1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

সুশান্ত পালের ‘শাস্তি’ এবং ৫৭ ধারা নিয়ে বিতর্ক

কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালকে বদলি করে তাঁর ‘মানসিক চিকিৎসার’ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ‘‌‌‌‌‌‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর' তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷

সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক পাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি পোস্ট দেন কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পাল৷ গল্পের মতো করে লেখা পোস্টটিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং' দিতে গিয়ে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বলে উল্লেখ করেন৷

তাঁর ওই পোস্টের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হলে সুশান্ত ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি সরিয়ে নেন৷ কিন্তু প্রতিবাদ তাতে থামেনি৷ গত রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মিছিল করে প্রক্টরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন৷ বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলাও হয় সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব, ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে সুশান্ত পাল দেশের শীর্ষ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট' তথ্য প্রচার করেছেন

মামলার কয়েক ঘণ্টা পরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়৷

এক বিভাগীয় আদেশে জানানো হয়, সুশান্তকে খুলনা থেকে রংপুরে ‘স্ট‌্যান্ড রিলিজ' করা হয়েছে৷ আরো জানানো হয়, ‘‘বদলি ও পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো৷''

সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় অনেকেই ভীষণ খুশি৷ ফেসবুকে সাংবাদিক প্রভাষ আমিন লিখেছেন, ‘‘সুশান্ত পাল যে একটা বদ্ধ উন্মাদ, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড৷ শুধু ওএসডি করা নয়, মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ আবার প্রমাণিত হলো, বিসিএস জীবনের শেষ কথা নয়৷ আর বদ্ধ উন্মাদরাও কখনো কখনো বিসিএস-এ প্রথম হয়৷ প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, এই উন্মাদের পেছনে আর সময় নষ্ট করার মানে নেই৷''

রাসয়াত রহমান জিকো লিখেছেন,‘‘সুশান্ত পাল ঘটনা অনেক কিছু শিক্ষা দেয়৷ বিনয়ী হও, মানুষকে সম্মান দাও৷ তুমি যত বড় তালগাছই হও তোমার থেকে বড় গাছ সবসময়েই থাকবে৷ তোমার বিরুদ্ধে কারো কোনো ক্ষোভ থাকলে সেই ক্ষোভ বাড়তে দিও না, তাকে মর্যাদা দিয়ে, স্থান দিয়ে সেটা প্রশমিত কর৷ এই দেশ জোয়ার ভাটার দেশ, পাবলিক সেন্টিমেন্ট তোমার থেকে সরতে এক বেলাই যথেষ্ট৷ ভালো মানুষ হও৷ ভালো কিছু চর্চা কর৷ আর মেয়েদের এত অবজ্ঞা কইরো না৷''

তবে সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন৷

২০০৬ সালে প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই ধারার সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই অনেকে সোচ্চার৷ এই ধারাটিকে ‘বাকস্বাধীনতা হরণকারী' হিসেবে উল্লেখ করে এটি বাতিলের দাবিও উঠছে অনেক দিন ধরে৷

এমন একটি আইনে মামলা করায় ফেসবুকে কুলদা রায় লিখেছেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডাকাতদের গ্রাম বলেছিলেন বিশিষ্ট জামায়াতি কবি আল মাহমুদ৷ তখন এটা নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছিল৷ কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেনি৷ মামলা করার দরকার পড়ে না৷ কারণ আল মাহমুদ তাঁর অভিমত জানিয়েছেন৷ সে অধিকার তাঁর আছে৷ তাঁর অভিমতের বিপরীতে ভিন্ন মত দিয়ে তাঁর মতটি খণ্ডন করা যায়৷ আল মাহমুদ বা যে কেউ বললেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকাতদের গ্রামে পরিণত হয় না৷ কে একজন সুশান্ত পাল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কাম বিসিএসধারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-ইজ্জত খোয়া গেল, সেই মান-ইজ্জত পুনরুদ্ধার করার জন্য আইসিটি ৫৭ নামে একটি কালো আইনের আওতার মামলা দায়ের করতে হবে--ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগছে!''

কুলদা রায়ের মতে, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের যদি কোনো ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা না থাকে, তবে এলেবেলে প্রতিষ্ঠান বা লোকের কাছ থেকে বাক-স্বাধীনতা, পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা আশা করি কেমনে? বাক স্বাধীনতা ও পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা ছাড়া সভ্য হওয়া যায় না৷''

অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷

কাজী মামুন লিখেছেন, ‘‘না পড়ে কোনো মন্তব্য করাই উচিত হয়নি আপনার৷ কোন ধারা ব্যবহার করেছে এটা মুখ্য না, আপনার বক্তব্য একজন যৌন নিপীড়কের পক্ষে যাচ্ছে, এটাই মুখ্য৷''

কুলদা রায় অবশ্য সুশান্ত পালের প্রতি তাঁর কোনো সহানুভূতি নেই জানিয়ে দাবি করেছেন তিনি বাক স্বাধীনতার পক্ষে এবং ৫৭ ধারার প্রয়োগের বিপক্ষে৷

তবে ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কুলদা রায় যে গোড়াতেই একটা ভুল করেছেন সেটা ধরিয়ে দিয়েছেন এনায়েত উল্লাহ৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন মামলা করেনি৷''

সহকারী কমিশনার সুশান্ত ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন৷ শুল্ক বিভাগে যোগ দেয়ার পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সক্রিয় ছিলেন৷ সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তাও ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ফেইসবুকে তার ‘ফলোয়ার' পায় দুই লাখ ৪০ হাজার৷

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন