জানতে আসেন৷ প্রশ্ন করেন, ঐ কৃষকের এত ভালো ফলন হলো কীভাবে? আমাদের কম হলো কেন? তখন ওনারা ঘটনাটা জানেন এবং সুষম সার ব্যবহারে আগ্রহী হন৷

ভিডিও দেখুন 03:22

ছাদের উপর ধান চাষ

সারের ক্ষতিকর দিকগুলো কী কী?

ক্রমাগত যদি ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়, তাহলে মাটির অ্যাসিডিটি বাড়বে৷ এতে জমির পুষ্টি নষ্ট হয়৷ এছাড়া সারে ভর্তুকি দেয়ার কারণে একটা ‘পজেটিভ ইমপ্যাক্ট' তৈরি করে৷ তখন অনেকেই বেশি বেশি করে সার দেন৷ এটা কৃষিজমির ক্ষতি করে৷

তাহলে কৃষকদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী, বিশেষ করে সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে?

কৃষকদের আমি বলবো, আপনার মাটির উর্বরতা অনুসারে এবং ফসল বুঝে সুষম সার ব্যবহার করুন৷ সাধারণভাবে আমরা বলি, যে ফসলটা বেশি ফলন দেবে তার চাহিদাটা বেশি আর যে কম ফলন দেবে তার চাহিদাটা কম৷ বিআর ২৮ ও ২৯ - এই দু'টি ধানের মধ্যে ফলনের ব্যবধান প্রায় এক টন৷ ফলে বিআর ২৯-এর যে চাহিদা, তার থেকে ২৮-এর চাহিদা কম৷ ফলে প্রত্যেকটা ফসলের যে চাহিদা এবং মাটি থেকে সে কতটা সংগ্রহ করতে পারবে, সেটা বুঝেই যেন একজন কৃষক সার ব্যবহার করেন৷ প্রত্যেকটা উপজেলার জন্য আমরা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে নির্দেশিকা তৈরি করে দিয়েছি৷ আমাদের কৃষি অফিসে এটা আছে৷ তাই বলবো, সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী সার ব্যবহার করুন৷ আপনারা ভালো ফল পাবেন, ইনশাল্লাহ!

বন্ধু, নাজমুল হাসানের সাক্ষাৎকারটি আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও